📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নিজের নাকে খত

📄 নিজের নাকে খত


১৫. আবুল হাকাম সায়্যার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ মিম্বরে বসে বললেন, হে লোকসকল! তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ আত্মার নাকে খত লাগাও। এগুলোর লাগাম নিজের হাতে নিয়ে পাপ থেকে সরিয়ে এনে ইবাদতে যুক্ত করে দাও।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 উমর রাযি.-এর চিঠি

📄 উমর রাযি.-এর চিঠি


১৬. জাফর ইবনে বুরকান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. তাঁর একজন গভর্নরের কাছে চিঠি লিখলেন। চিঠির শেষে তিনি উল্লেখ করলেন, 'বিপদে পতিত হওয়ার আগেই তুমি সুখে থাকতে থাকতে নিজের নফসের হিসাব নাও। কেননা যে ব্যক্তি বিপদে পতিত হওয়ার আগেই স্বাভাবিক অবস্থায় নিজের নফসের হিসাব নেয়, সে ঈর্ষণীয় স্থানে উপনীত হয়। আর যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে খেল-তামাশায় কাটিয়ে দেয়, অসতর্ক ও গাফেল থাকে, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে নিজের জীবনকে পরিচালিত করে, পরিণামে সে ভীষণ লজ্জিত হয়। তাই তুমি উপদেশদাতার উপদেশ গ্রহণ করো। নিষেধ করলে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকো। আর উপদেশের সময় তুমি হও সবচেয়ে সমঝদার ও অনুধাবনকারী ব্যক্তি। কেননা উপদেশের বাণীর প্রতি শ্রোতার চেয়ে বক্তার নিজে অধিক মুখাপেক্ষী হওয়া উচিত।'

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 হিসাবের খাতা আগেই ঠিক করে রাখা

📄 হিসাবের খাতা আগেই ঠিক করে রাখা


১৭. হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুমিন ব্যক্তি মাত্রই নিজের নফসের ওপর কর্তৃত্ব গ্রহণকারী, সে নিজে নফসের হিসাব গ্রহণ করে আল্লাহ তাআলার কাছে হিসাব দেয়ার আগেই। আর কেয়ামত দিবসে কেবল সেই সব লোকের হিসাব সহজ হবে, যারা দুনিয়ায় নিজেদের নফসের হিসাব গ্রহণ করত। আর সবচেয়ে কঠিন হিসাব হবে সেই সব লোকের, যারা নিজেদের নফসকে স্বাধীন অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে রেখেছিল।
মুমিন ব্যক্তি দুনিয়ায় বন্দি ব্যক্তিদের মতো। তাই সে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য সদা সচেষ্ট। সে নিজেকে কখনই নিরাপদ ভাবতে পারে না। বরং প্রতিনিয়ত সে চিন্তা করে যে, আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার পর তার চোখ, কান, জবান এমনকি দেহের প্রতিটি অঙ্গ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং সেই জিজ্ঞাসার সঠিক জবাব দেয়ার আগ পর্যন্ত সে নিজেকে কখনই নিরাপদ ভাবতে পারে না।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 ইউসুফ আলাইহিস সালামকে জিবরিল আলাইহিস সালামের সতর্কীকরণ

📄 ইউসুফ আলাইহিস সালামকে জিবরিল আলাইহিস সালামের সতর্কীকরণ


১৮. আবু সালেহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইউসুফ আলাইহিস সালামকে জেলখানা থেকে মুক্তি লাভের সুসংবাদ দেয়া হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করলেন না। বরং যেসব নারী তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলেন তিনি তাদের সকলকে আগে সমবেত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করার আবেদন জানালেন। সে অনুযায়ী জুলায়খা ও তার সঙ্গে যেসব নারী ইউসুফ আলাইহিস সালামকে খারাপ কাজে প্ররোচিত করেছিল, তাদেরকে সমবেত করা হলো। তখন তারা তাদের দোষ স্বীকার করল এবং ইউসুফ আলাইহিস সালাম যে নির্দোষ, তাও অকপটে স্বীকার করে নিল। এটা প্রমাণিত হওয়ার পর ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন:
ذَلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّي لَمْ أَخُنْهُ بِالْغَيْبِ.
'এটি (নির্দেশ প্রমাণ করার এই ব্যবস্থা) এ জন্য যে, যাতে সে জানতে পারে, আমি তার অনুপস্থিতিতে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি।'
বস্তুত এ কথাটি বলে তিনি নিজের নির্দোষ হওয়ার দাবি করলেন এবং তা প্রকাশ করতে থাকলেন। যদিও তার এই পদক্ষেপটি বৈধ কাজ ছিল এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার প্রয়োজনও ছিল, কিন্তু এতে যেন নিজের নফসের পরিশুদ্ধির বিষয়টিই প্রবল হিসেবে প্রকাশ না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য জিবরিল আলাইহিস সালাম তাঁকে সতর্ক করেছিলেন।

টিকাঃ
২৫. সুরা ইউসুফ: ৫২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00