📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 ছয়: প্রয়োজন ছাড়া নারীদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা

📄 ছয়: প্রয়োজন ছাড়া নারীদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা


নারিরা যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন শয়তান মাথা উঁচা করে দেখতে থাকে এবং শয়তান তাদের মানুষের দৃষ্টিতে খুব সুন্দর করে দেখায়। বাস্তবে তার যতটুকু সৌন্দর্য আছে শয়তান একটু বেশি করে দেখায়, যাতে মানুষকে সে অশ্লীল কাজ ও অপকর্মের মধ্যে লিপ্ত করতে পারে।
সুতরাং অভিভাবকদের উচিত হল—তারা যেন তাদের মেয়েদের রাস্তায় বের হওয়া হতে নিষেধ করে এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে যেতে না দেয়; যাতে তারা তাদের ইজ্জত, সম্মান ও পবিত্রতা সংরক্ষণ করতে পারে।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 সাত: ঘরের মধ্যে ব্যক্তিগত ইবাদতগুলো অধিকহারে করা

📄 সাত: ঘরের মধ্যে ব্যক্তিগত ইবাদতগুলো অধিকহারে করা


তোমরা তোমাদের ঘরকে কবর বানাবে না; যেখানে কোন জিকির নাই, দো'আ নাই এবং ইবাদত বন্দেগি নাই। বরং, তোমরা তোমাদের ঘরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদত বন্দেগি দ্বারা আবাদ কর, ঘরে সালাত আদায় কর ও কুরআন তিলাওয়াত কর। আর ঘরের মধ্যে নফল সালাত আদায়ের জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করবে যেখানে তোমরা নফল সালাত আদায় করবে, কুরআন তিলাওয়াত করবে। কুরআনের তিলাওয়াত শোনার জন্য একটি টেপরেকর্ড বা কম্পিউটার রাখবে। ঘরের মধ্যে কুরআন ও হাদিস ভিত্তিক দীনি বই পুস্তক রাখবে এবং এগুলো তালিমের পরিবেশ কায়েম করবে; যাতে তোমাদের পরিবারের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত হয়। এগুলো মানুষকে তাদের প্রভুর দিকে ধাবিত করবে এবং আসক্তির চাহিদা দুর্বল হবে।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 আট: দো‘আ করা

📄 আট: দো‘আ করা


দো'আ হল মুমিনের সত্যিকার ও মজবুত হাতিয়ার। দো'আ কখনোই বেকার যায় না। মুমিনের দায়িত্ব হল—সে সবসময় দো'আর হাতিয়ারকে ব্যবহার করবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ.
"আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে।"৬৭
উবাদা ইবনু সামেত রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَا عَلَى الْأَرْضِ مُسْلِمٌ يَدْعُو الله بِدَعْوَةٍ إِلَّا آتَاهُ اللَّهُ إِيَّاهَا، أَوْ صَرَفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا ؛ مَا لَمَ يَدْعُ بِإِثْمِ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِم فقال رجل من القوم: إذاً نكثر. قال الله أكثر.
"জমিনের বুকে কোন মুসলিম ব্যক্তি যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট কোন কিছু চায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে তা দান করবেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার থেকে সমপরিমাণ অকল্যাণ দূর করবে। তবে শর্ত তার দো'আ যেন কোন অন্যায় অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তন করার জন্য না হয়। এ কথা শোনে একজন লোক বলল, তাহলে আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অধিক হারে দো'আ করব। তখন বলল-আল্লাহ তোমাদের চেয়ে অধিক দো'আ কবুলকারী"।
নবি ইউসুফ আ. সম্পর্কে চিন্তা করে দেখ, যখন আসক্তি চাহিদার মুহূর্তে তাকে নিষিদ্ধ ও হারাম কাজের দিকে আহ্বান করা হয়, তখন সে কি বলেছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার কাহিনির বর্ণনা দিতে গিয়ে ইরশাদ করেন-
قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ. فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ : إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.
"সে (ইউসুফ) বলল, 'হে আমার রব! তারা আমাকে যে কাজের প্রতি আহ্বান করছে তা থেকে কারাগারই আমার নিকট অধিক প্রিয়। আর যদি আপনি আমার থেকে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত না করেন তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হব'। অতঃপর তার রব তার আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং তার থেকে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করলেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"৬৯
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ হল-তিনি আসক্তির ফিতনা হতে বাঁচা ও তা প্রতিহত করার জন্য তার সাহাবিদের দো'আ শেখাতেন।
শাকাল ইবনু হামিদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদের একটি দো'আ শিখিয়ে দিন। উত্তরে তিনি বলেন, তুমি বল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي، وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِي.
"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আমার কর্ণের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমার চোখের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমার মুখের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমার অন্তরের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং আমার বীর্যের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।"৭০
এখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বীর্যের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। আর বীর্যের অকল্যাণ বলে আসক্তি ও অসৎ প্রেরণা থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট আশ্রয় চাওয়াই উদ্দেশ্য।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الهُدَى، وَالتَّقَى، وَالعَفَافَ، وَالغِنَى.
“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা চাই"। ৭১
এখানে তিনি পবিত্রতা চেয়েছেন, যা কুআসক্তিকে দমিয়ে রাখা ও তার চিকিৎসার জন্য একান্ত প্রয়োজন।
সুতরাং তুমি অবশ্যই সতর্ক থাকবে, যাতে তোমার নিজের নফস তোমাকে ধোঁকায় না ফেলতে পারে এবং তোমাকে দো'আ করা হতে বিরত রাখতে না পারে। কারণ, ইবরাহিম আ. ও মূর্তিপূজা বর্জনের জন্য তার নিজের [তাকওয়া ও ঈমানি দৃঢ়তার] ওপর নির্ভর করেন নি বরং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দো'আ ও প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন-
وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ.
"আর স্মরণ কর 'যখন ইবরাহিম বলল-'আর আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন"। ৭২
তিনি শুধু মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে ছোট গুনাহ থেকে বাঁচার প্রার্থনা করেন নি বরং তিনি বড় শির্ক হতে বাঁচার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করেন। সুতরাং, তুমি কখনোই এ কথা বলবে না আমি একজন দ্বীনদার যুবক, আমি ইমাম, খতিব, বক্তা, তালেবে ইলম এবং আমি একজন দা'য়ী। সবারই উচিত সে তার নিজের বিষয়ে ফিতনায় লিপ্ত হওয়া হতে ভয় করবে। আর আমরা যখন আমাদের নিজের বিষয়ে ভয় করব, তখন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রার্থনা করব এবং তার নিকট ফিরে যাব, যাতে তিনি আমাদের গুনাহ থেকে হেফাজত করেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-
وَلَوْلَا أَن تَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدتَّ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا.
"আর আমি যদি তোমাকে অবিচল না রাখতাম, তবে অবশ্যই তুমি তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়তে"। ৭০
إِذا لَم يَكُنْ عَوْنُ مِنَ اللَّهُ لِلْفَتَى فَأَوْلُ مَا يَجْنِي عَلَيْهِ اجْتِهَادُهُ.
একজন যুবককে যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সহযোগিতা না করে তখন প্রথম যে বস্তুটি তার বিপদ ডেকে আনে তা হচ্ছে, তার ইজতিহাদ। ৭৪

টিকাঃ
৬৭ সুরা বাকারা: ১৮৬।
সুনানু তিরমিযি: ৩৫৭৩; শাইখ আলবানি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
*সূরা ইউসুফ: ৩৩-৩৪।
**সুনানু আবু দাউদ: ১৫৫১; সুনানু তিরমিযি: ৩৪৯২; সুনানু নাসাঈ ৫৪৫৬।
৭১ সহিহ মুসলিম: ২৭১১।
৭২ সুরা ইবরাহিম: ৩৫
৭০ সুরা আল ইসরা: ৭৪।
৭১ নাফ্হত তীব মিন গুছনিল উন্দুলুসির র‍্যাও ২/১৭৭।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 নয়: কুআসক্তির পিছনে দৌড়ার ক্ষতি সম্পর্কে চিন্তা ফিকির করা

📄 নয়: কুআসক্তির পিছনে দৌড়ার ক্ষতি সম্পর্কে চিন্তা ফিকির করা


ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায রহ. বলেন, যে ব্যক্তি তার দেহকে ভোগ-বিলাসের কাজে লাগাতে পছন্দ করে, সে তার নিজের জন্য অপমান-অশ্বত্থর গাছ বপন করা ছাড়া আর কিছুই করল না। ৭২
আব্দুস সাঈদ আয-যাহেদ রহ. বলেন, যে ব্যক্তি এ কথা জানল না যে, কুআসক্তি হল যড়যন্ত্রের একটি জাল, সে একজন নির্বোধ। ৭৬
দুনিয়া ও আখিরাতে ব্যভিচার ও অশ্লীল কাজের ক্ষতি সম্পর্কে যখন কোন মানুষ চিন্তা করবে তখন সে অবশ্যই জানতে পারবে কুআসক্তি ও নিষিদ্ধ কাজের পিছনে দৌড়ার ক্ষতি কি?

টিকাঃ
৭২ জুমুল হাওয়া: ২৭।
৭৬ জুমুল হাওয়া: ৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00