📄 সোহবত ও জিকির যাদের কাছে অপ্রিয়
যাদের তাকদিরে হেদায়েত নেই তারা সোহবত দেখতে পারে না। আর জিকির দেখতে পারে না। অথচ এ দুইটার মাঝে রয়েছে সব রোগের মৌলিক চিকিৎসা। একটা আরেকটার স্থলাভিষিক্ত। সোহবত কম হলে জিকির বেশি করো। জিকির কম সোহবত বেশি নাও। আর যদি দুটোই করতে পারো তবে তো নূরুন আলা নূর। বাংলায় যাকে বলে, সোনায় সোহাগা! একজন তাবলীগ করে কিন্তু আলেম ওলামা দেখতে পারে না, খোঁজ নিলে দেখবেন সোহবত নেই। একজন মুজাহিদেরও যদি চরিত্রে সমস্যা পান তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখবেন সোহবত নেই।
কিন্তু এসব বললে আপনারা মনে করেন আপনাদের বিরুদ্ধে বলি। এই যে মনে কষ্ট নেন এটাও মূলত সোহবতের অভাব।
আমি সোহবতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছি। তাবলীগ, জিহাদ কিংবা ইসলামের অন্য কোনো খেদমতের বিরুদ্ধে বলছি না। এগুলো তো সবই আপন স্থানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
আমি আপনাকে এ কথা বলি না যে, ঢালকানগর যান, যাত্রাবাড়ী হুজুরের কাছে যান, দেওনার শায়খের কাছে যান। আমি বলছি, আপনি যেখানেই দীনের কাজ করেন সেখানেই কোনো দীনদার মুত্তাকী বুযুর্গ আলেমের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। অন্যথায় আপনার দীনের কাজ রংঢং হবে, প্রকৃত দীন হবে না।
📄 নাপাক জমিন দুইভাবে পাক হয়
নাপাক জমিন দুইভাবে পাক হয়। এক হল পানিতে নাপাকি ধুয়ে গেলে, আরেক হল রোদে নাপাকির আছর সম্পূর্ণ চলে গেলে। জিকির হল পানি দ্বারা ধৌত করার মত। আর সোহবত হল সূর্যের আলোর মত। আপনি একজন আল্লাহওয়ালার সামনে ৫ মিনিট বসলে অন্তরের যে পরিবর্তন হবে তা অনেক আমল করেও হবে না। সাহাবায়ে কেরাম বলতেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মজলিসে বসতাম তখন আমাদের দিল পরিবর্তন হয়ে যেত।
📄 নেককারদের মজলিসে বসার সওয়াব
নবীজী ﷺ বিভিন্ন আমলের ফযীলত বর্ননা করেছেন গুনাহ মাফের অনেক আমলের কথা বলেছেন। এক মজলিসে ৪০টা গুনাহ মাফের আমলের কথা আপনাদের শুনিয়েছিলাম, আরও আছে। কিন্তু গুনাহ মাফ, আবার গুনাহের পরিবর্তে নেক আমল এ রকম আমল হাতেগোনা। আর তা হল নেককারদের মজলিসে বসার সওয়াব। আনাস রাযি. বলেন, রাসূল ﷺ বলেন—
মাক মিন কওমিজতামাউ... (আরবি পাঠ)
যে কোনো সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে আল্লাহর জিকির করবে এবং এর দ্বারা তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হয় তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন, সেই সম্প্রদায়কে আসামানের কোনো এক ঘোষণাকারী ডেকে বলবে, তোমরা এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে যাও যে, তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে পরিবর্তন করে সাওয়াবে পরিণত করা হয়েছে। ৩৭
টিকাঃ
৩৭ মুসনাদে আহমাদ: ১২৪৫৩