📄 গাফলতিতে আক্রান্ত হওয়া
গাফলতিতে আক্রান্ত হওয়া মানুষের অন্যতম মনোরোগ। এর প্রতিকারের জন্য একথা জেনে নিতে হবে যে, মানুষ গাফেল হলেও তার ব্যাপারে গাফলতি করা হচ্ছে না। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
"তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা গাফেল নন।"[৮৩]
একথাও জেনে রাখা উচিত যে, সব ধরনের কল্পনা-জল্পনা ও ভাবনা-চিন্তার হিসাব রাখা হচ্ছে। যে ব্যক্তি নিজের ভেতর এমন বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবে সে নিজের সময়ের প্রতি লক্ষ রাখবে। নিজের অবস্থার প্রতি মনোযোগী হবে আর এর মাধ্যমেই তার গাফলত দূর হয়ে যাবে।
টিকাঃ
[৮৩] সূরা বাকারা: ৭৪
📄 তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে ভুল পথে হাঁটা
অনেক মানুষ আয়-উপার্জনের পথ পরিহার করে বসে থাকে। যাতে করে সে মানুষকে দেখাতে পারে যে, তাওয়াক্কুল অবলম্বন করেই সে এমনটি করছে। তারপর সে রিযিকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। যখন রিযিকের দেখা না পায় তখন ক্রোধান্বিত হয়ে পড়ে। এই ধরনের স্বভাবও মানব মনের ব্যাধি। এর চিকিৎসা হলো- আয়-উপার্জনে নিজেকে নিয়োজিত করা। কারণ নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন,
إِنَّ أَطْيَبَ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ
“মানুষ স্বীয় উপার্জন থেকে যা ভক্ষণ করে তা-ই হচ্ছে সর্বোত্তম।”[৮৪]
সুতরাং বাহ্যিকভাবে আয়-উপার্জনে লিপ্ত হওয়া এবং অভ্যন্তরীণভাবে তাওয়াক্কুল অবলম্বন করার কর্মপন্থা অনুসরণ করা উচিত। যাতে করে বাহ্যিকভাবে মানুষের কাছে উপার্জনকারী হিসেবে এবং অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারী রূপে পরিগণিত হওয়া যায়। এটিই হলো প্রকৃত পুরুষের কাজ এবং মুখলিস বান্দাদের কর্মপন্থা।
টিকাঃ
[৮৪] সুনান নাসাঈ: ৪৪৪৯, হাদীসের মান সহীহ।
📄 ইলমের দাবী না মানা
মানুষের একটি সমস্যা হলো ইলমের চাহিদা এবং দাবি-দাওয়া পূরণ না করে তা থেকে পলায়ন করা। এর প্রতিকার হল ইলমকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ
“কোনো বিষয়ে তোমাদের বিরোধ হলে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে তা প্রত্যাবর্তিত কোরো।”[৮৫]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূল ও তোমাদের মধ্য থেকে উলুল আমর যারা, তাদের আনুগত্য করো।”[৮৬]
'নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-বলেছেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
“ইলম তলব করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।”[৮৭]
টিকাঃ
[৮৫] সূরা নিসা : ৫৯
[৮৬] সূরা নিসা : ৫৯
[৮৭] সুনান ইবনু মাজাহ: ২২৪, মূল কিতাবে মুসলিম এর সাথে মুসলিমাহ শব্দটিও ছিল। শব্দটি মুনকার। এখানে লেখক আরও একটি বক্তব্য হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তা হলো: "তোমরা চীন দেশে গিয়ে হলেও ইলম তলব কর।” এটি প্রসিদ্ধ জাল হাদীস হওয়ায় তা মূল অনুবাদের ভেতরে উল্লেখ করা হলো না। (ইবনুল জাওযি, আল-মাউদুয়াত: ১/২১৫)
📄 দান করে গর্ব করা ও খোঁটা দেওয়া
দান-খয়রাত করে বড়াই ও গর্ববোধ করা এবং দানগ্রহীতাকে দানের খোটা দেওয়া অনেক মানুষের মন্দ স্বভাব। এটি সংশোধনের জন্য এই বিষয়টি অবগত হতে হবে যে, দানকারী তো কেবল ওই সমস্ত ব্যক্তির কাছে তাদের রিযিক পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে। প্রকৃতপক্ষে আসল রিযিকদাতা এবং দানকারী হলেন আল্লাহ তাআলা। সে কেবলমাত্র আল্লাহ এবং বান্দাদের মাঝে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। সুতরাং হকদারের কাছে তার হক পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে গর্ববোধ করা এবং বড়াই করার কিছু নেই।