📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 অতিমাত্রায় আকাঙ্ক্ষা করা

📄 অতিমাত্রায় আকাঙ্ক্ষা করা


অতিমাত্রায় আকাঙ্ক্ষা করাও একটি মন্দ স্বভাব। আকাঙ্ক্ষার আধিক্যতা মানে হলো, আল্লাহর নির্ধারিত সিদ্ধান্তে ও বিচারে আপত্তি তোলা। এর প্রতিকারের পদ্ধতি হলো, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা যে, অতি আকাঙ্ক্ষার পরিণতি ফল ভালো হবে না মন্দ, পছন্দনীয় হবে না অপছন্দনীয় সেটা তার জানা নেই। তো অতি আকাঙ্ক্ষার পরিণতি ফল তার অজানা-এ কথা বোঝার পর এমনিতেই সে একে পরিহার করবে এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তা মেনে নেওয়ার প্রতি ধাবিত হবে। দেখা যাবে এর কারণে সে একসময় আত্মিক প্রশান্তি লাভ করবে।
এই কারণেই আল্লাহর নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
إِذَا تَمَنَّى أَحَدُكُمْ، فَلْيَنْظُرْ مَا يَتَمَنَّى ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي مَا يُكْتَبُ لَهُ مِنْ أُمْنِيَّتِهِ
“যখন তোমাদের কেউ কোনো আকাঙ্ক্ষা করবে, সে যেন ভালো করে দেখে নেয় যে কীসের আকাঙ্ক্ষা করছে। কারণ তোমাদের কেউ জানে না তার কোন আশাটি ভাগ্যে লেখা আছে।”[৩৮]
অন্য আরেক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেছেন,
لَا يَتَمَنَّيْنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ، فَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ مُتَمَنِّيًا فَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي
“ক্ষতিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তোমাদের কেউ যাতে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। যদি তাকে আকাঙ্ক্ষা করতেই হয় তবে যেন বলে-হে আল্লাহ, আমাকে ততোদিন বাঁচিয়ে রাখো যতোদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর। এবং আমাকে তখন মৃত্যু দাও যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর।”[৩৯]

টিকাঃ
[৩৮] মুসনাদ আহমাদ: ৮৬৮৯; হাদীসের মান যঈফ। কারণ এটি উমার বিন আবু সালামাহ এর একক বর্ণনা। আর তিনি যখন এককভাবে কোনো কিছু বর্ণনা করেন তখন তা যঈফ বলে গণ্য হয়। (দেখুন: শুয়াইব আল-আরনাউত এর তাহকীককৃত মুসনাদ আহমাদ, ১৪/৩১৬)।
[৩৯] সহীহ মুসলিম: ২৬৮০; মুসনাদ আহমাদ: ১১৯৭৯

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 অনর্থক বিষয়ে লিপ্ত হওয়া

📄 অনর্থক বিষয়ে লিপ্ত হওয়া


মানুষের একটি মন্দ অভ্যাস হলো, দুনিয়াবি বিষয়ে এবং মানুষের সাথে অতি কথনে নিমগ্ন হওয়া। এর প্রতিকার হলো, সবসময়ই আল্লাহর যিকিরে নিমগ্ন থাকা। যাতে করে দুনিয়া, দুনিয়ার মানুষজন ও দুনিয়াবি ব্যস্ততার কথা তার তেমন স্মরণে না আসে। সেই সাথে এটাও মনে রাখা যে, এসবই হলো অনর্থক ও ফায়দাহীন কাজ। সুতরাং তা পরিহার করাই উচিত। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-বলেছেন,
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
'ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে সে অনর্থক বিষয় পরিহার করবে।' [৪০]

টিকাঃ
[৪০] সুনান তিরমিযি: ২৩১৭; সুনান ইবনু মাজাহ : ৩৯৭৬; মুসনাদ আহমাদ: ১৭৩৭। হাদীসের মান সহীহ

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 লৌকিকতা প্রদর্শন করা

📄 লৌকিকতা প্রদর্শন করা


ইবাদাত-বন্দেগিতে লৌকিকতা প্রদর্শন করা হলো মানুষের আরেকটি রোগ। এমনটা করার কারণ হলো যাতে করে অন্যরা তার ইবাদাত-বন্দেগির কথা জানতে পারে এবং তার কাজকর্মগুলো প্রত্যক্ষ করে। ফলে মানুষের কাছে তার আলাদা একটা অবস্থান তৈরি হবে। এটি দূর করতে হলে এই কথা মনে গেঁথে নিতে হবে যে, তার লাভ-ক্ষতির কোনো বিষয়ই সৃষ্টিজীবের কাছে অর্পিত হয়নি। সুতরাং এই ত্রুটি দূর করতে তার উচিত নিজের ইবাদাত-আমলে ইখলাস বা আল্লাহ-নিষ্ঠতা আনয়নের চেষ্টা করা। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ
“তাদেরকে কেবল এই বিষয়েরই আদেশ করা হয়েছে যে, তারা দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে আল্লাহর ইবাদাত করবে।”[৪১]
নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-হাদীসে কুদসিতে স্বীয় রব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন,
مَنْ عَمِلَ لِي عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ غَيْرِي، فَأَنَا مِنْهُ بَرِيءٌ، وَهُوَ لِلَّذِي أَشْرَكَ
"যে ব্যক্তি আমার জন্য এমন কোনো আমল করলো, যাতে সে অন্য কাউকে আমার সাথে শরীক করলো তাহলে আমি তার থেকে মুক্ত। সে কাজ তার জন্য যাকে সে শরীক করেছে।”[৪২]

টিকাঃ
[৪১] সূরা বাইয়িনাহ: ০৫
[৪২] সুনান ইবনু মাজাহ: ৪২০২, হাদীসের মান সহীহ

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 লোভ-লালসার শিকার হওয়া

📄 লোভ-লালসার শিকার হওয়া


লোভ-লালসা হলো মানুষের অন্যতম আত্মিক রোগ। এটি দূর করার তরিকা হলো এই বিষয়ে সচেতন হওয়া যে, লোভ তাকে দুনিয়ার ভেতর প্রবিষ্ট করে দিবে এবং ইবাদাতের মজা ভুলিয়ে দিবে। সেই সাথে তাকে মানুষের গোলামও বানিয়ে দিবে। অথচ আল্লাহ তাআলা তাকে তাদের গোলামি থেকে মুক্ত করে সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-লোভ থেকে পানাহ চেয়েছেন। তিনি বলেছেন,
اسْتَعِيدُوا بِاللَّهِ مِنْ طَمَع يَهْدِي إِلَى طَبْعِ، وَمِنْ طَمَع فِي غَيْرِ مَطْمَع
(হে আল্লাহ,) আমি তোমার কাছে পানাহ চাই এমন লোভ থেকে, যা হৃদয়কে মোহাবিষ্ট করার দিকে নিয়ে যায়। এবং এমন লালসা থেকেও তোমার আশ্রয় চাই, যেখানে লালসা করার মতো কিছু নেই।[৪৩]
এটি এমন লোভ, যা মানুষের অন্তরে গেঁথে গিয়ে তাকে দুনিয়ার প্রতি প্রলুব্ধ করে এবং আখিরাত থেকে বিমুখ করে। একজন সালাফ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, 'লোভ হলো উপস্থিত দরিদ্রতা। লোভগ্রস্থ ধনী ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে দরিদ্র। আর লোভমুক্ত দরিদ্র ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে ধনী।'
আল্লাহ তাআলা (হাদীসে কুদসিতে) বলেছেন, 'আমি কোনো সৃষ্টিজীবকে অন্য সৃষ্টিজীবের দায়িত্বে ঠিক ততোটুকুই অর্পণ করি যতোটুকু সে অন্যের থেকে আশা করে। যদি সে আমি ছাড়া অন্য কারও কাছে কিছু প্রত্যাশা না করতো তবে আমি এক সৃষ্টিজীবকে অন্য সৃষ্টিজীবের দায়িত্বে কখনো অর্পণ করতাম না।'
কবি বলেছেন,
أتطمع في ليلى وتعلم إنَّما ... تقطع أَعْنَاقِ الرِّجَال المطامع
লায়লাকে পাবার লোভ করছো তুমি
অথচ লোভ-লালসা কাটে গলা
সেই কথা জানো তুমি।
আরেক কবি বলেছেন,
أطعت مطامعي فاستعبدتني ... ولوأني قتعت لكنت حرا
লোভের পিছে ছুটে আমি
হলাম অন্যের অধীন,
নয়তো এখন হতাম আমি
পুরোপুরি স্বাধীন।

টিকাঃ
[৪৩] মুসনাদ আহমাদ: ২২০২১; হাদীসের মান যঈফ (সিলসিলা যঈফা: ১৩৭৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00