📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 আল্লাহর হককে গুরুত্ব না দেওয়া

📄 আল্লাহর হককে গুরুত্ব না দেওয়া


পাপাচার করা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার ছাড় দেওয়াকে গুরুত্ব না দেওয়া খুবই খারাপ বিষয়। এর সংশোধনের জন্য সবসময় আল্লাহকে ভয় করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
মনে রাখবেন, এই ছাড় আসলে ছাড় নয়। আল্লাহ তাআলা অবশ্যই এই বিষয়ে অদূর ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসার কাঠগড়ায় দাড় করাবেন এবং এর প্রতিবিধান করবেন। তবে হ্যাঁ, যার প্রতি তিনি দয়াপরবশ হবেন তার কথা ভিন্ন।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةٌ لِمَنْ يَخْشَى
"নিশ্চয়ই তাতে শিক্ষা রয়েছে তাদের জন্য, যারা ভয় করে।”[৬২]
কবি বলেছেন,
غرها إمهال خَالِقهَا لَها ... لا تحسبن إمهالها إهمالها
স্রষ্টার ছাড় তাকে বানিয়েছে বোকা
এই ছাড়ে যেন সে না খায় ধোঁকা।

টিকাঃ
[৬২] সূরা নাযিআত : ২৬

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 মানুষের দোষত্রুটি বলে বেড়ানো

📄 মানুষের দোষত্রুটি বলে বেড়ানো


ঘুরে ঘুরে বন্ধু-বান্ধব ও ভাইদের দোষত্রুটি বলে বেড়ানো হলো মানব মনের মন্দ ব্যাধি। এর প্রতিকার হলো, নিজেকে নিয়ে চিন্তা-ফিকির করে অন্যের জন্য ঠিক সেটাই পছন্দ করা যা নিজের জন্য পছন্দনীয় বলে মনে হয়।
রাসূল—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।”[৬৩]

টিকাঃ
[৬৩] সুনান ইবনু মাজাহ: ২৫৪৬

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 আত্মতুষ্টিতে ভোগা

📄 আত্মতুষ্টিতে ভোগা


নিজের কাজকর্মের অগ্রগতিলাভে নিষ্কর্মমনা হওয়া ও বর্তমান অবস্থা-অবস্থান নিয়ে তুষ্টিতে ভোগা হলো অন্তরের মন্দ স্বভাব। এটি পরিবর্তনের জন্য সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজকর্মে অগ্রগতিলাভে সচেষ্ট হতে হবে।
আলি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, যে ব্যক্তির কাজকর্মে অগ্রগতি নাই সে ক্ষতিগ্রস্ত।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 অন্যকে হেয় করা

📄 অন্যকে হেয় করা


অনেকে আছে যারা নিজের মুসলিম ভাইদেরকে হেয় করে, তাদের উপর অহংকার ও উদ্ধতভাবে প্রকাশ করে। এর প্রতিকারের পদ্ধতি হলো, বিনয় অবলম্বনে সচেষ্ট হওয়া। মুসলিমদের ইজ্জত-আব্রুর মূল্য দেওয়া।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জবানে বলেছেন,
فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ
"আপনি তাদের মার্জনা করুন। তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করুন এবং কাজেকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।”[৬৪]
জেনে রাখুন, অহংকারই ইবলিশ শয়তানকে বিপদে ফেলেছিলো। কারণ সে দম্ভভরে বলেছিলো,
أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ
“আমি তার (আদম) থেকে উত্তম। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।”[৬৫]
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—কাবার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন,
مَا أَعْظَمَ حُرْمَتَكِ، وَالْمُسْلِمُ أَعْظَمُ حُرْمَةً مِنْكِ، حَرَّمَ اللَّهُ مَالَهُ، وَحَرَّمَ دَمَهُ، وَحَرَّمَ عِرْضَهُ
তোমার সম্মান কতোই না বেশি! অথচ মুমিনের সম্মান আল্লাহর কাছে তোমার থেকেও বেশি। আল্লাহ তাআলা তার সম্পদ, তার রক্ত ও ইজ্জতকে (বিনষ্ট করা) হারাম করেছেন।”[৬৬]

টিকাঃ
[৬৪] সূরা আল ইমরান : ১৫৯
[৬৫] সূরা আ'রাফ: ১২
[৬৬] মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা: ২৭৭৫৪, হাদীসের মান সহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00