📄 ইলমের দাবী না মানা
মানুষের একটি সমস্যা হলো ইলমের চাহিদা এবং দাবি-দাওয়া পূরণ না করে তা থেকে পলায়ন করা। এর প্রতিকার হল ইলমকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ
“কোনো বিষয়ে তোমাদের বিরোধ হলে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে তা প্রত্যাবর্তিত কোরো।”[৮৫]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূল ও তোমাদের মধ্য থেকে উলুল আমর যারা, তাদের আনুগত্য করো।”[৮৬]
'নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-বলেছেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
“ইলম তলব করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।”[৮৭]
টিকাঃ
[৮৫] সূরা নিসা : ৫৯
[৮৬] সূরা নিসা : ৫৯
[৮৭] সুনান ইবনু মাজাহ: ২২৪, মূল কিতাবে মুসলিম এর সাথে মুসলিমাহ শব্দটিও ছিল। শব্দটি মুনকার। এখানে লেখক আরও একটি বক্তব্য হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তা হলো: "তোমরা চীন দেশে গিয়ে হলেও ইলম তলব কর।” এটি প্রসিদ্ধ জাল হাদীস হওয়ায় তা মূল অনুবাদের ভেতরে উল্লেখ করা হলো না। (ইবনুল জাওযি, আল-মাউদুয়াত: ১/২১৫)
📄 দান করে গর্ব করা ও খোঁটা দেওয়া
দান-খয়রাত করে বড়াই ও গর্ববোধ করা এবং দানগ্রহীতাকে দানের খোটা দেওয়া অনেক মানুষের মন্দ স্বভাব। এটি সংশোধনের জন্য এই বিষয়টি অবগত হতে হবে যে, দানকারী তো কেবল ওই সমস্ত ব্যক্তির কাছে তাদের রিযিক পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে। প্রকৃতপক্ষে আসল রিযিকদাতা এবং দানকারী হলেন আল্লাহ তাআলা। সে কেবলমাত্র আল্লাহ এবং বান্দাদের মাঝে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। সুতরাং হকদারের কাছে তার হক পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে গর্ববোধ করা এবং বড়াই করার কিছু নেই।
📄 অহেতুক দরিদ্রতা প্রদর্শন করা
মানুষের একটি আত্মিক রোগ হলো যথেষ্ট সম্পদ থাকা সত্বেও দরিদ্রতা প্রদর্শন করা। এর প্রতিকারের জন্য যা করতে হবে তা হলো, অভাব-অনটন যদি থাকেও তবু যথেষ্ট আর্থিক সঙ্গতি আছে বলে মনে করা। আমি আমার দাদাকে বলতে শুনেছি, 'আগে মানুষ ধনী অবস্থায় আত্মশুদ্ধিতে লিপ্ত হয়ে অতপর (অধিক দান-খয়রাতের কারণে) দরিদ্র হয়ে যেতো। তবুও মানুষের সামনে নিজেদেরকে ধনী হিসেবে প্রদর্শন করতো। আর বর্তমানে মানুষ দরিদ্র অবস্থায় আত্মশুদ্ধি শুরু করে অতপর ধনী হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের সামনে সেই আগের দরিদ্রতাকেই প্রদর্শন করে বেড়ায়।'
📄 নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা
অনেক মানুষ নিজেকে তার সাথি-সঙ্গীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। এটিও মানুষের একটি মনের রোগ। এর চিকিৎসা হলো, নিজের ব্যাপারে ভালো মতো অবগত হওয়া। কারণ নিজের ব্যাপারে তার থেকে বেশি অবগত আর কেউ নাই। পাশাপাশি সাথি- সঙ্গীদের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করা। যাতে করে এর মাধ্যমে নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ ভাবার সুযোগ পায় সে।
ভাইদের ও সাথি-সঙ্গীদের শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকার করে নেওয়া উচিত। আর এটা তখনই কেবল সম্ভব হবে, যখন সে অন্যদের দিকে উন্নত নজরে তাকাবে আর নিজের দিকে তাকাবে সাধারণ নজরে। আমি আমার দাদাকে এমনটি বলতে শুনেছি। তাছাড়া আমি আবূ আবদুল্লাহ সিজযি-রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, 'যতোক্ষণ তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে না ততোক্ষণ তুমি শ্রেষ্ঠ। আর যখনই তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে তখন আর তুমি শ্রেষ্ঠ থাকবে না।'