📄 লক্ষ রাকাত নফল নামাযের চেয়েও উত্তম আমল
দৃষ্টি যদি আপনি অবনত রাখেন তাহলে আমি আপনাকে বলবো যে, যতগুলো গুনাহ আপনার জিন্দেগীতে আছে, চাই সেটা সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত হোক অথবা যৌনতার সঙ্গে সম্পর্কিত হোক অথবা পেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হোক; মোটকথা যেটার সঙ্গেই সম্পৃক্ত হোক না কেন; সবগুলো গুনাহকে যদি আপনি ভাগ করেন, মনে করুন এক লক্ষ গুনাহকে যদি আপনি ভাগ করেন তাহলে কমপক্ষে ৯০ হাজার গুনাহ 'নাই' হয়ে যাবে শুধু এই চোখের হেফাজতের কারণে। এ কারণেই হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. বলতেন, 'এই যে তুমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য কুদৃষ্টি না দিয়ে চোখটাকে নামিয়ে নিয়েছ, এটা আমার দৃষ্টিতে লক্ষ লক্ষ রাকাত নফল নামাযের চেয়েও উত্তম।' কেননা এ লক্ষ রাকাত নফল নামায তোমাকে জান্নাতে নিতে পারবে কি না- এ নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু তোমার এই চোখের হেফাজত তথা যৌবনের হেফাজতের কারণে তোমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জিম্মাদারি নিয়ে নিয়েছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ।
📄 উম্মতের প্রতি নবীজির আকাঙ্ক্ষা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
مَنْ يَضْمَن لي ما بَيْنَ لَحَيَيْهِ وما بَيْنَ رِجْلَيْهِ، أَضْمَنْ لَه الجَنَّةَ
কে আছে এমন যে তার দু'চোয়ালের মাঝের বস্তু জিহ্বা এবং দু'রানের মাঝখানের বস্তু লজ্জাস্থানের জামানত আমাকে দিবে? তাহলে আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হব। ২২ দেখুন উক্ত হাদীস থেকে বুঝা যায়, জবান ও যৌবনের হেফাজত করা; এটা উম্মতের প্রতি নবীজির বিশেষ উইশ বা আকাঙ্ক্ষা। নবীজির এ উইশ পূরণ করা উম্মত হিসেবে আমাদের কর্তব্য এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যমও। যদি তাঁর এ আকাঙ্ক্ষা আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারি তাহলে প্রতিদান হিসেবে তিনি আমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদারি নিয়ে নিবেন।
টিকাঃ
২২ বুখারী: ৬৪৭৪