📄 জিকরে-কালবি অন্তর পরিষ্কার করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম
জিকিরের মধ্যে অন্তর পাক করার দ্বিতীয় শক্তিশালী আমল হল জিকরে-কালবি। কারণ সমস্যাটা কোথায়? সমস্যাটা হল কলবে। কলবে বা অন্তরে নানা চিন্তার উদ্রেক হয়। মনে হচ্ছে গুগল সার্চ মারি, মনে হচ্ছে এবারের জন্য হারাম টাকাটা নিয়ে নেই। মনে হচ্ছে গেম্স খেলি। এভাবে কলবে নানা চিন্তার উদ্রেক হয়। কলব সব সময় একটা না একটা কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাই কলবের খাদ্য পরিবর্তন করতে হবে। হয়ত তাকে নেক আমলের চিন্তা দিতে হবে অন্যথায় সে গুনাহের চিন্তা করবে।
এখন অন্তরকে এত নেক আমলের চিন্তা কীভাবে দিবেন। হজ করব, হজ করব এটা দশ বার না হয় বললেন, এগারবার বলতে মনে চাইবে না। ইলম শিখব, ইলম শিখব বিশবার না হয় বললেন, এরপর আর মনে চাইবে না। এজন্য বলা হয়, অন্তরকে একটা সহজ জিকির দিয়ে দাও যেন সে সব সময় করতে পারে। এই সহজ জিকিরটি হল, আল্লাহ আল্লাহ। অন্তর যখন আল্লাহ আল্লাহ বলাতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে তখন বাহ্যিক দৃষ্টিতে হয়তো সে কাজে ব্যস্ত থাকবে কিন্তু তার অন্তর থাকবে আল্লাহর সঙ্গে। কবির ভাষায়—
দুনিয়ার শত ব্যস্ততার মাঝেও সে আল্লাহ্র সঙ্গে থাকে।
সকলের সঙ্গে থেকেও সে সকল থেকে আলাদা থাকে।
📄 হাত কাজে ব্যস্ত অন্তর বন্ধুর সঙ্গে
এটাকে বলা হয়, দাস্ত ব-কার দিল ব-য়ার। হাত কাজে ব্যস্ত, অন্তর বন্ধুর সঙ্গে।
হযরত রাবেয়া বসরি রহ. বলতেন, আমার জবান যখন মানুষের সঙ্গে কথা বলে তখন আমার দিল কথা বলে আল্লাহর সঙ্গে।
📄 অন্তরের জিকিরের ফজিলত
তো যেটা বলতে চাচ্ছিলাম যে, অন্তরকে পরিষ্কার করার দ্বিতীয় আমল হল জিকির। আর জিকিরের মাঝে প্রথম হল কুরআন তেলাওয়াত। এটা সহজ। যত বড় আসক্তির রোগীই হোক তাকে এ কথা খাওয়ানো সহজ যে, ভাই কুরআনটা সহিহ কর। কুরআন সহিহ কর এ কথা খাওয়ানো যত সহজ, ভাই তুমি জিক্রে কালবি কর, চিল্লা দাও এ কথাগুলো খাওয়ানো তত সহজ নয়। দ্বিতীয় হল জিক্রে কালবি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন আল্লাহ তাআলা বলেন, হাদীসে কুদসি—
أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ، ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذكَرَنِي فِي مَলা ذَكَرْتُهُ فِي مَলা خَيْرٍ مِنْهُمْ
আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি; অর্থাৎ সে যদি ধারণা রাখে যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন, তার তওবা কবুল করবেন, বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করবেন, তাহলে তাই করি। আর আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সুতরাং সে যদি তার মনে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের ফেরিশতাদের সভায় স্মরণ করি। ৪০
টিকাঃ
৪০ বুখারী: ৭৪০৫
📄 কোন জিকির অধিক মর্যাদাবান?
এক হাদীসে কালবি জিকিরকে জবানের জিকিরের চেয়ে সত্তরগুণ ফযীলতপূর্ণ বলা হয়েছে। জিকির মানে হল স্মরণ করা। আমরা কাউকে কীভাবে স্মরণ করি? জবানে? না; বরং অন্তরে।
ইবনে বাত্তাল রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল— কোন জিকির অধিক মর্যাদাবান? أي الذكرين أعظم ثوابًا الذكر الذي هو بالقلব ওই জিকির যা কলব দ্বারা করা হয়।
এরপর জিজ্ঞাসা করা হল فالذكر الذي باللسان ما هو তাহলে জবানে জিকির কী? তিনি উত্তর দেন, জবানে জিকির মূল জিকির নয়; বরং তার কলব জিকির করছে এ কথার বহিঃপ্রকাশ।
আয়শা রাযি. বলতেন لأن أذكر الله في نفسي أحبُّ إليَّ من أن أذكره بلساني سبعين مرة আমি জবানে জিকির করি এর চেয়ে সত্তরগুণ প্রিয় হল আমি কলবে জিকির করি। ৪১
তাবেঈ আবু উবাইদাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ বলেন مَا دَامَ قَلْبُ الرَّجُلِ يَذْكُرُ اللَّهَ فَهُوَ فِي صَلَاةٍ وَإِنْ كَانَ فِي السُّوقِ ، وَإِنْ يُহَرِّكُ بِهِ شَفَتَيْهِ فَهُوَ أَفْضَلُ যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তির অন্তর আল্লাহর স্মরণে রত থাকে, ততক্ষণ সে মূলত নামাযের মধ্যেই রয়েছে। যদি এর সঙ্গে তার জিহ্বা ও দুই ঠোঁট নড়াচড়া করে অর্থাৎ মনের স্মরণের সঙ্গে যদি মুখেও উচ্চারণ করে তাহলে তা হবে খুবই ভালো, বেশি কল্যাণময়। ৪২
হাফেজ্জী হুজুর রহ. বলতেন, জিকির তিন প্রকার। যবানে জিকির, এটা সর্বনিম্ন স্তরের। এর চেয়ে সত্তর গুণ মর্যাদাসম্পন্ন হল, কালবি জিকির। আর সবচেয়ে উত্তম হল কলব এবং যবানের একসঙ্গে জিকির। দুনিয়াতে যত আল্লাহর ওলী আছেন, কেউই সোহবত ছাড়া এবং জিকির ছাড়া আল্লাহর ওলী হননি।
টিকাঃ
৪১ আততাওযিহ, শরহুল বুখারী: ৩১/২৫২
৪২ বায়হাকী, শুআবুল ঈমান: ১/৪৫৩