📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 প্রত্যেক আমলেরই প্রতিদান তলব করা

📄 প্রত্যেক আমলেরই প্রতিদান তলব করা


যে-কোনো আমল করেই তার প্রতিদান তলব করা কোনো ভালো গুণ নয়। এর প্রতিষেধক হলো, আমল করার ক্ষেত্রে নিজের কমতি ও ইখলাসহীনতার কথা মাথায় রাখা। যারা জ্ঞানী হয় তারা শিষ্টাচারবশত নিজ আমলের প্রতিদান তলব করাকে পরিহার করে। কারণ তারা জানে, আল্লাহ তাআলা একটি পরিমাণ নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। আর তিনি যা নির্দিষ্ট করেছেন, দুনিয়া বা আখিরাতে তা বান্দা অবশ্যই লাভ করবে।

টিকাঃ
[২৫] ইবনু আবিদ দুনয়া, আল-ইখলাস ওয়ান নিয়‍্যাহ ৫৪ পৃষ্ঠা। মূল কিতাবে এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে, যা সঠিক নয়।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 ইবাদাতের স্বাদ হারিয়ে ফেলা

📄 ইবাদাতের স্বাদ হারিয়ে ফেলা


মানুষ অনেক সময় ইবাদাতের স্বাদ হারিয়ে ফেলে। এটা হয় অন্তরের ব্যাধি আর মনের অসুখের কারণে। এটি ফিরে পাওয়ার উপায় হচ্ছে, হালাল খাদ্য ভক্ষণ করা। সর্বদা যিকির করা। নেককার লোকদের খিদমত করা এবং তাদের সংস্পর্শে যাওয়া। ইবাদাতের স্বাদ ফিরে পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা। যাতে করে তিনি অন্তরের অন্ধকার ব্যাধি দূর করে এই রোগের নিরাময় করেন। এর দ্বারা বান্দা ইবাদাতের স্বাদ পুনরায় ফিরে পাবে।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 অলসতায় আক্রান্ত হওয়া

📄 অলসতায় আক্রান্ত হওয়া


অলসতায় আক্রান্ত হওয়াও মানুষের একটি বড় মনোরোগ। এর উৎপত্তি পরিতৃপ্তি থেকে হয়ে থাকে। কারণ মানুষ যখন পরিতৃপ্তি (সহযোগে আহার করে) তখন শক্তিশালী হয়। আর যখন সে শক্তিশালী হয় তখন তার নফসেরও জোর বেড়ে যায়। নফসের জোর বেড়ে গেলে অন্তর নফসের ইচ্ছাশক্তি বাস্তবায়নে তৎপর হয়। এর প্রতিকার হলো নিজেকে ক্ষুধার্ত রাখা। কারণ যখন কেউ ক্ষুধার্ত থাকে তখন নফস দুর্বল হয়ে পড়ে। আর নফস দুর্বল হয়ে পড়লে অন্তর তার উপর প্রতিপত্তি লাভ করে। নফসের উপর অন্তরের প্রতিপত্তি লাভ হলে সে তাকে ইবাদাত-বন্দেগিতে লিপ্ত করতে পারে এবং তার থেকে অলসতার চাদরকে সরিয়ে দিতে পারে। এই কারণেই রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—বলেছেন,
مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ. بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلاَتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ، فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ فَثُلُثُ لِطَعَامِهِ وَثُلُثُ لِشَرَابِهِ وَثُلُثُ لِنَفَسِهِ.
“মানুষ পেট থেকে অধিক নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে এমন কয়েক লোকমাই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন হলে পাকস্থলীর এক তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।”[২৬]

টিকাঃ
[২৬] তিরমিযি : ২৩৮০, হাদীসের মান সহীহ; মুসনাদ আহমাদ: ১৭১৮৬। ক্ষুধা যে নফসকে ঠিক করে এবং মন্দ প্রবণতা থেকে অন্তরকে রক্ষা করে হাদীসের ভাষ্য থেকেও তা বুঝে আসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-বলেছেন,
مَنِ اسْتَطَاعَ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجُ ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءُ
“যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে।” (সহীহ বুখারি: ১৯০৫)

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 ইলমের মাধ্যমে দুনিয়া তালাশ করা

📄 ইলমের মাধ্যমে দুনিয়া তালাশ করা


মানুষের আত্মিক আরেকটি রোগ হলো, ইলমকে মাধ্যম বানিয়ে নেতৃত্ব তালাশ করা, অহংকার ও বড়াইয়ের পথে হাঁটা এবং উদ্ধত হওয়া। এর প্রতিকার হলো, এই বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা যে, আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম প্রদান করে স্বীয় হুকুম-আহকামের আধার বানানোর মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। ইলম ও হিকমত প্রদানের যে নিআমত তিনি তাকে দান করেছেন তার কৃতজ্ঞতা যথাযথভাবে সে আদায় করতে পারছে না। বিনয় অবলম্বন করা ও নিজেকে ছোট মনে করা তার অন্যতম কর্তব্য। সৃষ্টিজীবের প্রতি দয়া এবং তাদের প্রতি কল্যাণকামী হওয়া তার দায়িত্ব। কারণ আল্লাহর রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে বর্ণিত আছে,
مَنْ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ، وَيُجَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ، وَيَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ جَهَنَّمَ
“যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে কিংবা মুর্খদের সাথে তর্ক করতে অথবা মানুষের দৃষ্টিকে নিজের দিকে নিবদ্ধ করতে ইলম অন্বেষণ করবে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।”[২৭]
এই কারণেই কোন এক সালাফ বলেছেন, 'যার ইলম বেশি (আল্লাহর প্রতি তার) ভয়ভীতিও বেশি।' কারণ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন,
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
“বান্দাদের মধ্য থেকে আলেমরাই কেবল আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে।”
এক ব্যক্তি শাবি-রাহিমাহুল্লাহ-কে সম্বোধন করলো, 'হে আলেম!' তিনি তখন তাকে বললেন, 'আলেম (প্রকৃতপক্ষে) সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে ভয় করে।'

টিকাঃ
[২৭] সুনান ইবনু মাজাহ: ২৬০; শুয়াবুল ঈমান: ১৬৩৬; সুনান দারেমি: ৩৮৬ হাদীসের মান হাসান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00