📄 তৃতীয় চিকিৎসা : ফজরের নামাযের গুরুত্ব দিন
ফজরের নামাযের গুরুত্ব দিবেন। যত বড় আসক্তিই হোক; যদি এই নামাযের গুরুত্ব দেন ইনশাআল্লাহ আসক্তি থেকে বের হতে পারবেন। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ، يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ الْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ الْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى الْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ
তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পিছনের দিকে তিনটি গিঁঠ দেয়। প্রতি গিঁঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাক। তারপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঁঠ খুলে যায়, পরে অজু করলে আর একটি গিঁঠ খুলে যায়, এরপর (ফজর) নামায আদায় করলে আর একটি গিঁঠ খুলে যায়। তখন তার সকাল বেলাটা হয়, উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য সহকারে। ৫০
যদি ঘুম থেকে উঠে কিছু জিকির করে নেন, অজু করে নেন আর নামায পড়ে নেন তবে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী আপনার অন্তর অনেক ফ্রেশ থাকবে। আপনার মনে ভালো ভালো চিন্তা আসবে। আর যদি তা না করেন, তবে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী আপনার অন্তরটা হবে খবিস অন্তর। সারাদিন গুনাহের চিন্তায় মাথা কিলবিল করবে।
টিকাঃ
৫০ বুখারী: ১১৪২
📄 চতুর্থ চিকিৎসা : বিয়ে করা
কেউ যদি যৌনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত গুনাহে প্রবল আসক্ত হয় তবে তাকে বিয়ে করতে হবে। বিয়ে না করলে গুনাহ থেকে কিছুদিন হয়ত বেঁচে থাকতে পারবে কিন্তু কিছুদিন পর আবার গুনাহে জড়িয়ে পড়বে। বিয়ে না করে রোজা রেখে, জিকির করে, নেক মজলিসে বসে কিছুদিন ঠিক থাকতে পারবে। কিন্তু পুরোপুরি বের হতে পারবে না। পুরোপুরি বের হতে হলে বিয়ে করতে হবে। এ জন্যই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাদের বলেছেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ؛ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
হে যুব সম্প্রদায়! যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা পালন করে। রোজা তার প্রবৃত্তিকে দমন করে। ৪৯
টিকাঃ
৪৯ বুখারী : ১৯০৫
📄 স্ত্রীকে সময় দিন
কেউ বলতে পারেন, বিয়ে করার পরেও তো আমি গুনাহে অভ্যস্ত। এর অর্থ হল, মূলত সে স্ত্রীকে সময় দেয় না। তার সময় যায় ফেসবুকে, ইউটিউবে, গুগলে। এক ব্যক্তি ঔষধ এনে শোকেসে রেখে দিয়েছে। কোনো কাজ হবে? স্ত্রী হল যৌনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত যাবতীয় গুনাহের ঔষধ। স্বামীর জন্য স্ত্রী আর স্ত্রীর জন্য স্বামী। হাদীসে আছে, স্বামী যখন স্ত্রীকে আহ্বান করে আর স্ত্রী যদি সাড়া না দেয় তবে ফেরেশতারা তাকে লা'নত করে।
বলতে পারেন, পুরুষদের বেলায় এ ধমকি নেই কেন? কারণ আগ্রহ সৃষ্টি না হলে পুরুষদের সামর্থ্য থাকে না কিন্তু স্ত্রীদের থাকে। তাই পুরুষদের বলা হয়েছে, স্ত্রীদের সঙ্গে রোমান্টিক কথা বলো। মেয়েদের যৌন চাহিদা কম কিন্তু অন্তরের চাহিদা বেশি। আর পুরুষদের যৌন চাহিদা বেশি কিন্তু অন্তরের চাহিদা কম। আপনি স্ত্রীকে একটু ঘুরতে নিয়ে যান, দুই একটা প্রেমময় কথা বলেন, এখন আপনি তাকে দিয়ে যা ইচ্ছা করাতে পারবেন। পুরুষরা যেরকম কঠিন কথা, রুক্ষ কথা সহ্য করতে পারে, স্ত্রীরা সেটা পারে না। এভাবে উভয়ে যদি আপন দায়িত্ব পালন করে তাহলে পুরুষ যৌনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত গুনাহে আসক্ত হবে না, স্ত্রী পরকিয়াতে আসক্ত হবে না।
অধিকাংশ মেয়ে পরকীয়া করে স্বামীর কাছে আদর না পাওয়ার কারণে, অধিকাংশ স্বামী যৌনতার সঙ্গে গুনাহে লিপ্ত থাকে স্ত্রী থেকে আকাঙ্ক্ষা পুরা না হওয়ার কারণে।
📄 ছেলে মেয়ে উপযুক্ত হলে তাদের বিয়ে না করানো অপরাধ
বলতে পারেন, বিয়ে তো করতে চাই কিন্তু বাবা মা তো বিয়ে করায় না। মনে রাখবেন, ছেলে মেয়ে উপযুক্ত হলে তাদের বিয়ে না করানো অপরাধ। যদি বাবা মা বিয়ে না করায় তাহলে সন্তান যত গুনাহ করবে তার সব বাবা মায়ের কাঁধেও আসবে।
এবার যুবকদের বলি, বাবা মাকে বলবেন বিয়ে করিয়ে দেওয়ার জন্য। বলতে পারেন যে, শরম লাগে। দিনের পর দিন একটা গুনাহে লিপ্ত থাকার চেয়ে এ শরমটা বড় হয়ে গেল! যদি বাবা মাকে বলতে না পারেন চাচা মামা যাকে পারেন তাকে দিয়ে বলাবেন। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন আমীন।
وَآخِرُ দَعْوَانَا অَنِ الْحَمْدُ লِلَّهِ রَبِّ الْعَالَمِينَ