📄 দৃষ্টি হেফাজত করার সহজ পলিসি
অনেকে বলে, হুজুর! কলেজ ভার্সিটিতে পড়ি, সেখানে নজর হেফাজত করতে পারি না। না, আল্লাহর বান্দা 'পারি না' বলবেন না; বরং বলেন, 'করি না'। নবীজী কত সহজ পলিসি আমাদের বলে দিয়েছেন, এই পলিসি ব্যবহার করে যে কোনো পরিবেশে আমরা নজরের হেফাজত করতে পারব। গার্লস স্কুল বলেন আর ব্যাংক বলেন যেখানেই বলেন 'নজর পড়া গুনাহ নয়, দেওয়া গুনাহ' এই পলিসি ব্যবহার করে যে কোনো জায়গায় নজরের হেফাজত করতে পারবেন।
এর পরেও যদি বলেন, আমি পারি না; তবে আমি বলব, আপনি পারতে চান না। যদি বলেন, এর পরেও তো পড়ে যায়। তবে আমি বলব, আপনি আপনার দিলকে জিজ্ঞেস করুন, পড়ে যায় না ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেন? যদি আপনার সুস্থ বিবেক এ কথা বলে যে, ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেন না; বরং অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়ে যায়। তাহলে আপনাকে পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, কবিরা গুনাহ তো দূরের কথা সগীরা গুনাহও হচ্ছে না।
আর যদি আপনার বিবেক বলে যে, ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেন আর আপনি বলছেন যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়ে যায় তবে আপনি নিজের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছেন।
📄 মোল্লা আমীর খান মুত্তাকীর ঘটনা
ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোল্লা আমীর খান মুত্তাকী দা. বা.। নারী সংবাদ কর্মী তাকে প্রশ্ন করেন, 'পুরো আধঘণ্টা সাক্ষাৎকারে আপনি একবারও আমার দিকে তাকান নি, এর কারণ কী?' তিনি উত্তর দেন, 'ওহে আল্লাহর বান্দী! এতে নতুন কী আছে! শরীয়ত আমাকে ক্ষমতা দেয়নি যে, আপনাকে ঢেকে রাখব। তবে অবশ্যই আমাকে চোখ নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আপনার মাথার দোপাট্টা আমার কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু আমার চোখের যত্ন নেওয়া আমার কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। এটা আপনাকে অপমান করার সমস্যা নয়, আমার শরীয়তের আবদ্ধ থাকার সমস্যা। সুবহানাল্লাহ!
এজন্যই আমাদের বড়রা বলেন, কেউ যদি নিউইয়র্ক শহরে নজরের হেফাজত করতে চায় তাহলে সেটাও সে পারবে। আর যদি কেউ নজরের হেফাজত করতে না চায় তবে হারাম শরীফে বসেও পারবে না। মনে রাখবেন, আল্লাহ অসম্ভব কোনো কাজের নির্দেশ দেন না। ৪৯
টিকাঃ
৪৯ ইন্টারনেট
📄 তৃতীয় চিকিৎসা : ফজরের নামাযের গুরুত্ব দিন
ফজরের নামাযের গুরুত্ব দিবেন। যত বড় আসক্তিই হোক; যদি এই নামাযের গুরুত্ব দেন ইনশাআল্লাহ আসক্তি থেকে বের হতে পারবেন। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ، يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ الْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ الْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى الْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ
তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পিছনের দিকে তিনটি গিঁঠ দেয়। প্রতি গিঁঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাক। তারপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঁঠ খুলে যায়, পরে অজু করলে আর একটি গিঁঠ খুলে যায়, এরপর (ফজর) নামায আদায় করলে আর একটি গিঁঠ খুলে যায়। তখন তার সকাল বেলাটা হয়, উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য সহকারে। ৫০
যদি ঘুম থেকে উঠে কিছু জিকির করে নেন, অজু করে নেন আর নামায পড়ে নেন তবে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী আপনার অন্তর অনেক ফ্রেশ থাকবে। আপনার মনে ভালো ভালো চিন্তা আসবে। আর যদি তা না করেন, তবে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী আপনার অন্তরটা হবে খবিস অন্তর। সারাদিন গুনাহের চিন্তায় মাথা কিলবিল করবে।
টিকাঃ
৫০ বুখারী: ১১৪২
📄 চতুর্থ চিকিৎসা : বিয়ে করা
কেউ যদি যৌনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত গুনাহে প্রবল আসক্ত হয় তবে তাকে বিয়ে করতে হবে। বিয়ে না করলে গুনাহ থেকে কিছুদিন হয়ত বেঁচে থাকতে পারবে কিন্তু কিছুদিন পর আবার গুনাহে জড়িয়ে পড়বে। বিয়ে না করে রোজা রেখে, জিকির করে, নেক মজলিসে বসে কিছুদিন ঠিক থাকতে পারবে। কিন্তু পুরোপুরি বের হতে পারবে না। পুরোপুরি বের হতে হলে বিয়ে করতে হবে। এ জন্যই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাদের বলেছেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ؛ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
হে যুব সম্প্রদায়! যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা পালন করে। রোজা তার প্রবৃত্তিকে দমন করে। ৪৯
টিকাঃ
৪৯ বুখারী : ১৯০৫