📄 হারাম চাকরি করি ছেড়ে দিব না কী করবো?
গতকাল একজন প্রশ্ন করেছিল, হারাম চাকরি করি, ছেড়ে দিব না কী করবো? আমি বলেছিলাম, হারাম চাকরি করা অবশ্যই খারাপ এবং কবিরা গুনাহ; তবে বেকারত্ব এর চেয়ে বড় সমস্যা। কারণ এখন তো আপনি একটা কবিরা গুনাহ করছেন। বেকারত্ব আপনার জীবনে শত শত কবিরা গুনাহের জন্ম দিবে।
চাঁদাবাজি সন্ত্রাসীকাণ্ড থেকে শুরু করে গভীর রাতের মোবাইলের গুনাহ পর্যন্ত যত প্রকার আসক্তি আছে সবগুলো জন্ম দিবে এ বেকারত্ব।
📄 বেকার লোক সবার চেয়ে ব্যস্ততা বেশি দেখায়
বেকার লোক সবার চেয়ে ব্যস্ততা বেশি দেখায়। হাসান বসরী রহ. বলতেন, 'তুমি হয় দীনের কাজে ব্যস্ত থাকো আর না হয় দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত থাকো।' দেখবেন যে লোকের কোনো কাম-কাজ নেই, দাওয়াত ও তাবলীগের ভাইয়েরা গিয়েছে তার কাছে দাওয়াত নিয়ে। বলল ভাই! চলো না তোমার তো এখন কোনো কাম-কাজ নেই! একটু সময় আল্লাহর রাস্তায় দাও। তখন দেখবেন যে, সে এর আগেই বড় মসজিদের খতিব হয়ে বসে আছে! তার হাতে কোনো সময় নেই। প্রচণ্ড ব্যস্ত সে। আসলে যার হাতে কাজ থাকে না তার কাছে ফালতু কাজের অভাব থাকে না। বস্তুত এগুলো কাজ নয়; অকাজ। এগুলো সব আকাম।
📄 কাজ নেই এটা কোনো মুমিন বলতে পারে না
কাজ নেই এটা কোনো মুমিন বলতে পারে না। কেননা মুমিন তো কেয়ামতের দিন আফসোস করবে ওই সময়টার জন্য যে সময়টায় তার আল্লাহর জিকির ছিল না। তাহলে বলো, তোমার হাতে কাজ নেই এটা তুমি কীভাবে বল?
📄 অবসর সময়ের মূল্যায়ন করুন
রাসূলুল্লাহ ﷺ যথার্থ বলেছেন—
نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ
এমন দু'টি নিয়ামত আছে, যে দুটোর সঠিক মূল্যায়ন না করার কারণে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ সুস্থতা আর অবসর থাকার নেয়ামত। ২৩
সুতরাং অবসর থাকাটা যেন শয়তানের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণ না হয়। শয়তানের সঙ্গে সঙ্গ দেয়ার কারণ না হয়; বরং অবসর থাকাটা যেন আল্লাহর সঙ্গে সঙ্গ দেয়ার কারণ বনে যায়।
তামান্না আমার যদি পেতাম এমন কোনো নির্জনতা; একাকী বসে ভাবতাম তাঁকে দূর করতাম অস্থিরতা।
শোকর আদায় কর, তুমি জিকির করার সময় পাচ্ছ। নফল আমল করার, দীনের কাজ করার সময় পাচ্ছ। শোকর আদায় কর, মসজিদে সময় দেয়ার সময় পাচ্ছ। শোকর আদায় কর একজন আল্লাহওয়ালার কাছে যাওয়ার সময় পাচ্ছ। যদি তুমি ব্যস্ত হয়ে যেতে তাহলে এই সময়গুলো তুমি পেতে না। তাহলে তুমি কীভাবে তোমার এই সময়টাকে নষ্ট করে দিচ্ছ!
টিকাঃ
২৩ বুখারী: ৬০৪৯