📄 টয়লেটে বসে জিকির করা যাবে কি না?
একটা চুটকি মনে পড়ল। এক মুহাদ্দিসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, টয়লেটে বসে জিকির করা যাবে কি না? টয়লেটে বসে মুখে জিকির করা তো যাবে না। কিন্তু তিনি বলতেন যে, যাবে। মনে মনে জিকির করা যে যাবে এটা সবাই বলেন। বরং মনে মনে জিকির তো করতে হবে নতুবা সেখানে নানা ধরনের কুচিন্তা মাথায় আসে। যেমন এভাবে চিন্তা করতে পারেন যে, আল্লাহ আমাকে এখানেও দেখতে পাচ্ছেন। আমি কতটা অসহায়ভাবে বসে আছি; এটাই আমার হাকিকত। নগ্ন হয়ে বসে আছি, পেট থেকে নাপাক যাচ্ছে। এটাই আমি। এটাই আমার পরিচয়। এভাবে চিন্তা করলে অহংকার কমবে। আর পাশাপাশি জিকরে কালবি জারি রাখা। মুখে জিকির নিষেধ। কিন্তু ওই মুহাদ্দিস বলতেন যে, মুখেও জিকির করা যাবে। তো উনি যুক্তি দিতেন, দেখো নাপাকি যায় নিচের দিকে আর জিকির যায় উপরের দিকে। একটার সঙ্গে আরেকটার কী সম্পর্ক! إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে আর সৎকাজ সেগুলোকে উচ্চে তুলে ধরে। ৪
টিকাঃ
৪ সূরা ফাতির : ১০
📄 বদ আমলের প্রভাব খুব দ্রুত ছড়ায়
তো যেটা বলতে চেয়েছিলাম যে, নেক আমলের তাসিরটা একটু দেরিতে হয়। তবে স্থায়ী হয়, শক্তিশালী হয়, বরকতময় হয় এবং এই তাসিরের কারণে একজন মানুষ সংশোধন তো হয়েই যায় সঙ্গে অন্যের সংশোধনেরও কারণ হয়। পক্ষান্তরে বদ আমলের প্রভাবটা খুব দ্রুত ছড়ায়।
যেমন ধরুন, একটা খুব সুন্দর পরিবেশ। এ পরিবেশটা হয়তো গড়তে সময় লেগেছে ১০ বছর। একজন এসে হঠাৎ করে একটা ঝগড়া বাধিয়ে দিল। কতক্ষণ লাগল বলেন? হয়তো এক মিনিট। কিন্তু এই ১০ বছরের অর্জন শেষ! তাহলে বুঝা গেল, বদ আমলের তাসির বেশি দ্রুত ছড়ায়।
আপনি এক শিশি আতর রাখেন আর পাশে এক বালতি ময়লা রাখেন। আপনার নাকে কোনটার গন্ধ আগে আসবে? ময়লাটার গন্ধ আগে আসবে। বুঝা গেল, ময়লা জিনিসের দুর্গন্ধ আগে ছড়ায়। সুগন্ধির সুগন্ধটা একটু দেরিতে ছড়ায়। তবে ছড়ায়। এই কারণেই দুনিয়ার মধ্যে পথভ্রষ্ট লোকের সংখ্যা বেশি। আর আল্লাহ তাআলা নবীজি ﷺ-কে বলেছেন যে, আপনি অধিকাংশ লোকদের কথা শুনবেন না। কারণ অধিকাংশই পথভ্রষ্ট।
আল্লাহ বলেন وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ আপনি যদি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের অনুসরণ করেন তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে ফেলবে, তারা তো কেবল আন্দাজ- অনুমানের অনুসরণ করে চলে, তারা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু করে না। ৫
টিকাঃ
৫ সূরা আনআম : ১১৬
📄 আল্লামা আন্দুলুসি রহ. এবং খৃস্টান মেয়ে
আল্লামা আন্দুলুসি রহ. যাচ্ছিলেন হজের সফরে। পথিমধ্যে এক খৃস্টান মেয়ের প্রতি তার দৃষ্টি পড়ে গেল। এবার তিনি ওই মেয়ের প্রেমাসক্ত হয়ে পড়লেন। মেথরের মেয়ে। শূকর চরায়। কিন্তু ছিল যথেষ্ট সুন্দরী। তিনি ওই খৃস্টান মেয়েটার পিছনে পিছনে চলা শুরু করলেন। এরপর হল কী? তিনি ওই খৃস্টান মেয়ের প্রেমে পাগল হয়ে তার হাজার হাজার মুরিদ সব পিছনে ফেলে রেখে শেষ পর্যন্ত ওই মেয়ের বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলেন! মেয়েটির বাবা উত্তর দিল, আমার মেয়েকে বিয়ে করতে হলে তোমাকে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত তিনি এটাও করে ছাড়লেন। নাউযুবিল্লাহ। চিন্তা করে দেখুন, এ আসক্তিটা কতটা জঘন্য পর্যায়ের! অবশ্য পরবর্তীতে তিনি তাঁর মুরিদদের দোয়ার উসিলায় তাওবা করে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন আলহামদুলিল্লাহ।
📄 বুয়েট টিচারের তাওবা
আমি এরকমও শুনেছি, আমার কাছে এসে এক যুবক তাওবা করেছিল। বুয়েটের নব নিযুক্ত টিচার। তার বক্তব্য ছিল এ রকম যে, সে ইন্টারমিডিয়েটের সময় থেকে পর্ন-আসক্ত। এখন সে বুয়েটের শিক্ষক। তখন থেকে সে কবে রাতে ঘুমিয়েছে- ভুলে গিয়েছে। আল্লাহ মাফ করুন। হতে পারে আমাদের মধ্যেও কোনো যুবকের সঙ্গেও এ ঘটনাটা মিলে যাচ্ছে। আপনার জন্য আমার জন্য হয়তো গল্প হতে পারে, কিন্তু কারো জন্য এটাই বাস্তব হতে পারে। তো তার বক্তব্য ছিল, সে কবে রাতে ঘুমিয়েছে- ভুলে গিয়েছে। ইসলামপ্রেম তার অন্তরে বিদ্যমান। তাই ফিরে আসার চেষ্টা সে করেছেও; কিন্তু আসতে পারে-নি। একবার চিন্তা করে দেখুন, ইন্টারমিডিয়েট থেকে নিয়ে বুয়েটের টিচার হওয়া পর্যন্ত কত বছর সময় লাগে! এ বিশাল সময়ের মধ্যে কবে সে রাতে ঘুমিয়েছে, ভুলে গেছে। তাহলে তার আসক্তিটা কোন পর্যায়ের ছিল! এটা ছিল পরনারীর প্রতি আকর্ষণের কারণে। পরনারীর প্রতি আসক্তির কারণে তাকে এ নোংরা অভ্যাস পেয়ে বসেছিল।