📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আবু তালহা রাযি.

📄 আবু তালহা রাযি.


আবু তালহা রাযি.-এর কথা আমরা জানি। তিনি মহান সাহাবিগণের একজন। তিনি নবীজির অত্যন্ত প্রিয় একজন সাহাবি ছিলেন। একদিন নিজের বাগানে নামাজ আদায় করছিলেন তিনি। আর বাগানে হরেক রকমের গাছ থাকে। গাছে গাছে পাখি নাচানাচি করে, উড়াউড়ি করে। এই ডাল থেকে ওই ডালে যায়। বর্ণিল ও মনোরম পরিবেশে বাগানে বিচরণকারী ব্যক্তিদেরকে মুগ্ধ করে। আনন্দ দেয়। দূর করে ক্লান্তি। মনে স্বতঃস্ফূর্ততা আনে। বাগানে নামাজ আদায় করা অবস্থায় এমন একটি পাখির দিকে নজর পড়ল হজরত তালহা রাযি.-এর। সামান্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। দৃষ্টি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবারও নামাজে মনোনিবেশ করলেন। সম্পূর্ণ মনোযোগ বিনিয়োগ করলেন নামাজের মধ্যে। কিন্তু তবু তাঁর আফসোস যায় না। নামাজে দাঁড়িয়ে যেখানে প্রভুর সঙ্গে কথোপকথন হবে, মুনাজাত হবে, সেখানে একটি সামান্য পাখি এসে বাধা সৃষ্টি করল! নিজের নফসের ওপর ভেঙে পড়লেন তিনি। ঝাঁপিয়ে পড়লেন তাকে শায়েস্তা করতে। বললেন, হে নফস! নামাজে দাঁড়িয়ে প্রভুর সঙ্গে মুনাজাতের এই প্রেমপূর্ণ সময়েও তুমি সামান্য একটি কলকাকলি দ্বারা প্রভাবিত হলে! হে নফস! এই তোমার প্রভু-সাধনা! ধ্যানমগ্নতা!

নিজেকে এভাবে শাসন করে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলেন, এই বাগানই আর রাখা যাবে না। যে বাগান আল্লাহ ও বান্দার ধ্যানমগ্নতার মধ্যে ব্যাঘাত ঘটায় সেটা রাখা ঠিকও হবে না। এ কথা বলে তিনি বাগানটি আল্লাহ তাআলার রাস্তায় দান করে দিলেন।

এই হলো আমাদের গৌরব, আমাদের হেদায়াতের বাতিঘর, আমাদের রাহবার সাহাবায়ে কেরাম, যাদের একটি ঘটনা আমাদের সারা জীবনের পাথেয়, তাদের একেকটি আত্মশুদ্ধির পদক্ষেপ, একেকজন আব্দুল কাদির জিলানি, জুনায়েদ বাগদাদির চেয়েও উপকারী। সুতরাং আবু তালহা রাযি.-এর মতো মহান ব্যক্তি যদি নিজেদের আত্মাকে এভাবে শাসন করার প্রয়োজন মনে করেন, তবে আমাদের মতো ব্যক্তিদের কীরূপ শাসন করা উচিত? আমাদের পাপী আত্মাগুলোকে কীভাবে কঠোর শাসন করে এদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা উচিত? এর জবাব যার যার কাছে। কারণ, মানুষ নিজে নিজের খবর বেশি জানে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00