📄 নেক মজলিসের প্রভাব
নেক মজলিসের প্রভাব কী? রাসূলুল্লাহ ﷺ হাদীসে বলেন—
هُمُ القَومُ لَا يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ
তারা সেই সম্প্রদায়, তাদের সঙ্গে যে বসে সেও বঞ্চিত হয় না। ৩৬ একজন বঞ্চিত মানুষের সবচেয়ে বড় হতভাগ্য হল ঈমানহারা হওয়া। তাহলে নেককারদের মজলিসে বসলে সে ঈমানহারা হয় না।
টিকাঃ
৩৬ বুখারী: ৬৪০৮, মুসলিম: ২৬৮৯, তিরমিযী: ৩৬০০, আহমাদ: ৭৩৭৬, ৮৪৮৯, ৮৭৪৯
📄 সোহবত এমন আমল যার বিকল্প নেই
মনে রাখবেন, সোহবত এমন এক আমল যার কোনো বিকল্প নেই। আপনি দীনের যে খেদমতই করেন না কেন, আপনার সোহবত ইখতিয়ার করা উচিত। আল্লামা আলুসি বাগদাদী রহ. বলেন, যদি তুমি গুনাহ থেকে বাঁচতে চাও, তবে তোমাকে একজন আল্লাহওয়ালার সোহবত নিতে হবে। তাঁর সংস্পর্শে কিছুকাল অতিবাহিত করতে হবে।
দম কে দম মে কলব নূরানি হুয়ি
মর্দ হক সে মিলকে হক্কানী হুয়ি
ধীরে ধীরে অন্তর আলোকিত হয়েছে, আল্লাহওয়ালার সোহবতে অন্তর হক্কানী হয়েছে।
📄 আমাদের কিছু ধোঁকাবাজিপূর্ণ কথা
আমরা কিছু ধোঁকাবাজিপূর্ণ কথা বলি। ইলম শিখলে বলি, ইলম তো শিখেছি আল্লাহওয়ালার কাছে যাওয়ার দরকার কী? চিল্লা দিলে বলি, তাবলীগ করলেই হবে আল্লাহওয়ালা বুজুর্গদের কাছে আবার যাওয়ার কী দরকার! কিন্তু আপনারা একটু ভেবে দেখুন, ইসলাম কি এই শিক্ষা দেয় যে, নেককার লোকদের মজলিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই? না ইসলাম এটা শিক্ষা দেয় যে, নেককারদের সঙ্গে চলাফেরা করতে হবে, সুসম্পর্ক রাখতে হবে! সাহাবায়ে কেরাম রাযি. তাবেঈন তাবে-তাবেঈন আমাদের আদর্শ। তাঁদের সবাই তো নেককার ছিলেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে যারা অধিক মুত্তাকী ছিলেন তাঁদের ব্যাপারে তাঁদের নীতি কী ছিল? তাঁদের কাছে যাওয়া না তাঁদের থেকে দূরে থাকা?
সাহাবায়ে কেরাম ইসলাম গ্রহণের আগে কেমন ছিলেন! কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর যে তারা এত ভালো হলেন তা কীভাবে হয়েছে? রাসূল ﷺ এর সোহবত তাঁদের জন্য এই মাকামে এনে দিয়েছে। মুফতি শফি রহ. বলেন, নবুওয়াতের পর যদি সোহবতের চেয়ে দামি কিছু থাকত তাহলে সাহাবীদের নাম সাহাবী না হয়ে অন্য কিছু হত।
📄 সোহবত ও জিকির যাদের কাছে অপ্রিয়
যাদের তাকদিরে হেদায়েত নেই তারা সোহবত দেখতে পারে না। আর জিকির দেখতে পারে না। অথচ এ দুইটার মাঝে রয়েছে সব রোগের মৌলিক চিকিৎসা। একটা আরেকটার স্থলাভিষিক্ত। সোহবত কম হলে জিকির বেশি করো। জিকির কম সোহবত বেশি নাও। আর যদি দুটোই করতে পারো তবে তো নূরুন আলা নূর। বাংলায় যাকে বলে, সোনায় সোহাগা! একজন তাবলীগ করে কিন্তু আলেম ওলামা দেখতে পারে না, খোঁজ নিলে দেখবেন সোহবত নেই। একজন মুজাহিদেরও যদি চরিত্রে সমস্যা পান তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখবেন সোহবত নেই।
কিন্তু এসব বললে আপনারা মনে করেন আপনাদের বিরুদ্ধে বলি। এই যে মনে কষ্ট নেন এটাও মূলত সোহবতের অভাব।
আমি সোহবতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছি। তাবলীগ, জিহাদ কিংবা ইসলামের অন্য কোনো খেদমতের বিরুদ্ধে বলছি না। এগুলো তো সবই আপন স্থানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
আমি আপনাকে এ কথা বলি না যে, ঢালকানগর যান, যাত্রাবাড়ী হুজুরের কাছে যান, দেওনার শায়খের কাছে যান। আমি বলছি, আপনি যেখানেই দীনের কাজ করেন সেখানেই কোনো দীনদার মুত্তাকী বুযুর্গ আলেমের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। অন্যথায় আপনার দীনের কাজ রংঢং হবে, প্রকৃত দীন হবে না।