📄 অহেতুক দরিদ্রতা প্রদর্শন করা
মানুষের একটি আত্মিক রোগ হলো যথেষ্ট সম্পদ থাকা সত্বেও দরিদ্রতা প্রদর্শন করা। এর প্রতিকারের জন্য যা করতে হবে তা হলো, অভাব-অনটন যদি থাকেও তবু যথেষ্ট আর্থিক সঙ্গতি আছে বলে মনে করা। আমি আমার দাদাকে বলতে শুনেছি, 'আগে মানুষ ধনী অবস্থায় আত্মশুদ্ধিতে লিপ্ত হয়ে অতপর (অধিক দান-খয়রাতের কারণে) দরিদ্র হয়ে যেতো। তবুও মানুষের সামনে নিজেদেরকে ধনী হিসেবে প্রদর্শন করতো। আর বর্তমানে মানুষ দরিদ্র অবস্থায় আত্মশুদ্ধি শুরু করে অতপর ধনী হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের সামনে সেই আগের দরিদ্রতাকেই প্রদর্শন করে বেড়ায়।'
📄 নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা
অনেক মানুষ নিজেকে তার সাথি-সঙ্গীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। এটিও মানুষের একটি মনের রোগ। এর চিকিৎসা হলো, নিজের ব্যাপারে ভালো মতো অবগত হওয়া। কারণ নিজের ব্যাপারে তার থেকে বেশি অবগত আর কেউ নাই। পাশাপাশি সাথি- সঙ্গীদের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করা। যাতে করে এর মাধ্যমে নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ ভাবার সুযোগ পায় সে।
ভাইদের ও সাথি-সঙ্গীদের শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকার করে নেওয়া উচিত। আর এটা তখনই কেবল সম্ভব হবে, যখন সে অন্যদের দিকে উন্নত নজরে তাকাবে আর নিজের দিকে তাকাবে সাধারণ নজরে। আমি আমার দাদাকে এমনটি বলতে শুনেছি। তাছাড়া আমি আবূ আবদুল্লাহ সিজযি-রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, 'যতোক্ষণ তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে না ততোক্ষণ তুমি শ্রেষ্ঠ। আর যখনই তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে তখন আর তুমি শ্রেষ্ঠ থাকবে না।'
📄 মনকে সবসময় আনন্দ দেওয়া
অনেক মানুষ সব সময় মনকে এমন কাজে নিয়োজিত রাখতে তৎপর থাকে, যা তার জন্য আনন্দ সরবরাহ করে। এটিও একটি মন্দ স্বভাব। এর প্রতিকারের জন্য এই কথা জেনে নিতে হবে যে, আল্লাহ তাআলা অধিক আনন্দকারীদের অপছন্দ করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অধিক আনন্দকারীদের পছন্দ করেন না।”[৮৮]
রাসূলে কারীম-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ كُلَّ قَلْبٍ حَزِينٍ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সকল ব্যথিত ও চিন্তিত অন্তরকে ভালোবাসেন।”[৮৯]
মালিক ইবনু দিনার-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, 'অন্তরে যখন ব্যথা থাকে না, চিন্তা থাকে না তখন তা বিরান হয়ে পড়ে। যেভাবে ঘরের মধ্যে কেউ না থাকলে সেই ঘর বিরান হয়ে যায়।'
টিকাঃ
[৮৮] সূরা কাসাস : ৭৬
[৮৯] শুআবুল ঈমান : ৮৬৬, হাদীসের মান সহীহ।
📄 না-শুকরী করা
মানুষের মন শুকরিয়ার অবস্থায় থেকেও মনে করে যে সে ধৈর্যের অবস্থায় রয়েছে। এটি কোনো ভালো গুণ নয়। এর প্রতিকার হলো, সর্বাবস্থায় তার উপর আল্লাহ তায়ালার অপার অনুগ্রহের প্রতি লক্ষ করা। আমি সাঈদ ইবনু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আমার চাচাকে বলতে শুনেছি যে, আবু উসমান বলেছেন, 'সমগ্র সৃষ্টিজীব আল্লাহর কাছে শুকরিয়ার অবস্থানে রয়েছে। অথচ তারা মনে করে যে তারা ধৈর্যের অবস্থানে রয়েছে।'[৯০]
টিকাঃ
[৯০] শুকরিয়ার অবস্থা বলতে বিপদমুক্ত ভালো অবস্থা বোঝানো হয়েছে। যখন কি-না শুকরিয়া আদায় করা কর্তব্য। আর ধৈর্যের অবস্থা বলতে বিপদাপদ ও কষ্টের মন্দ অবস্থা বোঝানো হয়েছে। যখন কি-না ধৈর্য ধরা কর্তব্য।