📄 অতীতের মন্দ কাজ স্মরণ করে নফসকে তিরস্কার করা
১৩. সালামা ইবনে মানসুর রাহিমাহুল্লাহ আহনাফ ইবনে কায়স রাযি.-এর সাহচর্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আহনাফ রাযি.-এর ইবাদত-বন্দেগির অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, তাঁর অধিকাংশ নামাজে থাকত দুআর উপস্থিতি। আর তিনি প্রায়ই প্রজ্জ্বলিত বাতির আগুনে হাতে আঙুল রেখে বলতেন, হে নফস! আগুনের স্বাদ আস্বাদন করো। এরপর নিজেকে সম্বোধন করে বলতেন, হে আহনাফ! তুমি অমুক দিন এই কাজটি করেছিলে কেন? হে আহনাফ! অমুক দিন অমুক কাজটি করেছিলে কেন? এভাবে তিনি নিজেকে ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করতেন এবং আগুনের ওপর আঙুল ধরে রাখতেন।
📄 নফসের লাগাম নিজের হাতে নিন
১৪. সালাম ইবনে মিসকিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রাহিমাহুল্লাহ ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। ভাষণে তিনি বললেন, হে লোকসকল! তোমরা প্রত্যেকেই নিজের আত্মার সমালোচনা ও নিন্দা করা শেখো। আত্মার লাগাম নিজের হাতে ধরা শেখো। এবং লাগাম ধরে আত্মাকে আল্লাহর নাফরমানি থেকে বের করে এনে ইবাদতে লাগিয়ে দাও। এরূপ পদক্ষেপ ও সচেতনতা ছাড়া নিজেকে সংশোধন করা অসম্ভব।
📄 নিজের নাকে খত
১৫. আবুল হাকাম সায়্যার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ মিম্বরে বসে বললেন, হে লোকসকল! তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ আত্মার নাকে খত লাগাও। এগুলোর লাগাম নিজের হাতে নিয়ে পাপ থেকে সরিয়ে এনে ইবাদতে যুক্ত করে দাও।
📄 উমর রাযি.-এর চিঠি
১৬. জাফর ইবনে বুরকান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. তাঁর একজন গভর্নরের কাছে চিঠি লিখলেন। চিঠির শেষে তিনি উল্লেখ করলেন, 'বিপদে পতিত হওয়ার আগেই তুমি সুখে থাকতে থাকতে নিজের নফসের হিসাব নাও। কেননা যে ব্যক্তি বিপদে পতিত হওয়ার আগেই স্বাভাবিক অবস্থায় নিজের নফসের হিসাব নেয়, সে ঈর্ষণীয় স্থানে উপনীত হয়। আর যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে খেল-তামাশায় কাটিয়ে দেয়, অসতর্ক ও গাফেল থাকে, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে নিজের জীবনকে পরিচালিত করে, পরিণামে সে ভীষণ লজ্জিত হয়। তাই তুমি উপদেশদাতার উপদেশ গ্রহণ করো। নিষেধ করলে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকো। আর উপদেশের সময় তুমি হও সবচেয়ে সমঝদার ও অনুধাবনকারী ব্যক্তি। কেননা উপদেশের বাণীর প্রতি শ্রোতার চেয়ে বক্তার নিজে অধিক মুখাপেক্ষী হওয়া উচিত।'