📄 ১. সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও গুনাহ না ছাড়া
প্রথম আলামত হল, যে গুনাহটি সে ছেড়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে সে গুনাহটি সে ছাড়বে না। যেমন সে পারে রাত ১০টা বাজে ওয়াইফাইটা অফ করে, মোবাইল সুইচ অফ করে ঘুমিয়ে পড়বে, বিছানা ধরবে। এরপর দোয়া-দুরুদ পড়লে তার ঘুম চলে আসবে। এটা তার দ্বারা সম্ভব। কিন্তু সে এটা করবে না; বরং সে অপেক্ষায় থাকবে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার, স্মার্টফোনটা হাতে নেওয়ার। রাত ১২টা অথবা ১টায় প্রথমে ফেসবুক চালাবে বা অন্যগুলো চালাবে। এরপর রাত যত গভীর হবে তত সে অশ্লীলতার গভীরে ডুবতে থাকবে। কারণ এটা থেকে সে বের হতে চায় না। অথচ সে কিন্তু ইচ্ছা করলে এ থেকে বের হয়ে আসতে পারে।
একজন লোক পারে যে, সে রাস্তায় অবনত হয়ে চলবে, পরনারীর প্রতি সে দৃষ্টি দিবে না। কিন্তু মনের ইটিশপিটিশের কারণে পারে না।
একজন লোক সুদের কারবার করে। বলুন তো সে যদি সুদের কারবারটা বন্ধ করে দেয় তাহলে কি সে না খেয়ে মারা যাবে? তার জীবনে কি দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে? তাহলে সুদের কারবারটা কেন সে ছাড়ে না? কারণ সে ছাড়বে না। তার সিদ্ধান্ত হল, সে ছাড়বে না। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে এখান থেকে ফিরে আসবে না। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও গুনাহ থেকে ফিরে না আসা, এটাই আলামত হল তার ঈমান প্রচণ্ড রকম দুর্বল।
এভাবে যে যে গুনাহ দ্বারা এডিক্টেড ইচ্ছা করলে সে ওই গুনাহ থেকে বের হতে পারে। এরপরেও সে তার শক্তি ও সামর্থ্যকে কাজে লাগায় না। কেন? কারণ হল কাজে লাগানোর জন্য তাকে যে অনুপ্রেরণা দিবে, সেই ঈমানী শক্তিটা তার কাছে নেই। ঈমানী শক্তির বড় অভাব!
📄 ২. নেক আমল ভালো না লাগা
ঈমানী দুর্বলতার দ্বিতীয় আলামত হল, তার নফস নেক আমলের প্রতি আগ্রহী হবে না। বলুন তো একজন রোগীর কাছে ভালো খাবার কি সুস্বাদু মনে হয়? যদি সে জ্বরাক্রান্ত হয় তাহলে তার কাছে সুস্বাদু খাবারও তিতা মনে হয়। অনুরূপভাবে এ ব্যক্তিও রোগী। কেননা সে তো এডিক্টেড। যার ফলে তার কাছে নেক আমল ভালো লাগবে না। নেক পরিবেশ ভালো লাগবে না। বরং এসবই গায়ের কাঁটা মনে হবে। নেক পরিবেশের কথা শুনলেই তার চুলকানি শুরু হবে। নেক আমলের কথা শুনলেই হাঁসফাঁস শুরু হবে। কুকুরের পেটেতো আর ঘি হজম হয় না! এদের চরিত্রও হয়ে গেছে এখন কুকুরের মত। ফলে নেক পরিবেশ কিংবা নেক আমলের মতো ঘি এখন এদের পেটে হজম হয় না। আল্লাহ বলেন—
إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا
তারা কেবল পশুদের মতো নয়, বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট। ১১
টিকাঃ
১১ সূরা ফুরকান: ৪৪
📄 ৩. হারাম উপার্জনে ব্যস্ত থাকা
ঈমানী দুর্বলতার তৃতীয় আলামত হল, হকদারের কাছে আমানত সে পৌঁছে দিবে না। অর্থাৎ সে হারাম উপায়ে উপার্জনের ভিতরে ব্যস্ত থাকবে। এটাও ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ার অন্যতম আলামত। তাহলে একজন লোক কোনো একটি গুনাহে আসক্ত হয়ে পড়ার প্রধান কারণ কী? ঈমানী দুর্বলতা। দুর্বল ঈমানের কারণে গুনাহের নেশা তাকে পেয়ে বসে।