📄 এমন বন্ধু নির্বাচন করুন, যে আপনাকে জান্নাতে না পেলে খুঁজবে
বিপরীতে ভালো বন্ধু হলে কী হয় দেখুন, হাসান বসরী রহ. লিখেন যে, এক লোক জাহান্নামী হয়ে যাবে। দুনিয়াতে যার এক বন্ধু ছিল ভালো, যে জান্নাতে যাবে। জান্নাতী বন্ধু পৃথিবীতে থাকা সময়ের স্মৃতিচারণ করবে। তখন তার বন্ধুর কথা মনে পড়ে যাবে। তাই সে ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবে—
مَا فَعَلَ صَدِيقِي فُلانٌ؟ وَصَدِيقُهُ فِي الْجَحِيمِ
'আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছি না, সে কোথায়?' বলা হবে, 'সে তো জাহান্নামে'।
তখন ওই জান্নাতী বন্ধু আল্লাহর কাছে বলবে, 'হে আমার রব! আমার বন্ধুকে খুব মিস করছি। তাকে ছাড়া আমার কাছে জান্নাতের আনন্দ যে পরিপূর্ণ হচ্ছে না!' এবার বলুন, জান্নাতীদের কোনো আশা অপূর্ণ থাকবে এমনটি কী হবে? বরং আল্লাহ তাআলা তো বলেছেন—
وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ
সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে যা তোমরা দাবী কর। ১৩ আল্লাহ জান্নাতীদের সকল আশা পূরণ করবেন। কেবল মনে মনে চিন্তা করবে সঙ্গে সঙ্গে পূরণ হয়ে যাবে। তাই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলবেন, 'তাড়াতাড়ি তার ওই জাহান্নামী বন্ধুটাকে জাহান্নাম থেকে বের করো।' দেখুন, তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেল এ কারণে নয় যে, সে রাতভর ইবাদত করত কিংবা কুরআন পড়ত, বেশি বেশি সাদকা করত, দিনের পর দিন রোজা রাখত! বরং সে মুক্তি পেল কেবলই এই কারণে যে তার বন্ধু তাকে স্মরণ করেছে। তার জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
এ অবাককরা দৃশ্য দেখে জাহান্নামের বাকি লোকগুলো জানতে চাইবে, 'কী কারণে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হল, তার বাবা কি শহীদ? তার ভাই কি শহীদ? তার জন্য কি কোনো ফেরেশতা বা নবী সুপারিশ করেছেন?' জাহান্নামিরা এ জাতীয় বহু প্রশ্ন ও মন্তব্য করতে থাকবে। কেননা বিষয়টা তখন জাহান্নামের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যাবে যে, কোনো সুপারিশ ছাড়া জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে!
তখন তাদের এসব প্রশ্নের জবাবে বলা হবে, 'না; বরং দুনিয়াতে তার যে নেককার বন্ধু ছিল, সেই বন্ধু জান্নাতে তার কথা স্মরণ করেছে। তার কথা জিজ্ঞেস করেছে। তাই আল্লাহ তাআলা তার জান্নাতি বান্দার আশা পূর্ণ করার জন্য এ জাহান্নামিটাকে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন।' এ কথা শুনে জাহান্নামীরা আফসোস করে বলবে, 'হায়! আজ আমাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী নেই। হায়! আমাদের এমন কোনো সত্যিকারের বন্ধু নেই!' ১৪
উক্ত ঘটনা বর্ণনা করার পর হাসান বসরী রহ. বলেন, এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে, সেদিন জাহান্নামীরা বলবে—
فَمَا لَنَا مِن شَافِعِينَ . وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ
আজ আমাদের না আছে কোনো সুপারিশকারী এবং না আছে কোনো সুহৃদয় বন্ধু। ১৫
টিকাঃ
১৩ সূরা ফুসসিলাত: ৩১
১৪ তাফসীরে বগভি: ৩৭১
১৫ সূরা আশ-শুআরা: ১০০, ১০১
📄 যার তার সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক নয়
এ কারণেই যেখানে সেখানে আত্মীয়তা নয়। যার তার সঙ্গে বন্ধুত্ব নয়। যার তার সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক নয়। আপনি আজ আপনার যে নেতার পিছনে স্লোগান দিচ্ছেন, তার সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা কিন্তু লেনদেনের। স্লোগান বন্ধ করবেন, ডাস্টবিনে, রাস্তার কিনারায় ফেলে দিবে। মামলা ঠুকে দিবে। জেলে ঢুকিয়ে দিবে। আর একজন ভালো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন, তাঁকে ভালোবাসবেন তাহলে তিনি জান্নাতে গিয়েও আপনার কথা স্মরণ করবে। তার উসিলায় আপনি জাহান্নাম থেকে নাজাত পেয়ে যাবেন।
📄 এ দিল্ সাধারণ কোনো বিষয় নয়
যাকে তাকে অন্তর দিবেন না। এ দিল্ বা অন্তর সাধারণ কোনো বিষয় নয়। এ দিল অনেক বড় বিষয়। আপনি এক কোটি টাকা কাউকে দিয়ে দিতে পারেন। আপনার গাড়ি বাড়ি কাউকে দিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু এ দিল দিতে হবে একমাত্র আল্লাহর মহব্বতের ভিত্তিতে। কারণ এক কোটি টাকা লস, দুনিয়ার সাময়িক লস। কিন্তু এ দিল যদি কেনো নাপাক লোককে দিয়ে দেন, ফাসেক- ফুজ্জারকে দেন তাহলে এ লোকটাই আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে ছাড়বে।
📄 যার সঙ্গে মহব্বত তার সঙ্গে হাশর
পক্ষান্তরে কোনো ভালো লোককে যদি দিল দেন তাহলে হয়তো আমল খুব করতে পারেন-নি। কিন্তু কোনো নেককারকে আপনি মহব্বত করেছেন, তার সঙ্গে চলাফেরা করার চেষ্টা করেছেন। আর আপনি লজ্জিত ছিলেন আপনার গুনাহ নিয়ে। তাহলে ইনশাআল্লাহ কেয়ামতের দিন বলতে পারবেন—
أُحِبُّ الصَّالِحِينَ وَلَسْتُ منهم لعَلِّي أَنْ أَنَالَ بِهِمْ شَفَاعَة لعل الله يرزقني صلاحا
‘ওগো আল্লাহ! নেককার হতে পারি-নি, কিন্তু তাদের ভালো তো বেসেছি। এ আশায়, যেন তাদের সুপারিশ পেয়ে যাই।’ আর আপনার হাবিব তো বলেছেন—
الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ
যার সঙ্গে মহব্বত তার সঙ্গে হাশর। ১৬
ওগো আল্লাহ! ভালো তো হতে পারি-নি, কিন্তু ভালো লোককে তো ভালোবেসেছি, এ আশায় যেন আপনি আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।' অন্তরের লেনদেন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হলে নবীজী আমাদেরকে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন যে, এভাবে দোয়া করবে—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ ، وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُ إِلَى حُبِّكَ
হে আল্লাহ! আমি চাই আপনার প্রতি ভালোবাসা। আপনাকে যারা ভালোবাসেন তাদের ভালোবাসা এবং যে সব আমল আমাকে আপনার নিকট করবে সেসব আমলের ভালোবাসা। ১৭
টিকাঃ
১৬ বুখারী: ৬১৬৯
১৭ তিরমিযী: ৩২৩৫