📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 নিজের প্রতি অতিমাত্রায় যত্নশীল হওয়া

📄 নিজের প্রতি অতিমাত্রায় যত্নশীল হওয়া


নিজের প্রতি অতিমাত্রায় যত্নশীল হওয়া ও অধিকহারে নিজের দেখভালে নিয়োজিত হয়ে পড়াও একটি আত্মিক রোগ। এর সংশোধনকল্পে নিজের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া ও নিজেকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত হওয়া পরিহার করতে হবে। আমি আমার দাদাকে এমনই বলতে শুনেছি। তিনি বলতেন, 'যে নিজেকে নিজে সম্মানীত মনে করে তার কাছে স্বীয় দ্বীন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।'

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 প্রতিশোধ প্রবণতা

📄 প্রতিশোধ প্রবণতা


প্রতিশোধ প্রবণতা ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া এবং ক্রোধে আক্রান্ত হওয়াটাও মানুষের একধরনের মনোরোগ। এর চিকিৎসা হলো, নিজের এমন ইচ্ছাগুলোর সাথে বৈরিতা রাখা ও বিদ্বেষ পোষণ করা। প্রতিশোধ নিতে হলে কেবল দ্বীনের খাতিরে তা করার মানসিকতা তৈরি করা। নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ক্রোধকে ব্যবহার করা। যেমন রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ে কখনোই প্রতিশোধ নিতেন না। তবে যদি আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে কেউ ব্যত্যয় ঘটাতো, তবে তা ছিলো ব্যতিক্রম। তাঁর প্রতিশোধ নেওয়াটাও ছিলো কেবলই আল্লাহর ওয়াস্তে।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 অভ্যন্তরীণ দোষত্রুটির ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপ না করা

📄 অভ্যন্তরীণ দোষত্রুটির ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপ না করা


লোক দেখানোর জন্য নিজের বাহ্যিক বিষয়গুলো সংশোধনে ব্রতী হওয়া এবং আল্লাহর কাছে লক্ষণীয় ও সংশোধনের অধিক উপযুক্ত অভ্যন্তরীণ দোষত্রুটির প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করাটা হলো মনের অন্যতম ব্যাধি। এই ব্যাধি দূর করার জন্য দৃঢ়ভাবে একথা বিশ্বাস করতে হবে যে, মানুষজন তাকে ঠিক ততোটুকুই সম্মান করবে যতোটুকু সম্মান করার কথা আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরে গেঁথে দিয়েছেন। পাশাপাশি এ কথাও জেনে নিতে হবে যে, অভ্যন্তরীণ অবস্থাটাই হলো আল্লাহর কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়। সুতরাং বাহ্যিক অবস্থা, যা কি-না মানুষের কাছে বিবেচ্য বিষয়, তার তুলনায় অভ্যন্তরীণ সংশোধনটাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর নজরদারি করেন।” [৪৭]
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ইরশাদ করেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ، وَأَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَى أَعْمَالِكُمْ، وَقُلُوبِكُمْ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের চেহারা-সুরত ও ধন-সম্পদের প্রতি লক্ষ করেন না। তিনি লক্ষ করেন তোমাদের আমল ও অন্তরের প্রতি।[৪৮]

টিকাঃ
[৪৭] সূরা নিসা: ০১
[৪৮] সুনান ইবনু মাজাহ: ৪১৪৩, হাদীসের মান সহীহ।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 রিযিক নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগা

📄 রিযিক নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগা


রিযিক নিয়ে মানুষ খুব বেশি দুশ্চিন্তায় ভোগে। একটাও একটা মনোরোগ। অথচ আল্লাহ তাআলা তার জন্য রিযিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অপর দিকে সে আমলের ব্যাপারে উদাসীন। অথচ আল্লাহ এর দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত করেছেন। অন্য কেউ সেটা তার জন্য করে দিলেও হবে না। এই বিষয়টি সংশোধনের জন্য এই কথা জেনে নিতে হবে যে, যেই আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন তিনি তার রিযিকের দায়িত্বভারও গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন,
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ
“তিনি সেই আল্লাহ, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন অতপর তোমাদের রিযিক দান করেছেন। "[৪৯]
সুতরাং আল্লাহর সৃষ্টির ব্যাপারে মানুষ যেমন কোনো সন্দেহ করে না তেমনি (আল্লাহ প্রদত্ত) রিযিকের ব্যাপারেও তার কোনোরূপ সন্দেহ না থাকা উচিত。
আমি মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহকে হাতেম আল-আসম্ম এর সূত্রে বলতে শুনেছি, প্রতিদিন সকালে শয়তান আমাকে জিজ্ঞেস করে, 'আজকে তুমি কী খাবে, কী পরবে আর কোথায় থাকবে?' আমি উত্তরে বলি, 'আমি মরণ খাবো, কাফন পরবো আর কবরে থাকবো।'

টিকাঃ
[৪৯] সূরা রুম: ৪০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00