📄 দ্বিতীয় চিকিৎসা : চোখের খেয়ানত থেকে বাঁচবেন
চোখের খেয়ানত থেকে বাঁচবেন। বলতে পারেন, নজরের হেফাজত করতে পারি না। আপনি যে পারেন না এটা কি আল্লাহ তাআলা জানতেন না? তাহলে তিনি কেন হুকুম করেছেন? তিনি কি জুলুম করেছেন? নাউযুবিল্লাহ। এর অর্থ হল নজরের হেফাজত করতে চান না।
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না। ৪৫ তবে কষ্ট হবে এমন কাজের নির্দেশ দেন। কেননা কষ্টের ভেতরেই আছে জান্নাত।
টিকাঃ
৪৫ সূরা বাকারা: ২৮৭
📄 জান্নাত দুই কদম
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
حُجِبتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ، وحُজিবিৎ الْجَنَّةُ بالمَكَارِهِ
জাহান্নামকে মনোলোভা জিনিসসমূহ দ্বারা ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং জান্নাতকে ঘিরে দেওয়া হয়েছে কষ্টসাধ্য কর্মসমূহ দ্বারা। ৪৬ 'ঘিরে দেওয়া হয়েছে' অর্থাৎ ঐ জিনিস বা কর্ম জাহান্নাম বা জান্নাতের মাঝে পর্দাস্বরূপ, যখনই কেউ তা করবে, তখনই সে পর্দা খুলে তাতে প্রবেশ করবে।
জান্নাত দুই কদম। হাসান বসরী রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, জান্নাত কয় কদম? তিনি বললেন, জান্নাত দুই কদম। নফসের ওপর এক পা দাও। আর দ্বিতীয় কদমে জান্নাত চলে যাও।
কিন্তু নফসের ওপর যে পা দিব তার নিচে হয়ত থাকবে জ্বলন্ত কয়লা। এ কয়লার ওপর আপনাকে পা-টা দিতে হবে। আপনাকে কষ্টটা করতে হবে। কষ্টটা না করলে তো জান্নাত পাচ্ছেন না। নফসকে দাবিয়ে দিতে হবে। কষ্টটার ভিতরেই যে জান্নাত লুক্কায়িত!
টিকাঃ
৪৬ বুখারী: ৬৪৮৭
📄 নজর পড়া গুনাহ নয়; নজর দেয়া গুনাহ
কিন্তু এর পরেও নজর পড়ে যাবে। নবীজী বলেন, নজর পড়ে গেলে দ্বিতীয় বার দিবেন না তাহলে প্রথমটা মাফ। বলুন, এর চেয়ে সহজ পদ্ধতি আছে?
হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর কাছে এক লোক চিঠি লিখল, হুজুর কী করব? নজর তো পড়েই যায়। তিনি উত্তর দিলেন, ঠিক আছে ভাই, তবে নজর পড়া গুনাহ নয়। নজর দেওয়া গুনাহ। ওই লোক আবার জিজ্ঞেস করলো, নজর পড়া আর দেওয়ার মাঝে পার্থক্য কী? তিনি বললেন, দুই সুরতে নজর দেওয়া হয়। নজর পড়ে যাওয়ার পর যদি তুমি তা ধরে রাখ। আর যদি তুমি ইচ্ছাকৃতভাবে দাও।
📄 দৃষ্টি হেফাজত করার সহজ পলিসি
অনেকে বলে, হুজুর! কলেজ ভার্সিটিতে পড়ি, সেখানে নজর হেফাজত করতে পারি না। না, আল্লাহর বান্দা 'পারি না' বলবেন না; বরং বলেন, 'করি না'। নবীজী কত সহজ পলিসি আমাদের বলে দিয়েছেন, এই পলিসি ব্যবহার করে যে কোনো পরিবেশে আমরা নজরের হেফাজত করতে পারব। গার্লস স্কুল বলেন আর ব্যাংক বলেন যেখানেই বলেন 'নজর পড়া গুনাহ নয়, দেওয়া গুনাহ' এই পলিসি ব্যবহার করে যে কোনো জায়গায় নজরের হেফাজত করতে পারবেন।
এর পরেও যদি বলেন, আমি পারি না; তবে আমি বলব, আপনি পারতে চান না। যদি বলেন, এর পরেও তো পড়ে যায়। তবে আমি বলব, আপনি আপনার দিলকে জিজ্ঞেস করুন, পড়ে যায় না ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেন? যদি আপনার সুস্থ বিবেক এ কথা বলে যে, ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেন না; বরং অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়ে যায়। তাহলে আপনাকে পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, কবিরা গুনাহ তো দূরের কথা সগীরা গুনাহও হচ্ছে না।
আর যদি আপনার বিবেক বলে যে, ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেন আর আপনি বলছেন যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়ে যায় তবে আপনি নিজের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছেন।