📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 ধনীদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া

📄 ধনীদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া


অনেক মানুষ আছে, যারা ধনীদের সঙ্গে উঠাবসা করা, তাদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ও তাদের প্রতি মনোনিবেশ করা এবং তাদেরকে সম্মান প্রদর্শন করায় আসক্ত।
এটিও মানব মনের মন্দ প্রবণতা। এর প্রতিকার হলো দরিদ্রদের সঙ্গে উঠাবসা করা এবং এই বিষয়ে অবগত হওয়া যে, সে ধনীদের থেকে কেবল অতোটুকুই লাভ করতে সক্ষম হবে আল্লাহ তাআলা যা তার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। তখন দেখা যাবে তাদের ব্যাপারে তার মনের ভেতর যে সুপ্ত লালসা রয়েছে তা দূর হয়ে যাবে। আর এর মাধ্যমে তাদের প্রতি তার আসক্তিও কমে যাবে।
এই কথাও জানা থাকা ভালো যে, দরিদ্রদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে ধনীদের প্রতি মনোযোগী হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তিরস্কার করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى ، فَأَنْتَ لَهُ تَصَدَّى وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّى، وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى، وَهُوَ يَخْشَى، فَأَنْتَ عَنْهُ تَلَقَّى
“আর যে ব্যক্তি বেপরোয়া হয়েছে, তুমি তার প্রতি মনোযোগী। অথচ তার সংশোধন হওয়ার দায়িত্ব তোমার উপর নয় আর যে তোমার কাছে দৌড়ে এসেছে এবং সে ভয়ও করে তুমি তার প্রতি মনোযোগী হলে না।”[৯৪]
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—দুআ করেছেন,
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ الْمَسَاكِينِ يَوْمَ القِيَامَةِ
“হে আল্লাহ, আমাকে মিসকীন অবস্থায় জীবিত রেখো। মিসকীন অবস্থায় মৃত্যু দান কোরো। এবং মিসকীনদের দলে আমার হাশর কোরো।”[৯৫]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আলি অথবা অন্য কোনো সাহাবিকে উপদেশ দিয়েছেন, মিসকীনদেরকে ভালোবাসতে এবং তাদের কাছাকাছি থাকতে।[৯৬]

টিকাঃ
[৯৪] সূরা আবাসা: ০৫-১০
[৯৫] সুনান তিরমিযি: ২৩৫২, হাদীসের মান সহীহ।
[৯৬] মুসনাদ আহমাদ: ২১৪১৫, হাদীসের মান সহীহ। এই হাদীসে আবু যর গিফারি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কথা এসেছে।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


এই কয়েকটি পরিচ্ছেদে আমি মনের ব্যাধি এবং দোষ ত্রুটি নিয়ে কথা বললাম। যাতে করে জ্ঞানী ব্যক্তিরা এর মাধ্যমে অন্যান্য সমস্যাগুলোর প্রতিকার বুঝে নিতে পারে। এবং আল্লাহ তাআলা যাদেরকে তৌফিক দান করেছেন তারা যাতে এখান থেকে অন্যান্য বিষয়ের সমাধানও আবিষ্কার করে নিতে পারে।
আমি জানি যে, অন্তরের দোষ ত্রুটি এবং ব্যাধির কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। তাই সবকিছু বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া এটা কী করে সম্ভব হতে পারে? কারণ মানুষের অন্তর পুরোটাই তো হচ্ছে ব্যাধিগ্রস্থ। বিভিন্ন ধরনের দোষ থেকে তা মুক্ত নয়। আল্লাহ তাআলা তাকে 'নাফসে আম্মারা' বা মন্দ বিষয়ের আদেশকারীরূপে গণ্য করেছেন। তবে হ্যাঁ, অনেক সময় মানুষ এ জাতীয় চিকিৎসা এবং প্রতিকারের দ্বারস্থ হওয়ার মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করে নিতে পারে। তখন এর মাধ্যমে অন্তরের দোষ-ত্রুটিগুলো দূর হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথ অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন এবং গাফলত ও কুপ্রবৃত্তির চাহিদাকে আমাদের থেকে দূর করে দিন। তিনি আমাদেরকে তার আশ্রয় এবং নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে নিন। কারণ তিনি হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ও সর্বাধিক দাতা। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর এবং তার পুতপবিত্র পরিবারবর্গের উপর। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00