📄 অন্যকে হেয় করা
অনেকে আছে যারা নিজের মুসলিম ভাইদেরকে হেয় করে, তাদের উপর অহংকার ও উদ্ধতভাবে প্রকাশ করে। এর প্রতিকারের পদ্ধতি হলো, বিনয় অবলম্বনে সচেষ্ট হওয়া। মুসলিমদের ইজ্জত-আব্রুর মূল্য দেওয়া।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জবানে বলেছেন,
فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ
"আপনি তাদের মার্জনা করুন। তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করুন এবং কাজেকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।”[৬৪]
জেনে রাখুন, অহংকারই ইবলিশ শয়তানকে বিপদে ফেলেছিলো। কারণ সে দম্ভভরে বলেছিলো,
أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ
“আমি তার (আদম) থেকে উত্তম। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।”[৬৫]
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—কাবার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন,
مَا أَعْظَمَ حُرْمَتَكِ، وَالْمُسْلِمُ أَعْظَمُ حُرْمَةً مِنْكِ، حَرَّمَ اللَّهُ مَالَهُ، وَحَرَّمَ دَمَهُ، وَحَرَّمَ عِرْضَهُ
তোমার সম্মান কতোই না বেশি! অথচ মুমিনের সম্মান আল্লাহর কাছে তোমার থেকেও বেশি। আল্লাহ তাআলা তার সম্পদ, তার রক্ত ও ইজ্জতকে (বিনষ্ট করা) হারাম করেছেন।”[৬৬]
টিকাঃ
[৬৪] সূরা আল ইমরান : ১৫৯
[৬৫] সূরা আ'রাফ: ১২
[৬৬] মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা: ২৭৭৫৪, হাদীসের মান সহীহ।
📄 অলসতায় লিপ্ত হওয়া
মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা হল অলসতায় লিপ্ত হওয়া এবং আদেশ পালন থেকে বিরত থাকা। এর প্রতিকার হলো, এই কথা অন্তরে গেঁথে নেওয়া যে, আদিষ্ট বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। যাতে করে এর মাধ্যমে সে আদেশ পালনে উৎসাহিত হয়।
এমনটিই আমি আমার দাদার কাছ থেকে শুনেছি, কোনো একজন সালাফ বলেছেন, 'আদিষ্ট বিষয়ের প্রতি অলসতা প্রদর্শন মূলত আদেশদাতার পরিচয় সম্পর্কে কম জানার কারণে হয়ে থাকে।'
📄 বাহ্যিক তাকওয়া প্রদর্শন করা
মানুষের আরেকটি সমস্যা হলো সৎলোকদের সাজসজ্জা গ্রহণ করা কিন্তু অসৎ লোকদের কর্মে জড়িয়ে পড়া। এর প্রতিকার হলো বাহ্যিক সাজগোজকে অভ্যন্তরীণ অবস্থার সংশোধনের পরই কেবলমাত্র গ্রহণ করা। যখন কোনো কওমের সাজসজ্জা গ্রহণ করবে তখন চেষ্টা করবে স্বভাব চরিত্রে এবং সকল কাজ-কর্মে তাদের অনুসরণ করে তাদের কর্মপন্থা অনুযায়ী সবকিছু করতে। কারণ হাদীসে এসেছে,
كَفَى بِالْمَرْءِ شَرًّا أَنْ لَا يَكُونَ صَالِحًا، وَهُوَ يَقَعُ فِي الصَّالِحِينَ
“একজন মানুষের নিকৃষ্ট হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে সৎ না হয়েও সৎলোকদের অন্তর্গত হয়।”[৬৭]
আবু ওসমান বলেছেন, 'অন্তরে পাপের সঙ্কল্প রেখে বাহ্যিকভাবে তাকওয়া প্রদর্শন করলে সীমাহীন পাপাচারে লিপ্ত হওয়া আশঙ্কা রয়েছে।'
টিকাঃ
[৬৭] শুআবুল ঈমান: ৬৩৫৮
📄 অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করা
মানুষের একটি আত্মিক ব্যধি হলো দুনিয়ার বিভিন্ন অনর্থক কাজে জড়িয়ে সময় নষ্ট করা এবং এমন কাজ যারা করে তাদের সাথে চলাফেরা করা।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এই কথা জানতে হবে যে, সময় হলো সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু। সুতরাং মূল্যবান কাজকর্মেই তা ব্যয় করা উচিত। এই ধরনের মূল্যবান কাজকর্মের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার যিকির করা, সর্বদা তার অনুগত হওয়া এবং নিজেকে মুখলিস বা একনিষ্ঠ বান্দা হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকা।
রাসূলে কারীম-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে বর্ণিত আছে,
دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
“যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয় তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের আশঙ্কা নেই তাই গ্রহণ কোরো।”[৬৮]
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আরও বলেছেন,
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
“একজন মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের মধ্যে এটাও আছে যে, সে অনর্থক কাজ-কর্ম পরিহার করবে। আর যে অনর্থক কাজ পরিহার করে সে ফলপ্রসূ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।”[৬৯]
হুসাইন ইবনে মনসুর বলেছেন, 'নিজের নফস সম্পর্কে সচেতন থেকো। যদি তুমি তাকে ব্যস্ত না রাখো তাহলে সে তোমাকে ব্যস্ত করে ফেলবে।'
টিকাঃ
[৬৮] সুনান তিরমিযি: ২৫১৮, হাদীসের মান সহীহ।
[৬৯] সুনান তিরমিযি: ২৩১৭, হাদীসের মান হাসান।