📘 আসক্তি কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা 📄 যৌবনের তাওবা আল্লাহ তাআলা বেশি কবুল করেন

📄 যৌবনের তাওবা আল্লাহ তাআলা বেশি কবুল করেন


যৌবনের তাওবা আল্লাহ কেন বেশি কবুল করেন? রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
وَشَابٌ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ

যে যুবক আল্লাহর ইবাদতের ভিতর গড়ে উঠেছে, আল্লাহ তাআলা তাকে কেয়ামতের দিন আরশের নিচে ছায়া দিবেন। ২৮ দেখুন আরশের নিচে ছায়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত যে সাতটা আমলের কথা প্রসিদ্ধ হাদীসে এসেছে, অধিকাংশ যৌবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন আরেকটি দেখুন— وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ إِلى نَفْسِهَا، قَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ

'এমন ব্যক্তি যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী অবৈধ মিলনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তখন সে বলেছে আমি আল্লাহকে ভয় করি।'

এ আহ্বান করাটা ছবিতে হতে পারে, ভিডিওতে হতে পারে, কথিত সেলিব্রেটি হতে পারে, নাচ হতে পারে, গান হতে পারে, মুভি হতে পারে, বাস্তবে হতে পারে। এ সবই হচ্ছে আহ্বান করা বা invite করা। একটা মেয়ে তোমাকে invite করেছে নানাভাবে অঙ্গভঙ্গি দিয়ে, গান দিয়ে, বাদ্য দিয়ে, অভিনয় দিয়ে অথবা বাস্তব জীবনে। আর তুমি ওই সময়ে বলেছ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ দেখতে তো মনে চায় কিন্তু আমি দেখব না, কারণ আমি আল্লাহকে ভয় করি। আমার তো মনে চায়, রাতের দু'টায় উঠে একটা খারাপ কাজ করি। কিন্তু আমি করবো না, কারণ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ আমি আল্লাহকে ভয় করি। আমার তো মনে চায়, পরনারীর ফটো দেখতে ভিডিও দেখতে তার প্রতি কুদৃষ্টি দিতে কিন্তু আমি তা করবো না। কারণ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ আমি আল্লাহকে ভয় করি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, এ যুবককে কেয়ামতের দিন আরশের নিচে ছায়া দেয়া হবে। আরেকটি আমল দেখুন, এটাও অনেকটা যৌবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবীজি বলেন— وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ فِي خَلَاءٍ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাতে আল্লাহর ভয়ে তার চোখ হতে অশ্রু বের হয়ে পড়ে। ২৯

টিকাঃ
২৮ বুখারী: ১৪২৩; মুসলিম: ১০৩১
২৯ বুখারী: ১৪২৩, মুসলিম: ১০৩১

📘 আসক্তি কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা 📄 যৌবনের তাওবা আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় কেন?

📄 যৌবনের তাওবা আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় কেন?


বাস্তব অভিজ্ঞতা হল এই, একজন যুবক তাওবা করার পরে যে পরিমাণ চোখের পানি দিতে পারে, আল্লাহর কাছে লজ্জিত হতে পারে, ভালো হতে পারে, কাঁদতে পারে, দীনের ফিকির তার মাথায় আনতে পারে, দীনের মহব্বত তার অন্তরে আসে; যে পরিমাণ আল্লাহপ্রেম নবীজির প্রতি ভালোবাসা তার অন্তরে আসে, দীনের জন্য জান কুরবানী করার চিন্তা যে পরিমাণ তার মাঝে আসে— একজন সত্তর বছরের বৃদ্ধ এর চেয়ে বেশি তাওবা করে, বেশি ইস্তেগফার করে এ পরিমাণ কাঁদতে পারে না, এ পরিমাণ আল্লাহর মহব্বত অন্তরে আনতে পারে না! এ কারণেই যৌবনের তাওবা আল্লাহ তাআলা বেশি পছন্দ করেন।

📘 আসক্তি কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা 📄 যুবকের তাওবা আর বৃদ্ধের তাওবার মাঝে পার্থক্য

📄 যুবকের তাওবা আর বৃদ্ধের তাওবার মাঝে পার্থক্য


বুড়ো মিয়া যদি তাওবা করে তাহলে কেবল তার লাভ। আল্লাহ যদি তাওবা কবুল করেন, তাওবা করে জান্নাতে চলে যাবেন। কিন্তু যুবক যদি তাওবা করে তাহলে নিজে জান্নাতে যাবে, পরিবারকে জান্নাতে নিবে। পরবর্তী জেনারেশনকে জান্নাতী বানিয়ে যাবে। কেয়ামত পর্যন্ত অনাগত জেনারেশনের ঈমান হেফাজত করার ফিকির করে যাবে।

বুড়ো মিয়া তাওবা করলেও যদি তার মেয়ে আগে থেকেই বেপর্দায় চলে তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়েকে তো আর পর্দায় আনতে পারে না! নিজের ছেলেকে তো আর পরিবর্তন করতে পারে না। আওলাদকে তো আর হেদায়েতের মশাল দিয়ে যেতে পারে না।

কিন্তু যুবক তাওবা করেছে তো ছেলেকে দিয়ে দিয়েছে দীনের পথে। ছেলেকে আলেম বানিয়েছে, ছেলেকে হাফেজ বানিয়েছে। যুবক তাওবা করেছে তো ছেলের জন্য দোয়া করেছে যে, ওগো আল্লাহ! আপনি আমার সন্তানকে মুজাহিদ বানান। ওগো আল্লাহ! ছেলেকে আলেম বানান। আমি আলেম হতে পারি-নি, আমাকে আলেমের আব্বা বনিয়ে দেন। যুবক তাওবা করেছে তো ছেলের জন্য দোয়া করেছে, ওগো আল্লাহ! ছেলেকে শহীদ হিসেবে আর আমাকে শহীদের বাবা হিসেবে কবুল করে নিন।

এটাই হল যুবকের তাওবা আর বৃদ্ধের তাওবার মধ্যে পার্থক্য! আল্লাহ আমাদেরকে যৌবনে তাওবা করার তাওফীক দান করুন আমীন।

📘 আসক্তি কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা 📄 গুনাহ সম্পর্কে মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি

📄 গুনাহ সম্পর্কে মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি


যাই হোক, যেটা বলতে চেয়েছিলাম যে, কোনো গুনাহের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ার একটা কারণ হল, যে গুনাহ-টাতে সে অভ্যস্ত ওটাকে সে বড় করে না দেখা। ওটাকে হালকা মনে করা। তার চিন্তা হল, এ আর তেমন কী! বুড়ো বয়সে তাওবা করে নিলেই বেড়া পার! অথচ এটা ভুল চিন্তা। একজন মুমিন এ ধরণের চিন্তা লালন করতে পারে না।

গুনাহ সম্পর্কে মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি তো এমন হবে যে, নবীজি ﷺ বলেন—
إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يقع عَلَيْهِ

'ঈমানদার ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করবে, যেন সে একটা বিশাল পাহাড়ের নীচে বসে আছে, আর সে আশঙ্কা করছে যে, সম্ভবত পর্বতটা তার ওপর ধ্বসে পড়বে।' নবীজি বলেন, পাপিষ্ঠ কিংবা মুনাফিকরাই গুনাহকে হালকা মনে করে। ঈমানদার গুনাহকে হালকা মনে করতে পারে না। নবীজির ভাষায়—
وإِنَّ الفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ فَقَالَ بِهِ هَكَذَا

পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মত মনে করে, যা তার নাকে বসে চলে যায়। ৩০

টিকাঃ
৩০ বুখারী: ৬৩০৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px