📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 সত্য-বিমুখ লোকদের সাথে চলাফেরা করা

📄 সত্য-বিমুখ লোকদের সাথে চলাফেরা করা


সত্য থেকে যারা বিমুখ থাকে তাদের সঙ্গে চলাফেরা করা মানব মনের মন্দ প্রবণতা। একে দূর করার পদ্ধতি হলো, যারা সত্যকে ভালোবাসে ও সত্যের অনুসারী তাদের সাথে চলাফেরা করা।
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি যাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভুক্ত বলে বিবেচিত হবে।”[৮২]
কোনো এক সালাফ বলেছেন, 'মন্দ লোকদের সঙ্গে থাকা ভালো লোকদের ব্যাপারে মন্দ ধারণার জন্ম দেয়।'
অন্য আরেকজন সালাফ বলেছেন, 'মানুষের অন্তর যখন আল্লাহর থেকে দূরে সরে যায় তখন আল্লাহর বিধান মান্যকারীদের সে ঘৃণা করতে শুরু করে।'

টিকাঃ
[৮২] সুনান আবু দাউদ: ৪০৩১, হাদীসের মান সহীহ।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 গাফলতিতে আক্রান্ত হওয়া

📄 গাফলতিতে আক্রান্ত হওয়া


গাফলতিতে আক্রান্ত হওয়া মানুষের অন্যতম মনোরোগ। এর প্রতিকারের জন্য একথা জেনে নিতে হবে যে, মানুষ গাফেল হলেও তার ব্যাপারে গাফলতি করা হচ্ছে না। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
"তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা গাফেল নন।"[৮৩]
একথাও জেনে রাখা উচিত যে, সব ধরনের কল্পনা-জল্পনা ও ভাবনা-চিন্তার হিসাব রাখা হচ্ছে। যে ব্যক্তি নিজের ভেতর এমন বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবে সে নিজের সময়ের প্রতি লক্ষ রাখবে। নিজের অবস্থার প্রতি মনোযোগী হবে আর এর মাধ্যমেই তার গাফলত দূর হয়ে যাবে।

টিকাঃ
[৮৩] সূরা বাকারা: ৭৪

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে ভুল পথে হাঁটা

📄 তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে ভুল পথে হাঁটা


অনেক মানুষ আয়-উপার্জনের পথ পরিহার করে বসে থাকে। যাতে করে সে মানুষকে দেখাতে পারে যে, তাওয়াক্কুল অবলম্বন করেই সে এমনটি করছে। তারপর সে রিযিকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। যখন রিযিকের দেখা না পায় তখন ক্রোধান্বিত হয়ে পড়ে। এই ধরনের স্বভাবও মানব মনের ব্যাধি। এর চিকিৎসা হলো- আয়-উপার্জনে নিজেকে নিয়োজিত করা। কারণ নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন,
إِنَّ أَطْيَبَ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ
“মানুষ স্বীয় উপার্জন থেকে যা ভক্ষণ করে তা-ই হচ্ছে সর্বোত্তম।”[৮৪]
সুতরাং বাহ্যিকভাবে আয়-উপার্জনে লিপ্ত হওয়া এবং অভ্যন্তরীণভাবে তাওয়াক্কুল অবলম্বন করার কর্মপন্থা অনুসরণ করা উচিত। যাতে করে বাহ্যিকভাবে মানুষের কাছে উপার্জনকারী হিসেবে এবং অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলকারী রূপে পরিগণিত হওয়া যায়। এটিই হলো প্রকৃত পুরুষের কাজ এবং মুখলিস বান্দাদের কর্মপন্থা।

টিকাঃ
[৮৪] সুনান নাসাঈ: ৪৪৪৯, হাদীসের মান সহীহ।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 ইলমের দাবী না মানা

📄 ইলমের দাবী না মানা


মানুষের একটি সমস্যা হলো ইলমের চাহিদা এবং দাবি-দাওয়া পূরণ না করে তা থেকে পলায়ন করা। এর প্রতিকার হল ইলমকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ
“কোনো বিষয়ে তোমাদের বিরোধ হলে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে তা প্রত্যাবর্তিত কোরো।”[৮৫]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূল ও তোমাদের মধ্য থেকে উলুল আমর যারা, তাদের আনুগত্য করো।”[৮৬]
'নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-বলেছেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
“ইলম তলব করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।”[৮৭]

টিকাঃ
[৮৫] সূরা নিসা : ৫৯
[৮৬] সূরা নিসা : ৫৯
[৮৭] সুনান ইবনু মাজাহ: ২২৪, মূল কিতাবে মুসলিম এর সাথে মুসলিমাহ শব্দটিও ছিল। শব্দটি মুনকার। এখানে লেখক আরও একটি বক্তব্য হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তা হলো: "তোমরা চীন দেশে গিয়ে হলেও ইলম তলব কর।” এটি প্রসিদ্ধ জাল হাদীস হওয়ায় তা মূল অনুবাদের ভেতরে উল্লেখ করা হলো না। (ইবনুল জাওযি, আল-মাউদুয়াত: ১/২১৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00