📄 মানুষের দোষত্রুটি বলে বেড়ানো
ঘুরে ঘুরে বন্ধু-বান্ধব ও ভাইদের দোষত্রুটি বলে বেড়ানো হলো মানব মনের মন্দ ব্যাধি। এর প্রতিকার হলো, নিজেকে নিয়ে চিন্তা-ফিকির করে অন্যের জন্য ঠিক সেটাই পছন্দ করা যা নিজের জন্য পছন্দনীয় বলে মনে হয়।
রাসূল—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।”[৬৩]
টিকাঃ
[৬৩] সুনান ইবনু মাজাহ: ২৫৪৬
📄 আত্মতুষ্টিতে ভোগা
নিজের কাজকর্মের অগ্রগতিলাভে নিষ্কর্মমনা হওয়া ও বর্তমান অবস্থা-অবস্থান নিয়ে তুষ্টিতে ভোগা হলো অন্তরের মন্দ স্বভাব। এটি পরিবর্তনের জন্য সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজকর্মে অগ্রগতিলাভে সচেষ্ট হতে হবে।
আলি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, যে ব্যক্তির কাজকর্মে অগ্রগতি নাই সে ক্ষতিগ্রস্ত।
📄 অন্যকে হেয় করা
অনেকে আছে যারা নিজের মুসলিম ভাইদেরকে হেয় করে, তাদের উপর অহংকার ও উদ্ধতভাবে প্রকাশ করে। এর প্রতিকারের পদ্ধতি হলো, বিনয় অবলম্বনে সচেষ্ট হওয়া। মুসলিমদের ইজ্জত-আব্রুর মূল্য দেওয়া।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জবানে বলেছেন,
فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ
"আপনি তাদের মার্জনা করুন। তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করুন এবং কাজেকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।”[৬৪]
জেনে রাখুন, অহংকারই ইবলিশ শয়তানকে বিপদে ফেলেছিলো। কারণ সে দম্ভভরে বলেছিলো,
أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ
“আমি তার (আদম) থেকে উত্তম। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।”[৬৫]
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—কাবার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন,
مَا أَعْظَمَ حُرْمَتَكِ، وَالْمُسْلِمُ أَعْظَمُ حُرْمَةً مِنْكِ، حَرَّمَ اللَّهُ مَالَهُ، وَحَرَّمَ دَمَهُ، وَحَرَّمَ عِرْضَهُ
তোমার সম্মান কতোই না বেশি! অথচ মুমিনের সম্মান আল্লাহর কাছে তোমার থেকেও বেশি। আল্লাহ তাআলা তার সম্পদ, তার রক্ত ও ইজ্জতকে (বিনষ্ট করা) হারাম করেছেন।”[৬৬]
টিকাঃ
[৬৪] সূরা আল ইমরান : ১৫৯
[৬৫] সূরা আ'রাফ: ১২
[৬৬] মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা: ২৭৭৫৪, হাদীসের মান সহীহ।
📄 অলসতায় লিপ্ত হওয়া
মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা হল অলসতায় লিপ্ত হওয়া এবং আদেশ পালন থেকে বিরত থাকা। এর প্রতিকার হলো, এই কথা অন্তরে গেঁথে নেওয়া যে, আদিষ্ট বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। যাতে করে এর মাধ্যমে সে আদেশ পালনে উৎসাহিত হয়।
এমনটিই আমি আমার দাদার কাছ থেকে শুনেছি, কোনো একজন সালাফ বলেছেন, 'আদিষ্ট বিষয়ের প্রতি অলসতা প্রদর্শন মূলত আদেশদাতার পরিচয় সম্পর্কে কম জানার কারণে হয়ে থাকে।'