📄 ঘরবাড়ি বানানোর নেশা
দুনিয়ার বুকে অধিকহারে ঘরবাড়ি বানানোর নেশা অনেকের বদ-স্বভাব। এর প্রতিকারের জন্য আগে বুঝে নিতে হবে যে, দুনিয়া কোনো স্থায়ী ঠিকানা নয়। বরং আখিরাত হলো তার স্থায়ী ঠিকানা। বুদ্ধিমান তো সে, যে স্থায়ী বাসস্থানের জন্য কাজ করে। সাময়িক বিরতিস্থলের জন্য নয়। কারণ সাময়িক বিরতিস্থল একসময় আপনি ছেড়ে আসবেন। কিন্তু স্থায়ী আবাসস্থল রয়ে যাবে। তাই যে আবাসস্থলে আপনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে থাকবেন তার জন্যই তো আমল করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةً وَتَفَاخُرُ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرُ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ
“নিশ্চয়ই দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র।” [৪৪]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى
"এবং আখিরাতই হলো উত্তম ও স্থায়ী। "[৪৫]
তিনি অন্যত্র বলেন,
وَلَلدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ
“নিশ্চয়ই আখিরাতের আবাসস্থল মুত্তাকীদের জন্য উত্তম।”[৪৬]
টিকাঃ
[৪৪] সূরা হাদীদ: ২০
[৪৫] সূরা আ'লা: ১৭
[৪৬] সূরা আনআম : ৩২
📄 নিজের কাজকে ভালো মনে করা
নিজের কাজকে ভালো মনে করা এবং তার বিপরীত যে কাজ করে তাকে মন্দ মনে করাও একটি বদ স্বভাব। এটাকে পরিবর্তন করতে নিজের নফসকে দোষারোপ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ নফস সাধারণত মন্দ কাজের আদেশ করে থাকে। পাশাপাশি অন্যদের প্রতি সুধারণা রাখতে হবে। যেহেতু শেষ পরিণতিফল সুনিশ্চিতভাবে কারও জানা নেই।
📄 নিজের প্রতি অতিমাত্রায় যত্নশীল হওয়া
নিজের প্রতি অতিমাত্রায় যত্নশীল হওয়া ও অধিকহারে নিজের দেখভালে নিয়োজিত হয়ে পড়াও একটি আত্মিক রোগ। এর সংশোধনকল্পে নিজের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া ও নিজেকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত হওয়া পরিহার করতে হবে। আমি আমার দাদাকে এমনই বলতে শুনেছি। তিনি বলতেন, 'যে নিজেকে নিজে সম্মানীত মনে করে তার কাছে স্বীয় দ্বীন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।'
📄 প্রতিশোধ প্রবণতা
প্রতিশোধ প্রবণতা ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া এবং ক্রোধে আক্রান্ত হওয়াটাও মানুষের একধরনের মনোরোগ। এর চিকিৎসা হলো, নিজের এমন ইচ্ছাগুলোর সাথে বৈরিতা রাখা ও বিদ্বেষ পোষণ করা। প্রতিশোধ নিতে হলে কেবল দ্বীনের খাতিরে তা করার মানসিকতা তৈরি করা। নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ক্রোধকে ব্যবহার করা। যেমন রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ে কখনোই প্রতিশোধ নিতেন না। তবে যদি আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে কেউ ব্যত্যয় ঘটাতো, তবে তা ছিলো ব্যতিক্রম। তাঁর প্রতিশোধ নেওয়াটাও ছিলো কেবলই আল্লাহর ওয়াস্তে।