📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 মুত্তাকি ব্যক্তি আত্মশাসনের ব্যাপারে কঠোর হন

📄 মুত্তাকি ব্যক্তি আত্মশাসনের ব্যাপারে কঠোর হন


৯. মায়মুন ইবনে মিহরান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, জালেম শাসক যেভাবে তার প্রজাদের থেকে খাজনা ও কর আদায়ের ব্যাপারে কঠোর ও নির্মম হিসাব নেয় এবং অত্যধিক কৃপণ ব্যবসায়ী যেভাবে তার ব্যবসার পার্টনারের কাছ থেকে পাই পাই করে হিসাব নেয়, ঠিক এভাবেই নফস থেকে পাই পাই হিসাব নিতে হয়। কেননা নফসের প্রতি এরূপ কঠোরতা আরোপ ও আত্মশাসন ও আত্মবিচার করা ছাড়া কোনো ব্যক্তি কখনই মুত্তাকি হতে পারে না। এটাই দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অভিজ্ঞতা।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নিজেকে জান্নাত ও জাহান্নামে কল্পনা করা

📄 নিজেকে জান্নাত ও জাহান্নামে কল্পনা করা


১০. ইবরাহিম তাইমি২৪ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আমার প্রাণকে কখনো কখনো জান্নাতের নাজ-নেয়ামতের মধ্যে কল্পনা করি যে, আমার প্রাণ জান্নাতের মধুময় ও সুস্বাদু ফল ভক্ষণ করছে। কখনো সুপেয় পানীয় পান করছে এবং কুমারী হুরদের সঙ্গে আলিঙ্গনাবদ্ধ হচ্ছে। এরপর নফসকে আবার জাহান্নামের মধ্যে কল্পনা করি যে, সে কখনো জাহান্নামের জাক্কুম অর্থাৎ কাঁটাদার বৃক্ষ থেকে ফল খাচ্ছে, জাহান্নামিদের গলিত পূঁজ পান করছে, তার গর্দানে সুদীর্ঘ শিকল পরিধান করানো হয়েছে। এরপর আমি নফসকে সম্বোধন করে বলি, হে নফস! হে আমার প্রাণ! তুমি এই দুটির কোনটি কামনা করো? যদি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর এরূপ বলো যে, আমাকে আবার দুনিয়ায় ফিরিয়ে দেয়া হোক, যাতে সৎকাজ করে আসতে পারি। তখন আমি বলি, তাহলে তুমি তো এখন দুনিয়াতেই আছ! অতএব, এখনই নেك আমল করে নাও। কেননা এটাই তোমার নেك আমলের উপযুক্ত স্থান। কেননা তুমি জাহান্নামে যাওয়ার পর যদি পুনরায় দুনিয়ায় এসে আমল করার বাসনা করো, তবে সেই দুনিয়াতেই তো তুমি এখন অবস্থান করছ। তাই বেশি বেশি করে আমল করে নাও, কারণ পরকালে কোনো প্রার্থনার মূল্য নেই।

টিকাঃ
২৪. তিনি একজন বিখ্যাত তাবেয়ি, মুহাদ্দিস, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী, দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি ও সুফি। পূর্ণ নাম আবু আসমা ইবরাহিম ইবনে ইয়াজিদ ইবনে শারিক আত-তাইমি কুফি। ইমাম যাহাবি রহ. বলেন, তিনি যুবক বয়স থেকে অত্যন্ত পরহেযগার, দুনিয়াবিমুখ, মুত্তাকি ও ইবাদতগোজার ব্যক্তি হিসেবে গড়ে ওঠেন। তিনি জনগণের হৃদয় স্পর্শকারী ওয়ায়েজ ও বক্তা ছিলেন। তার কথায় গভীর প্রভাব সৃষ্টি হতো শ্রোতাদের মধ্যে। তিনি বলতেন, আমি একটানা ত্রিশদিন কিছু না খেয়ে কাটাতে পারি। মহান এই তাবেয়িকে নিষ্ঠুর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৯২ হিজরিতে নির্মমভাবে শহিদ করে দেয়। আবু দাউদ বলেন, তিনি যখন নিহত হন, তখন তার বয়স চল্লিশের কোঠায়ও স্পর্শ করেনি।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নফসকে নিজের শত্রু ভাবতে হবে

📄 নফসকে নিজের শত্রু ভাবতে হবে


১১. মালেক ইবনে দিনার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রাহিমাহুল্লাহকে এক ভাষণে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, প্রতিটি ব্যক্তির নিজ নিজ নফসের হিসাব নেয়া একান্ত কর্তব্য। প্রতিটি ব্যক্তির নিজ নিজ আত্মাকে শত্রু ভাবা উচিত। প্রতিটি ব্যক্তির উচিত, অন্যের কাছে হিসাব ন্যস্ত হওয়ার আগে নিজের হিসাব নিজেই প্রস্তুত করে নেয়া। প্রতিটি ব্যক্তির একান্ত কর্তব্য হলো, নিজের আমলের বাগডোর নিজের হাতে তুলে নেওয়া। এভাবে তিনি 'প্রতিটি ব্যক্তি প্রতিটি ব্যক্তি' বলে বলে গোটা মজমার লোকদেরকে নিজের নফসের হিসাব গ্রহণের এত হৃদয়বিদারক তাগিদ দিলেন যে, মজলিসের প্রতিটি লোক ক্রন্দন শুরু করে দিল।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 দাউদ আলাইহিস সালামের হেকমতের কিতাবে লিপিবদ্ধ উপদেশ

📄 দাউদ আলাইহিস সালামের হেকমতের কিতাবে লিপিবদ্ধ উপদেশ


১২. ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দাউদ আলাইহিস সালামের পরিবার চালনার জন্য হেকমতের যে কিতাব লিপিবদ্ধ ছিল, তাতে লেখা ছিল, একজন বুদ্ধিমান লোকের জন্য চারটি সময়ে গাফেল ও অন্যমনস্ক থাকা একেবারেই উচিত নয়। যথা:

এক. যখন সে নিজের রবের কাছে মুনাজাত ও দুআ করে।

দুই. যখন সে নিজের নফসের বিচার ও হিসাব গ্রহণ করে।

তিন. যখন সে তার একনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে অবস্থান করে আর সেই বন্ধু তাকে তার দোষ সম্পর্কে অবহিত করে এবং সেও সেসব দোষের সত্যায়ন করে।

চার. যখন সে প্রশংসিত ও বৈধ কোনো বস্তু উপভোগ করে। কেননা এই সময়ে অন্যমনস্ক না হয়ে একনিষ্ঠ থাকলে উক্ত কাজগুলো সম্পাদন করা তার জন্য সহজ হবে এবং আত্মার প্রশান্তি ও উপকার হবে। আর জ্ঞানী ব্যক্তিদের তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া অগ্রসর হওয়া অনুচিত। যথা:

এক. পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করা।

দুই. জীবিকা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।

তিন. বৈধ বস্তু ভোগ করা।

আর বুদ্ধিমান ব্যক্তির দায়িত্ব হলো নিজের স্থান সম্পর্কে অবহিত হওয়া, নিজের জবানের হেফাজতকারী হওয়া এবং নিজের মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00