📄 কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করা
কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করা, তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া এবং তার চাওয়া-পাওয়ার বাস্তবায়ন করা হলো মানুষের অন্যতম মনোরোগ। এটি দূর করার তরীকা হলো সেটা, যা আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন যে,
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى
“যে ব্যক্তি স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করবে এবং নিজেকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বারণ করবে জান্নাতই হবে তার বাসস্থান।”[৫৭]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةُ بِالسُّوءِ
“নিশ্চয়ই প্রবৃত্তি মন্দ বিষয়ের আদেশদাতা।” [৫৮]
মুদর আল-ক্বারি বলেছেন, 'প্রবৃত্তি যখন অন্তরের ভেতর শেকড় গেঁড়ে বসে তখন তার বিরোধিতা করা নখ দিয়ে পাহাড় খোদাই করার চেয়েও কঠিন হয়ে যায়।'
টিকাঃ
[৫৭] সূরা নাযিআত: ৪০-৪১
[৫৮] সূরা ইউসুফ: ৫৩
📄 অন্যের সঙ্গ কামনা করা
চিরকাল আত্মীয়-স্বজন ও ভাই-বেরাদারদের সঙ্গ পাওয়া ও তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকার কামনা করে থাকেন অনেকে। অথচ যে-কোনো সঙ্গীকেই কোনো না কোনো সময় ছেড়েই যেতে হয়। সব ধরনের ঘনিষ্ঠতা এক সময় না এক সময় ছিন্ন হয়ে যায়। যেমন বর্ণিত আছে যে, জিবরীল—আলাইহিস সালাম-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলেছিলেন,
يَا مُحَمَّدُ، أَحْبِبْ مَنْ شِئْتَ فَإِنَّكَ مُفَارِقُهُ، وَاعْمَلْ مَا شِئْتَ فَإِنَّكِ مَجْزِيٌّ بِهِ، وَعِشْ مَا شِئْتَ فَإِنَّكَ مَيِّتٌ، وَاعْلَمْ أَنَّ شَرَفَ الْمُؤْمِنِ قِيَامُهُ بِاللَّيْلِ وَعِزَّهُ اسْتِغْنَاؤُهُ عَنِ النَّاسِ
“হে মুহাম্মাদ, যাকে ইচ্ছা ভালোবেসে নিন। কারণ (একসময়) তাকে আপনার ছাড়তে হবে। যা ইচ্ছা হয় আমল করে নিন। কারণ আপনাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে। যতোটুকু ইচ্ছা জীবনযাপন করে নিন। কারণ আপনাকে মরতে হবে। জেনে রাখুন, মুমিনের মর্যাদা (ইবাদাতের মাধ্যমে) রাত্রিজাগরণের দ্বারা নির্ণীত হয়ে থাকে। এবং মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়ার দ্বারা তার সম্মান নির্ধারণ হয়ে থাকে।”[৫৯]
আবুল কাসিম আল-হাকীম বলেছেন,
'বন্ধুত্বের মাঝে শত্রুতা লুকিয়ে থাকে। তবে যা আন্তরিকতার সাথে হয় তা ভিন্ন। সম্পদ সঞ্চয়ের মাঝে আফসোস লুকিয়ে থাকে। তবে যা অন্যের উপকারার্থে হয় তা ভিন্ন। আর মানুষের সাথে মেলামেশার ভেতর ক্ষতি লুকিয়ে থাকে। তবে যে মেলামেশা শিক্ষার জন্য হয় তা ভিন্ন।'
টিকাঃ
[৫৯] বাইহাকি, শুআবুল ঈমান: ১০০৫৮, হাদীসের মান সহীহ (সিলসিলা সহীহা : ৮৩১)।
📄 নিজের আমলকে ভালো মনে করা
নিজের ইবাদাত-বন্দেগিকে পছন্দ করা ও নিজেকে ভালো মনে করা অনেকের বদ স্বভাব। এর প্রতিকার হলো, এই বিষয়ে অবগত থাকা যে, তার আমলসমূহ ইখলাসপূর্ণ হলেও তা শঙ্কামুক্ত নয়। আর নিজের কাজকর্ম ও আমলসমূহকে দারুণ মনে করা পরিহার করার মাধ্যমেই মূলত প্রকৃত ইখলাস অর্জিত হয়ে থাকে।
📄 অন্তরকে মৃত বানিয়ে ফেলা
প্রবৃত্তির অনুসরণ করার মাধ্যমে অন্তরের মৃত্যু ঘটানো হলো মানুষের একটি মানবীয় রোগ। প্রবৃত্তি যখন কারও ভেতর বাসা বাঁধে তখন তার অন্তর ইবাদাত-বন্দেগি ও আনুগত্যের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। এটাকে রোধ করার জন্য প্রবৃত্তির খাহেশ পূরণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে এবং যেসব ভালো কাজ করতে অন্তর সায় দেয় না নিজেকে সেসব কাজে জড়াতে হবে। সেই সাথে সবসময়ই প্রবৃত্তির বিরোধিতায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। এসবের ভেতর দিয়েই দেখা যাবে ধীরেধীরে কুপ্রবৃত্তির মৃত্যু ঘটবে।
আবু হাফসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, 'কীভাবে অন্তরকে সংশোধন করা সম্ভব?' তিনি জানালেন, 'কুপ্রবৃত্তির বিরোধিতা করার মাধ্যমে। কারণ এটি হলো সকল আপদের কেন্দ্রস্থল।'