📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


কুআসক্তি বিষয়ে যে আলোচনা তুলে ধরা হল, তাতে শুধু যুবক-যুবতি কিংবা খারাপ প্রকৃতির লোকেরা আক্রান্ত হয় তা ঠিক নয়। বরং অনেক সময় দেখা যায়, যারা ভালো ও সৎলোক বলে পরিচিত এবং যারা উন্নত ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করে তারাও আসক্তির বেড়াজালে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এছাড়াও যারা মানুষকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দিকে আহ্বান করে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দ্বীনের সত্যিকার ইলম অর্জনে সর্বদা নিয়োজিত থাকে, মানুষকে দীনি ইলম ও শরীয়তের মাসআলা-মাসায়েল শিক্ষা দেয়-জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে এবং তারা মানুষকে কুআসক্তি হতে দূরে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়াজ নছিহত করে থাকে, তারাও দেখা যায় তাদের নফস বা কুআসক্তির ধোঁকায় পড়ে যায়। বরং অনেক সময় দেখা যায় তাদের কুআসক্তি ও নফসের চাহিদা অন্য খারাপ লোকদের তুলনায় আরও বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করে। কিন্তু তারা তাদের কুআসক্তি ও নফসের চাহিদাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভয়ে এবং আখিরাতের বিনিময় ও ছাওয়াব লাভের আশায় নিয়ন্ত্রণ করে এবং দমিয়ে রাখে।
সুতরাং এ দুনিয়ার অবস্থার প্রতি সূক্ষ্ম ও গভীরভাবে চিন্তা করলে একজন ব্যক্তি এর কল্যাণ গ্রহণ করতে পারবে এবং দুনিয়ার অকল্যাণ হতে মুক্ত থাকতে পারবে। পক্ষান্তরে যে এর খারাপ পরিণতি দেখতে পাবে না ও এ সম্পর্কে সাবধান হবে না, তার উপর তার ইন্দ্রিয় প্রাধান্য পাবে, ফলে তা তার জন্য কষ্টের কারণ হবে এবং তাকে অজস্র জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে আমাদের পরম চাওয়া হল-তিনি যেন আমাদেরকে হারাম হতে বিরত রাখেন এবং আমাদের মাঝে ও হারামের মাঝে নির্মাণ করেন বরযখ বা পর্দা, সুদৃঢ় প্রাচীর ও মজবুত প্রতিবন্ধক। আর আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা যখন কোন ভুল বা অপরাধ করে, সাথে সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর যখন তারা কোন ভালো কাজ করেন, তখন তারা খুশি হন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট আমাদের আরও প্রার্থনা হল-তিনি যেন আমাদের আসক্তিকে তিনি যা পছন্দ করেন এবং যে সব কাজে সন্তুষ্ট হন সে কাজে ব্যবহার করতে পারি, সে তাওফিক দেন। আমিন।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00