📄 ফানাফিল্লাহ কাকে বলে?
এ জিকরে কালবি প্রথম প্রথম আপনি সারাদিনে এক ঘণ্টাও করতে পারবেন না; বরং আধা ঘণ্টাও পারবেন না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, চব্বিশ ঘণ্টার সাড়ে তেইশ ঘণ্টাই যাবে জিকির ছাড়া। হ্যাঁ পারবেন, জিক্রে কালবি করার জন্য যদি আলাদা করে বসেন তখন পারবেন। কিন্তু সব সময় হাত কাজে ব্যস্ত থাকবে আর অন্তরে জিকির থাকবে এটা আপনি আধা ঘণ্টার জন্যও পারবেন না।
তাহলে কী করবেন? শয়তানের সঙ্গে ছিনতাই কর্ম খেলবেন। অর্থাৎ আপনি জিক্রে কালবি শুরু করেছেন কিছুক্ষণ পর শয়তান আপনাকে গাফেল করে দিবে। আবার যখন মনে পড়বে আবার মনে মনে বলা শুরু করবেন 'আল্লাহ আল্লাহ'। এভাবে যখনই মনে পড়বে তখনই জিক্রে কালবি শুরু করবেন। প্রথম দিন হয়তো ২ মিনিট হবে। দ্বিতীয় দিন ১০ সেকেন্ড হলেও বাড়বে। তৃতীয় দিন হয়তো ৩০ সেকেন্ড বাড়বে। এভাবে একটা সময় আপনি সর্বক্ষণ আল্লাহর ধ্যানে ডুবে থাকতে পারবেন। এটাকেই বলে ফানাফিল্লাহ। ফানাফিল্লাহ অর্জিত হলে বান্দা আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ শক্তিতে শক্তিমান হয়। তখন তার অন্তরে সার্বক্ষণিক শান্তি ও আনন্দ বিরাজ করে।
কতনী তাসকীন ওয়া বাসতা তেরে নাম কে সাথ
নীন্দ কাঁটো পে ভি আ যাতি হ্যায় আরাম কে সাথ
কী যে সুখ জড়িয়ে আছে, প্রভু তোমার নামে,
কাঁটার বিছানায়াও ঘুম এসে যায়, শান্তি ও আরামে!
📄 জিক্রে কালবি করার সহজ রাস্তা
জিক্রে কালবি করার একটা সহজ রাস্তা বলে দেই। প্রতিদিন আপনি ১০- ১৫ মিনিটের জন্য বসবেন। বসে চোখ বন্ধ করে মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ বলবেন। এটাকে আমরা মোরাকাবা বলি। এই মোরাকাবা মূল আমল নয়। মূল আমল তো হল জিকরে কালবি। মোরাকাবা হল একটি ট্রেনিং বা প্র্যাকটিস। আপনি ১৫ মিনিট মোরাকাবা করবেন তাহলে আধা ঘণ্টা জিক্রে কালবি করতে পারবেন। আধা ঘণ্টা মোরাকাবা করবেন এক ঘণ্টা জিক্রে কালবি করতে পারবেন।
এ দুইটা চিকিৎসা যদি আপনারা গ্রহণ করতে পারেন তাহলে আপনারা ধীরে ধীরে যত বড় আসক্তিই হোক না কেন তা থেকে বের হতে পারবেন। বের হয়ে আল্লাহর মারেফাতের ভিতরে ডুবে যেতে পারবেন।
এমনও হতে পারে আপনি কোনো গুনাহে আসক্ত, এমন সময়ে মৃত্যু এসে পড়েছে। কিন্তু আপনি এ দুইটা আমলে ছিলেন চেষ্টা করেছেন। পড়ে গেছেন আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। ধাক্কা খেয়েছেন আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জিকরে কালবি করেন-নি, আবার শুরু করেছেন। কিছু দিন মজলিসে ছিলেন না, আবার হাজির হয়েছেন। এই যে নিয়মিত চেষ্টা করেছেন; এর বরকতে মৃত্যুর আগে হলেও আল্লাহ আপনাকে এমন তাওবা নসিব করবেন যে, সব ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহর ওয়াদা হল গুনাহ মিটিয়ে দিবেন, নেক আমল দিবেন। এটা কি এক দুইটা মজলিসে বসলে? না; বরং এখানে মজলিসের ফলাফল বলা হয়েছে। মজলিসে বসতে থাকেন, বসতে থাকেন তাহলে মৃত্যুর আগে আল্লাহ আপনাকে এমন তাওবা নসিব করবেন সব গুনাহ ধুয়ে যাবে, গুনাহের পরিবর্তে নেক- আমল দিয়ে দেওয়া হবে।