📄 আল্লাহর ওলীদের মাঝে আর আমাদের মাঝে পার্থক্য
ব্যস্ত মানুষ গুনাহ করার সুযোগ পায় কম। এই যে আল্লাহর ওলীরা তাদের কি গুনাহ করতে মনে চায় না? তারা কি মানুষ নয়? তাদের কি মনে চায় না পরনারীর প্রতি একটু দৃষ্টি দেই? অমুক গুনাহটা করে একটু মজা নেই? চায়। তাদের মনও কখনও কখনও গুনাহ করার জন্য নড়েচড়ে উঠে। গুনাহ করতে মনে চায় না জগতে এমন কেউ নেই।
তাহলে আল্লাহর ওলীদের মধ্যে আর আমাদের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্য হল আল্লাহর ওলীরা দীনের কাজে কিংবা আমলের মাঝে এমন ব্যস্ত থাকেন যে, গুনাহের চিন্তা তাদের মাথায় সহজে আসে না। আসলেও ব্যস্ততার কারণে সুযোগ পান না। পরিবেশ পান না। কদাচিৎ সুযোগ কিংবা পরিবেশ পেলেও শরীরে এনার্জি থাকে না। সারাদিন দীনের কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে, গুনাহ করার মত এনার্জি কীভাবে থাকবে!
📄 আল্লাহর ওলিরা নফসের সঙ্গে যুদ্ধ করেন
যেমন ধরুন, পরনারীর প্রতি দৃষ্টিটা দিতে মনে চাইল। আমরা কী করি; নফসের চাহিদাটা সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করে দেই। আর আল্লাহর ওলীরা কী করেন? নফসের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। ফলে আমরা গুনাহ ছাড়ার পরিবেশ পাই না আর তাঁরা গুনাহ করার পরিবেশ পান না। কেননা মুজাহাদা তথা নফসের সঙ্গে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁদের চারপাশের পরিবেশটাকে এমনভাবে তৈরি করে দেন যে, মন চাইলেও তাঁরা আর গুনাহ করার পরিবেশ পান না।
ভক্তবৃন্দ সামনে থাকলে একে কি গুনাহ করার পরিবেশ বলা যায়! মসজিদ মাদরাসা কিংবা খানকায় কি গুনাহ করার পরিবেশ পাওয়া যায়! কুরআন মজিদ কিংবা দীনি কোনো কিতাব শিথানের আশেপাশে থাকলে বাজে চিন্তা কি আর মাথায় আসতে পারে! আল্লাহর মহব্বত অন্তরে বহমান থাকলে এসব নেক পরিবেশে গুনাহ করার মত সাহস কি বাকি থাকতে পারে! আর একজন আল্লাহর ওলী তো এসব পরিবেশেই তাঁর জীবনটাকে পার করে দেন। এ জন্যই বলেছি, আল্লাহর ওলীদের অন্তরেও গুনাহের চিন্তা আসে। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে ভালোবাসেন তাই তাঁদেরকে মাহফুজ করে রাখেন। তাঁদেরকে হেফাজত করেন।
ইবলিশ হল আমাদের অদৃশ্য শত্রু। আল্লাহর কাছে আমরা যত বেশি ইবলিশ থেকে পানাহ চাইতে পারব তত বেশি আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে পারব। আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষে ইবলিশের তত বেশি মোকাবেলা করবেন, ততবেশি আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করবেন। আল্লাহ আল্লাহর ওলীদের এভাবেই হেফাজত করেন। অন্যথায় গুনাহ করতে মনে চায় না জগতে এমন কেউ নেই।
তো যে ব্যক্তি বেকার তার অন্তরে গুনাহের চিন্তা বেশি আসে। এ জন্য বেকারত্ব ঠিক নয়।
📄 হারাম চাকরি করি ছেড়ে দিব না কী করবো?
গতকাল একজন প্রশ্ন করেছিল, হারাম চাকরি করি, ছেড়ে দিব না কী করবো? আমি বলেছিলাম, হারাম চাকরি করা অবশ্যই খারাপ এবং কবিরা গুনাহ; তবে বেকারত্ব এর চেয়ে বড় সমস্যা। কারণ এখন তো আপনি একটা কবিরা গুনাহ করছেন। বেকারত্ব আপনার জীবনে শত শত কবিরা গুনাহের জন্ম দিবে।
চাঁদাবাজি সন্ত্রাসীকাণ্ড থেকে শুরু করে গভীর রাতের মোবাইলের গুনাহ পর্যন্ত যত প্রকার আসক্তি আছে সবগুলো জন্ম দিবে এ বেকারত্ব।
📄 বেকার লোক সবার চেয়ে ব্যস্ততা বেশি দেখায়
বেকার লোক সবার চেয়ে ব্যস্ততা বেশি দেখায়। হাসান বসরী রহ. বলতেন, 'তুমি হয় দীনের কাজে ব্যস্ত থাকো আর না হয় দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত থাকো।' দেখবেন যে লোকের কোনো কাম-কাজ নেই, দাওয়াত ও তাবলীগের ভাইয়েরা গিয়েছে তার কাছে দাওয়াত নিয়ে। বলল ভাই! চলো না তোমার তো এখন কোনো কাম-কাজ নেই! একটু সময় আল্লাহর রাস্তায় দাও। তখন দেখবেন যে, সে এর আগেই বড় মসজিদের খতিব হয়ে বসে আছে! তার হাতে কোনো সময় নেই। প্রচণ্ড ব্যস্ত সে। আসলে যার হাতে কাজ থাকে না তার কাছে ফালতু কাজের অভাব থাকে না। বস্তুত এগুলো কাজ নয়; অকাজ। এগুলো সব আকাম।