📄 প্রথম চিকিৎসা : নিজেকে নিজে বলবেন ‘আল্লাহকে ভয় কর’
যখন গুনাহ করতে মন চাইবে তখন নিজেকে নিজে বলবেন 'আল্লাহকে ভয় কর'।
এ বিষয়ে আমরা অনেক হাদীস জানি। বিশেষ করে বুখারির ৩ জনের ঘটনা। গুহাতে আটকা পড়ে গিয়েছিল। যার মাঝে একজন এই বলে দোয়া করল, ওগো আল্লাহ, আমার এক চাচাত বোন ছিল। আমি তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। অর্থাৎ যুবক ছিল এই যুগের যুবকদের মত একই রোগে রোগী! তো সে দোয়া করতে গিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলল যে, আমি তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে কুপ্রস্তাব দিলাম। কিন্তু সে অস্বীকার করল। একবার সে অভাবে পড়ল। তাই আমার কাছে টাকা চেয়ে বসল। আমি তাকে কুকর্মের বিনিময়ে ১২০ দিনার দিতে রাজি হলাম। আমিও অভাবে ছিলাম। কোনো রকমে আমি টাকাটা জোগাড় করেছিলাম। যখন আমি খারাপ কাজটা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়েছি, ঠিক তখনই আমার চাচাতো বোন বলে উঠল, আল্লাহকে ভয় কর। ওগো আল্লাহ! তার এ কথার প্রভাবে আপনার ভয়ে আমি সেই কাজ থেকে সরে আসি। আর তার থেকে টাকাটাও আর ফেরত নেই-নি। আমার এ কাজটা যদি আপনার জন্য হয়ে থাকে তাহলে পাথরটা একটু খুলে দিন। আল্লাহ তাআলা পাথরটা একটু খুলে দিলেন। তাহলে বুঝা গেল, এটা একটা নগদ চিকিৎসা।
📄 দ্বিতীয় চিকিৎসা : চোখের খেয়ানত থেকে বাঁচবেন
চোখের খেয়ানত থেকে বাঁচবেন। বলতে পারেন, নজরের হেফাজত করতে পারি না। আপনি যে পারেন না এটা কি আল্লাহ তাআলা জানতেন না? তাহলে তিনি কেন হুকুম করেছেন? তিনি কি জুলুম করেছেন? নাউযুবিল্লাহ। এর অর্থ হল নজরের হেফাজত করতে চান না।
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না। ৪৫ তবে কষ্ট হবে এমন কাজের নির্দেশ দেন। কেননা কষ্টের ভেতরেই আছে জান্নাত।
টিকাঃ
৪৫ সূরা বাকারা: ২৮৭
📄 জান্নাত দুই কদম
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
حُجِبتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ، وحُজিবিৎ الْجَنَّةُ بالمَكَارِهِ
জাহান্নামকে মনোলোভা জিনিসসমূহ দ্বারা ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং জান্নাতকে ঘিরে দেওয়া হয়েছে কষ্টসাধ্য কর্মসমূহ দ্বারা। ৪৬ 'ঘিরে দেওয়া হয়েছে' অর্থাৎ ঐ জিনিস বা কর্ম জাহান্নাম বা জান্নাতের মাঝে পর্দাস্বরূপ, যখনই কেউ তা করবে, তখনই সে পর্দা খুলে তাতে প্রবেশ করবে।
জান্নাত দুই কদম। হাসান বসরী রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, জান্নাত কয় কদম? তিনি বললেন, জান্নাত দুই কদম। নফসের ওপর এক পা দাও। আর দ্বিতীয় কদমে জান্নাত চলে যাও।
কিন্তু নফসের ওপর যে পা দিব তার নিচে হয়ত থাকবে জ্বলন্ত কয়লা। এ কয়লার ওপর আপনাকে পা-টা দিতে হবে। আপনাকে কষ্টটা করতে হবে। কষ্টটা না করলে তো জান্নাত পাচ্ছেন না। নফসকে দাবিয়ে দিতে হবে। কষ্টটার ভিতরেই যে জান্নাত লুক্কায়িত!
টিকাঃ
৪৬ বুখারী: ৬৪৮৭
📄 নজর পড়া গুনাহ নয়; নজর দেয়া গুনাহ
কিন্তু এর পরেও নজর পড়ে যাবে। নবীজী বলেন, নজর পড়ে গেলে দ্বিতীয় বার দিবেন না তাহলে প্রথমটা মাফ। বলুন, এর চেয়ে সহজ পদ্ধতি আছে?
হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর কাছে এক লোক চিঠি লিখল, হুজুর কী করব? নজর তো পড়েই যায়। তিনি উত্তর দিলেন, ঠিক আছে ভাই, তবে নজর পড়া গুনাহ নয়। নজর দেওয়া গুনাহ। ওই লোক আবার জিজ্ঞেস করলো, নজর পড়া আর দেওয়ার মাঝে পার্থক্য কী? তিনি বললেন, দুই সুরতে নজর দেওয়া হয়। নজর পড়ে যাওয়ার পর যদি তুমি তা ধরে রাখ। আর যদি তুমি ইচ্ছাকৃতভাবে দাও।