📄 সবক্ষেত্রে সহজতা তালাশ করা
অনেকের মানসিক প্রবণতা থাকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং বাহানা করে সব জায়গায় কেবল সহজ ও সাধারণটাকে গ্রহণ করে নেওয়া। এটি মানব মনের অন্যতম ব্যাধি। এর প্রতিকার হলো সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে বেঁচে থাকা। কারণ এটিই মানুষকে আস্তেআস্তে হারামের দিকে নিয়ে যায়। আপনি দেখে থাকবেন রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
الحلالُ بَيِّنٌ، وَالحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى المُشَبَّهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ: كَرَاعٍ يَرْعَى حَوْلَ الحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ، أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمّى ، أَلاَ إِنَّ حِمَى اللَّهِ فِي أَرْضِهِ مَحَارِمُهُ
“হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট। আর এই দুইয়ের মাঝে আছে অনেক সন্দেহপূর্ণ বিষয়, যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তার উদাহরণ সেই রাখালের ন্যায়, যে তার পশু বাদশাহ কর্তৃক সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়, অচিরেই সেগুলো সেখানে ঢুকে পড়তে পারে। জেনে রাখো যে, প্রত্যেক বাদশাহেরই একটা সংরক্ষিত এলাকা থাকে। আরও জেনে রাখো যে, আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ।”[৯১]
টিকাঃ
[৯১] সহীহ বুখারি: ৫২
📄 পাপের জন্য অনুতপ্ত না হওয়া
কোনো পাপে জড়িয়ে পড়লে অথবা পদস্খলন ঘটলে তা থেকে চোখ বুজে রাখা মানুষের মন্দ স্বভাব। এটি দূর করার জন্য ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই দেরি না করে তাওবা করা এবং সেই ভুল সংশোধন করে নেওয়া হচ্ছে কর্তব্য। যাতে করে সেই ভুল এবং এই জাতীয় অন্যান্য ভুল করতে মন অভ্যস্ত হয়ে না পড়ে। এমনটি আমি আবদুল্লাহ বিন উমর—রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আবু উসমানকে বলতে শুনেছি, 'অধিকাংশ আত্মশুদ্ধি-প্রত্যাশীদের সমস্যা হলো, তারা সংঘটিত হওয়া ভুল এবং পদস্খলনের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে থাকে। তারা তৎক্ষণাৎ এর প্রতিকারের পথে অগ্রসর হয় না। ফলে তাদের অন্তর সেই ধরনের ভুল করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আর এই কারণেই একসময় তার আত্মশুদ্ধির ইচ্ছা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।'
📄 কারামতের কারণে ধোঁকায় পতিত হওয়া
কখনো কারামাত প্রাপ্ত হলে ধোঁকায় পতিত হয় অনেকে।[৯২] এটি দূর করার জন্য জেনে নিন যে, কারামত অধিকাংশই ধোঁকা ও সুযোগ-প্রদান হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ
“অচিরেই আমি তাদেরকে ধীরেধীরে এমনভাবে পাকড়াও করবো যে, তারা জানতেও পারবে না।”[৯৩]
একজন সালাফ বলেছেন, 'ওলি-আউলিয়ারা সবচে বেশি ধোঁকা খায় যে বিষয়ের কারণে তা হলো, কারামত ও অতি-প্রশংসা।'
টিকাঃ
[৯২] কারণ অনেকেই কারামতকে নিজের কামালত ও মর্যাদার স্বীকৃতি মনে করে। এটি ভুল ধারণা। বরং মানুষের মর্যাদা ও কামালত নির্ণীত হয় তার শারীআতের অনুসরণ ও তাকওয়া দিয়ে, কারামত দিয়ে নয়।
[৯৩] সূরা আল-আ'রাফ: ১৮২
📄 ধনীদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া
অনেক মানুষ আছে, যারা ধনীদের সঙ্গে উঠাবসা করা, তাদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ও তাদের প্রতি মনোনিবেশ করা এবং তাদেরকে সম্মান প্রদর্শন করায় আসক্ত।
এটিও মানব মনের মন্দ প্রবণতা। এর প্রতিকার হলো দরিদ্রদের সঙ্গে উঠাবসা করা এবং এই বিষয়ে অবগত হওয়া যে, সে ধনীদের থেকে কেবল অতোটুকুই লাভ করতে সক্ষম হবে আল্লাহ তাআলা যা তার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। তখন দেখা যাবে তাদের ব্যাপারে তার মনের ভেতর যে সুপ্ত লালসা রয়েছে তা দূর হয়ে যাবে। আর এর মাধ্যমে তাদের প্রতি তার আসক্তিও কমে যাবে।
এই কথাও জানা থাকা ভালো যে, দরিদ্রদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে ধনীদের প্রতি মনোযোগী হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তিরস্কার করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى ، فَأَنْتَ لَهُ تَصَدَّى وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّى، وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى، وَهُوَ يَخْشَى، فَأَنْتَ عَنْهُ تَلَقَّى
“আর যে ব্যক্তি বেপরোয়া হয়েছে, তুমি তার প্রতি মনোযোগী। অথচ তার সংশোধন হওয়ার দায়িত্ব তোমার উপর নয় আর যে তোমার কাছে দৌড়ে এসেছে এবং সে ভয়ও করে তুমি তার প্রতি মনোযোগী হলে না।”[৯৪]
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—দুআ করেছেন,
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ الْمَسَاكِينِ يَوْمَ القِيَامَةِ
“হে আল্লাহ, আমাকে মিসকীন অবস্থায় জীবিত রেখো। মিসকীন অবস্থায় মৃত্যু দান কোরো। এবং মিসকীনদের দলে আমার হাশর কোরো।”[৯৫]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আলি অথবা অন্য কোনো সাহাবিকে উপদেশ দিয়েছেন, মিসকীনদেরকে ভালোবাসতে এবং তাদের কাছাকাছি থাকতে।[৯৬]
টিকাঃ
[৯৪] সূরা আবাসা: ০৫-১০
[৯৫] সুনান তিরমিযি: ২৩৫২, হাদীসের মান সহীহ।
[৯৬] মুসনাদ আহমাদ: ২১৪১৫, হাদীসের মান সহীহ। এই হাদীসে আবু যর গিফারি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কথা এসেছে।