📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 অন্যের দোষ তালাশ করা

📄 অন্যের দোষ তালাশ করা


মানুষের একটি বদ স্বভাব হলো, সে নিজের দোষ দেখে না। কেবল অন্যের দোষই তার নজরে পড়ে। এর প্রতিকারের জন্য নিজের দোষ-ত্রুটির প্রতি লক্ষ করতে হবে। সে সম্পর্কে জানতে হবে। প্রবৃত্তির কুট-কৌশলের ব্যাপারে অবগত হতে হবে। ভ্রমণ এবং পর্যটন করা, নেককার লোকদের সংস্পর্শ গ্রহণ করা ও তাদের আদেশ মাথা পেতে মেনে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিজেকে সংশোধনের জন্য এসব পদ্ধতি অবলম্বন করতে যদি না-ও পারে, অন্তত অন্যের দোষ-ত্রুটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দোষী ব্যক্তিকে মায়ুর ও অক্ষম মনে করে তার দোষটা ঢেকে রাখতে হবে। আশা করা যায় এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার নিজের দোষ-ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দিবেন।
আল্লাহর নবি-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-বলেছেন,
مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُসْلِمِ، سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ
“যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের দোষত্রুটি গোপন রাখবে আল্লাহ তাআলা তার দোষ-ত্রুটি আড়াল করে রাখবেন।” [২৩]
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—আরও বলেছেন,
مَنْ تَتَبَّعَ عَوْرَةَ أَخِيهِ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ فِي جَوْفِ بَيْتِهِ
“যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ খুঁজেখুঁজে বের করে, আল্লাহ তাআলা-ও তার দোষ খুঁজেখুঁজে বের করবেন এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে তাকে অপদস্থ করবেন। যদিও সে আপন ঘরের মধ্যস্থলে অবস্থান করে।”[২৪]
আমি মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন সাযানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইবনু ইয়াযদান মাদাঈনিকে বলতে শুনেছি, 'আমি এমন অনেক মানুষকে দেখেছি, যাদের বহু দোষ-ত্রুটি ও মন্দ স্বভাব ছিলো। কিন্তু তারা অন্যদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার ফলে আল্লাহও তাদের দোষ-ত্রুটি গোপন রেখেছেন। অবশেষে এক সময়ে তাদের সেসব দোষ-ত্রুটি ও মন্দ স্বভাব বিদূরিত হয়ে যায়। আবার এমন লোকদেরকেও দেখেছি, যাদের তেমন দোষ-ত্রুটি ও মন্দ স্বভাব ছিলো না। কিন্তু তারা অন্যদের দোষচর্চায় লিপ্ত হবার দরুন নিজেরাও সেসবে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।'

টিকাঃ
[২৩] সুনান ইবনু মাজাহ: ২৫৪৬; হাদীসের মান সহীহ।
[২৪] মুসনাদ আবু ইয়ালা আল-মুওসিলি: ১৬৭৫, হাদীসের মান হাসান; তাছাড়া ইমাম তিরমিযি-রাহিমাহুল্লাহ-ও স্বীয় হাদীস গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তবে সেই বর্ণনাতে ঘরের পরিবর্তে উটের হাওদার কথা বলা হয়েছে (হাদীস নং: ২০৩২)।

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 অলসতা ও ঢিলেমিতে আক্রান্ত হওয়া

📄 অলসতা ও ঢিলেমিতে আক্রান্ত হওয়া


মানুষের মন্দ স্বভাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অলসতায় আক্রান্ত হওয়া, ঢিলেমি করা, সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হওয়া, টালবাহানার পথ বেছে নেওয়া, দীর্ঘ-আশা পোষণ করা ও মৃত্যুকে সুদূরপরাহত ভাবা।
এসবের প্রতিকার বিষয়ে আমি হুসাইন বিন ইয়াহয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি জাফর খলদিকে বলতে শুনেছি যে, জুনাইদ বাগদাদি-রাহিমাহুল্লাহ-কে প্রশ্ন করা হলো, 'আল্লাহর কাছে একান্তে পৌঁছার উপায় কী?' তিনি জবাব দিলেন, 'এমনভাবে তাওবা করা, যা গুনাহের পুনরাবৃত্তিকে বিনাশ করে দেয়। আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করা, যা টালবাহানা করার মানসিকতাকে খতম করে দেয়। এমনভাবে আমল করায় মনোযোগী হওয়া, যা দীর্ঘ-আশা পোষণ করাকে স্বল্পতায় নামিয়ে দেয়। সময়ে সময়ে আল্লাহর যিকির করা ও তার কথা স্মরণ করা। দীর্ঘ-আশা থেকে নিজেকে দূরে রাখা ও মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছার (কথা স্মরণ করিয়ে) স্বীয় খাহেশাতকে অবদমিত করে রাখা।'
পুনরায় তাকে প্রশ্ন করা হলো, 'কীভাবে একজন মানুষ নিজেকে এসব গুণাবলিতে উন্নীত করতে পারবে?' তিনি বললেন, 'একাগ্রচিত্ত ও একনিষ্ঠ হৃদয়ের সহায়তায়।'

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 বাহ্যিক অঙ্গসজ্জার প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া

📄 বাহ্যিক অঙ্গসজ্জার প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া


মানুষ বাহ্যিক অঙ্গসজ্জার প্রতি বেশি মনোযোগী হয়। খুশুখুযূ যতোটুকু না অবলম্বন করে, তারচেয়ে বেশি ভান ধরে। তার তনু ইবাদাতে মগ্ন হলেও মন পড়ে থাকে অন্য কোথাও। এর প্রতিষেধক হলো, নিজের ভেতরগত অবস্থাকে উন্নত করার প্রতি মনোযোগী হওয়া। যাতে করে এর আলোয় বহির্গত অবস্থাও সুসজ্জিত হয়ে যায়। এতে করে বাড়তি কোনো সজ্জা ছাড়াই সে হবে সুসজ্জিত। অনুসারীবৃন্দ ছাড়াই হবে গাম্ভীর্যপূর্ণ। আপনজন ছাড়া অন্যদের কাছেও হবে প্রিয়।
এই কারণেই মা'কিল বিন উবাইদিল্লাহ আল-জাযারি বলেছেন,
مَنْ أَصْلَحَ سَرِيرَتَهُ أَصْلَحَ اللَّهُ عَلَانِيَتَهُ
"যে ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে সংশোধন করবে আল্লাহ তাআলা তার বাহ্যিক অবস্থাকে সংশোধন করে দিবেন।”[২৫]

📘 আত্মার ত্রুটি ও তার চিকিৎসা > 📄 প্রত্যেক আমলেরই প্রতিদান তলব করা

📄 প্রত্যেক আমলেরই প্রতিদান তলব করা


যে-কোনো আমল করেই তার প্রতিদান তলব করা কোনো ভালো গুণ নয়। এর প্রতিষেধক হলো, আমল করার ক্ষেত্রে নিজের কমতি ও ইখলাসহীনতার কথা মাথায় রাখা। যারা জ্ঞানী হয় তারা শিষ্টাচারবশত নিজ আমলের প্রতিদান তলব করাকে পরিহার করে। কারণ তারা জানে, আল্লাহ তাআলা একটি পরিমাণ নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। আর তিনি যা নির্দিষ্ট করেছেন, দুনিয়া বা আখিরাতে তা বান্দা অবশ্যই লাভ করবে।

টিকাঃ
[২৫] ইবনু আবিদ দুনয়া, আল-ইখলাস ওয়ান নিয়‍্যাহ ৫৪ পৃষ্ঠা। মূল কিতাবে এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে, যা সঠিক নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00