📄 মনকে সবসময় আনন্দ দেওয়া
অনেক মানুষ সব সময় মনকে এমন কাজে নিয়োজিত রাখতে তৎপর থাকে, যা তার জন্য আনন্দ সরবরাহ করে। এটিও একটি মন্দ স্বভাব। এর প্রতিকারের জন্য এই কথা জেনে নিতে হবে যে, আল্লাহ তাআলা অধিক আনন্দকারীদের অপছন্দ করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অধিক আনন্দকারীদের পছন্দ করেন না।”[৮৮]
রাসূলে কারীম-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ كُلَّ قَلْبٍ حَزِينٍ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সকল ব্যথিত ও চিন্তিত অন্তরকে ভালোবাসেন।”[৮৯]
মালিক ইবনু দিনার-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, 'অন্তরে যখন ব্যথা থাকে না, চিন্তা থাকে না তখন তা বিরান হয়ে পড়ে। যেভাবে ঘরের মধ্যে কেউ না থাকলে সেই ঘর বিরান হয়ে যায়।'
টিকাঃ
[৮৮] সূরা কাসাস : ৭৬
[৮৯] শুআবুল ঈমান : ৮৬৬, হাদীসের মান সহীহ।
📄 না-শুকরী করা
মানুষের মন শুকরিয়ার অবস্থায় থেকেও মনে করে যে সে ধৈর্যের অবস্থায় রয়েছে। এটি কোনো ভালো গুণ নয়। এর প্রতিকার হলো, সর্বাবস্থায় তার উপর আল্লাহ তায়ালার অপার অনুগ্রহের প্রতি লক্ষ করা। আমি সাঈদ ইবনু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আমার চাচাকে বলতে শুনেছি যে, আবু উসমান বলেছেন, 'সমগ্র সৃষ্টিজীব আল্লাহর কাছে শুকরিয়ার অবস্থানে রয়েছে। অথচ তারা মনে করে যে তারা ধৈর্যের অবস্থানে রয়েছে।'[৯০]
টিকাঃ
[৯০] শুকরিয়ার অবস্থা বলতে বিপদমুক্ত ভালো অবস্থা বোঝানো হয়েছে। যখন কি-না শুকরিয়া আদায় করা কর্তব্য। আর ধৈর্যের অবস্থা বলতে বিপদাপদ ও কষ্টের মন্দ অবস্থা বোঝানো হয়েছে। যখন কি-না ধৈর্য ধরা কর্তব্য।
📄 সবক্ষেত্রে সহজতা তালাশ করা
অনেকের মানসিক প্রবণতা থাকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং বাহানা করে সব জায়গায় কেবল সহজ ও সাধারণটাকে গ্রহণ করে নেওয়া। এটি মানব মনের অন্যতম ব্যাধি। এর প্রতিকার হলো সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে বেঁচে থাকা। কারণ এটিই মানুষকে আস্তেআস্তে হারামের দিকে নিয়ে যায়। আপনি দেখে থাকবেন রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
الحلالُ بَيِّنٌ، وَالحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى المُشَبَّهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ: كَرَاعٍ يَرْعَى حَوْلَ الحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ، أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمّى ، أَلاَ إِنَّ حِمَى اللَّهِ فِي أَرْضِهِ مَحَارِمُهُ
“হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট। আর এই দুইয়ের মাঝে আছে অনেক সন্দেহপূর্ণ বিষয়, যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তার উদাহরণ সেই রাখালের ন্যায়, যে তার পশু বাদশাহ কর্তৃক সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়, অচিরেই সেগুলো সেখানে ঢুকে পড়তে পারে। জেনে রাখো যে, প্রত্যেক বাদশাহেরই একটা সংরক্ষিত এলাকা থাকে। আরও জেনে রাখো যে, আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ।”[৯১]
টিকাঃ
[৯১] সহীহ বুখারি: ৫২
📄 পাপের জন্য অনুতপ্ত না হওয়া
কোনো পাপে জড়িয়ে পড়লে অথবা পদস্খলন ঘটলে তা থেকে চোখ বুজে রাখা মানুষের মন্দ স্বভাব। এটি দূর করার জন্য ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই দেরি না করে তাওবা করা এবং সেই ভুল সংশোধন করে নেওয়া হচ্ছে কর্তব্য। যাতে করে সেই ভুল এবং এই জাতীয় অন্যান্য ভুল করতে মন অভ্যস্ত হয়ে না পড়ে। এমনটি আমি আবদুল্লাহ বিন উমর—রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আবু উসমানকে বলতে শুনেছি, 'অধিকাংশ আত্মশুদ্ধি-প্রত্যাশীদের সমস্যা হলো, তারা সংঘটিত হওয়া ভুল এবং পদস্খলনের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে থাকে। তারা তৎক্ষণাৎ এর প্রতিকারের পথে অগ্রসর হয় না। ফলে তাদের অন্তর সেই ধরনের ভুল করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আর এই কারণেই একসময় তার আত্মশুদ্ধির ইচ্ছা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।'