📄 সংশোধিত হওয়ার ভান ধরা
মানব মনের একটি রোগ হলো সংশোধিত হওয়ার ভান ধরা। অথচ আন্তরিকভাবে সে সংশোধনের প্রতি কোনো প্রণোদনা অনুভব করে না। এর প্রতিষেধক হলো অভ্যন্তরীণভাবে নিজের ভেতর যতোটুকু সংশোধন রয়েছে বাহ্যিকভাবে ঠিক ততোটুকুই জাহের করা। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
المُتَشَبِّعُ بِمَا لَمْ يُعْطَ كَلَابِسِ تَوْتِيْ زُورٍ
“না পেয়েও পাওয়ার ভানকারী ব্যক্তি মিথ্যাচারের দুইটি পোশাক পরিধানকারীর মতোই।”[৬১]
টিকাঃ
[৬১] সহীহ বুখারি: ৫২১৯, সহীহ মুসলিম: ২১৩০
📄 আল্লাহর হককে গুরুত্ব না দেওয়া
পাপাচার করা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার ছাড় দেওয়াকে গুরুত্ব না দেওয়া খুবই খারাপ বিষয়। এর সংশোধনের জন্য সবসময় আল্লাহকে ভয় করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
মনে রাখবেন, এই ছাড় আসলে ছাড় নয়। আল্লাহ তাআলা অবশ্যই এই বিষয়ে অদূর ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসার কাঠগড়ায় দাড় করাবেন এবং এর প্রতিবিধান করবেন। তবে হ্যাঁ, যার প্রতি তিনি দয়াপরবশ হবেন তার কথা ভিন্ন।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةٌ لِمَنْ يَخْشَى
"নিশ্চয়ই তাতে শিক্ষা রয়েছে তাদের জন্য, যারা ভয় করে।”[৬২]
কবি বলেছেন,
غرها إمهال خَالِقهَا لَها ... لا تحسبن إمهالها إهمالها
স্রষ্টার ছাড় তাকে বানিয়েছে বোকা
এই ছাড়ে যেন সে না খায় ধোঁকা।
টিকাঃ
[৬২] সূরা নাযিআত : ২৬
📄 মানুষের দোষত্রুটি বলে বেড়ানো
ঘুরে ঘুরে বন্ধু-বান্ধব ও ভাইদের দোষত্রুটি বলে বেড়ানো হলো মানব মনের মন্দ ব্যাধি। এর প্রতিকার হলো, নিজেকে নিয়ে চিন্তা-ফিকির করে অন্যের জন্য ঠিক সেটাই পছন্দ করা যা নিজের জন্য পছন্দনীয় বলে মনে হয়।
রাসূল—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।”[৬৩]
টিকাঃ
[৬৩] সুনান ইবনু মাজাহ: ২৫৪৬
📄 আত্মতুষ্টিতে ভোগা
নিজের কাজকর্মের অগ্রগতিলাভে নিষ্কর্মমনা হওয়া ও বর্তমান অবস্থা-অবস্থান নিয়ে তুষ্টিতে ভোগা হলো অন্তরের মন্দ স্বভাব। এটি পরিবর্তনের জন্য সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজকর্মে অগ্রগতিলাভে সচেষ্ট হতে হবে।
আলি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, যে ব্যক্তির কাজকর্মে অগ্রগতি নাই সে ক্ষতিগ্রস্ত।