📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করা

📄 অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করা


মানুষের একটি আত্মিক ব্যধি হলো দুনিয়ার বিভিন্ন অনর্থক কাজে জড়িয়ে সময় নষ্ট করা এবং এমন কাজ যারা করে তাদের সাথে চলাফেরা করা।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এই কথা জানতে হবে যে, সময় হলো সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু। সুতরাং মূল্যবান কাজকর্মেই তা ব্যয় করা উচিত। এই ধরনের মূল্যবান কাজকর্মের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার যিকির করা, সর্বদা তার অনুগত হওয়া এবং নিজেকে মুখলিস বা একনিষ্ঠ বান্দা হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকা।
রাসূলে কারীম-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে বর্ণিত আছে,
دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
“যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয় তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের আশঙ্কা নেই তাই গ্রহণ কোরো।”[৬৮]
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আরও বলেছেন,
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
“একজন মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের মধ্যে এটাও আছে যে, সে অনর্থক কাজ-কর্ম পরিহার করবে। আর যে অনর্থক কাজ পরিহার করে সে ফলপ্রসূ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।”[৬৯]
হুসাইন ইবনে মনসুর বলেছেন, 'নিজের নফস সম্পর্কে সচেতন থেকো। যদি তুমি তাকে ব্যস্ত না রাখো তাহলে সে তোমাকে ব্যস্ত করে ফেলবে।'

টিকাঃ
[৬৮] সুনান তিরমিযি: ২৫১৮, হাদীসের মান সহীহ।
[৬৯] সুনান তিরমিযি: ২৩১৭, হাদীসের মান হাসান।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 ক্রোধাবিষ্ট হওয়া

📄 ক্রোধাবিষ্ট হওয়া


মানুষের অন্তরের একটি ব্যাধি হচ্ছে ক্রোধান্বিত হওয়া। এর চিকিৎসা হলো, আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার উপর নিজেকে অভ্যস্ত করে নেওয়া। কারণ ক্রোধ হলো শয়তানের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।
এক ব্যক্তি রাসূলে কারীম-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, 'আমাকে উপদেশ দিন।' তিনি বললেন, 'রাগ করবে না।' সে বারবার একই কথা জিজ্ঞেস করলো। তিনি তাকে বললেন, 'তুমি রাগ করবে না।’[৭০]
তাছাড়া ক্রোধ মানুষকে ধ্বংসের প্রান্তসীমায় পৌঁছে দেয়। যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত নিরাপত্তা তার সঙ্গী না হয়।

টিকাঃ
[৭০] সহীহ বুখারি: ৬১১৬

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 মিথ্যা কথা বলা

📄 মিথ্যা কথা বলা


মনুষ্য স্বভাবের একটি জটিল রোগ হচ্ছে মিথ্যা কথা বলা। এটি দূর করার উপায় হচ্ছে নিজেকে সত্যবাদিতার উপর অভ্যস্ত করে তোলা এবং মানুষের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টিকে পাত্তা না দেওয়া। কারণ একজন মিথ্যাবাদীকে মিথ্যার উপর প্ররোচিত করে থাকে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনের লোভ। তাদের সামনে নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন এবং তাদের কাছে পদ-পদবী কামনা করতে গিয়েই দেখা যায় সে মিথ্যায় লিপ্ত হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى البرّ، وَإِنَّ البِرَّ يَهْدِي إِلَى الجَنَّةِ وَإِنَّ الكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الفُجُورِ، وَإِنَّ الفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ
“সততা মানুষকে সৎকাজের পথ প্রদর্শন করে আর সৎকাজ জান্নাতে নিয়ে যায়। মিথ্যা মানুষকে পাপাচারের পথ প্রদর্শন করে। আর পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে যায়।”[৭১]

টিকাঃ
[৭১] সহীহ বুখারি: ৬০৯৪

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 কৃপণতা করা

📄 কৃপণতা করা


মানুষের একটি মনোরোগ হলো কৃপণতা করা। এটি দুনিয়ার প্রতি আসক্তি থেকে সৃষ্ট। একে দূর করতে হলে এই কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে যে, দুনিয়া অতি নগণ্য বস্তু। এটি একসময় ধ্বংস হয়ে যাবে। দুনিয়ার হালাল বস্তুসমূহের হিসাব নেওয়া হবে। হারাম বস্তুসমূহের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে।
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন,
حُبُّ الدُّنْيَا رَأْسُ كُلِّ خَطِيئَةٍ
“দুনিয়ার ভালোবাসা সকল পাপের উৎস।”[৭২]
আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে জানিয়েছেন,
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
“দুনিয়ার জীবন হলো কেবলই ধোকার বস্তু।”[৭৩]
সুতরাং দুনিয়ার ব্যাপারে কৃপণতা করবেন না। বরং দান-খায়রাত করতে সচেষ্ট থাকবেন। নিজ সময়ের প্রয়োজন মিটানোর জন্য যতোটুকু পরিমাণ দরকার ঠিক ততোটুকু জিনিসই রাখবেন। কারণ নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
أَنْفِقْ يَا بِلَالُ، وَلَا تَخْشَ مِنْ ذِي الْعَرْشِ إِقْلَالًا
'হে বেলাল, তুমি খরচ কোরো এবং আরশের অধিপতির ব্যাপারে কমিয়ে দেওয়ার ভয় কোরো না।' [৭৪]

টিকাঃ
[৭২] এই হাদীসটির বিশুদ্ধতা নিয়ে হাদীসবিশারদদের মধ্যে বিতর্ক আছে। মোল্লা আলী ক্বারি-রাহিমাহুল্লাহ-এর বক্তব্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো, 'অনেকে এই হাদীসকে জাল বলেছেন। তাদের মধ্যে ইবনু তাইমিয়্যা-রাহিমাহুল্লাহ-ও আছেন। তিনি সুদৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি জুন্দুব বাজালির কথা। ইমাম বাইহাকি তাঁর শুআবুল ঈমান গ্রন্থে এটি হাসান সনদে হাসান বসরি-রাহিমাহুল্লাহ- থেকে মুরসাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনু হাজার আসকালানি-রাহিমাহুল্লাহ-এটি মওযু হবার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। কারণ ইবনুল মাদিনি-রাহিমাহুল্লাহ-হাসান বসরি'র মুরসাল হাদীসের প্রশংসা করেছেন। দাইলামি-রহিমাহুল্লাহ-এই হাদীসকে আলি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনু আবিদ দুনয়া-রাহিমাহুল্লাহ-তাঁর মাকায়িদুস শাইতান গ্রন্থে একে মালিক ইবনু দিনারের বক্তব্য হিসেবে সঙ্কলন করেছেন।' (আল-আসরারুল মারফুআ: ১/৮০) মোটকথা হলো এর বিশুদ্ধতা সন্দেহাতীত নয়। তাই একে নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা হিসেবে নিশ্চিত বিশ্বাস না করা উচিত। তবে কথাটির অর্থ যে সঠিক ও ভালো তাতে কোনো সন্দেহ নাই।
[৭৩] সূরা আল-ইমরান: ১৮৫
[৭৪] শুআবুল ঈমান: ১৩৯৩, হাদীসের মান সহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00