📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 পাঁচ: কোন নারি দেখে আকৃষ্ট হলে নিজের স্ত্রীর নিকট চলে আসা

📄 পাঁচ: কোন নারি দেখে আকৃষ্ট হলে নিজের স্ত্রীর নিকট চলে আসা


মনে রাখতে হবে, আসক্তি পূজা করা শুধু অবিবাহিত লোকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিবাহিত লোকও অনেক সময় তার নিজের স্ত্রীকে বাদ দিয়ে অন্য নারির প্রতি ঝুঁকে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায় বিবাহিত লোক অবিবাহিত লোকের চেয়ে আরও বেশি ফিতনার কারণ হয়। কারণ, সে নারিদের সাথে মিশেছে, তাদের সাথে সহবাস করছে। ফলে সে নারিদের সাথে মেলামেশা করা কি মজা তা জানে। আর যে কোন কিছুর মজা বা স্বাদ কি তা জানে আর যে জানে না উভয় সমান হতে পারে না।
সুতরাং বিবাহিত লোকদের এ বিষয়ে অধিক সতর্ক থাকতে হবে। তারা তাদের নিজেদের হেফাজত করার জন্য অধিক চেষ্টা করবে। যদি কোন অপরিচিত নারির দিকে দৃষ্টির কারণে অথবা নিষিদ্ধ বা উলঙ্গ ছবি ইত্যাদি দেখার কারণে তার অন্তরে কোন অপকর্ম বা খারাপ কাজের উদ্রেক হয়, তখন সে যেন দ্রুত তার স্ত্রীর নিকট গিয়ে তার স্বীয় প্রয়োজন পূর্ণ করে এবং তার নফসের চাহিদা মেটায়।
জাবের রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নারিকে দেখে তিনি তার স্ত্রী যয়নবের নিকট আসল। তখন যয়নব রা. তার শরীরকে পরিষ্কার করার জন্য মালিশ করতে ছিল। তারপর সে তার হাজত পূরণ করল এবং সাহাবিদের নিকট বের হয়ে বলল-
إِنَّ الْمَرَأَةَ تُقْبِلُ فِي صُورَةٍ شَيْطَانٍ، وَتُدْبِرُ فِي صُورَةٍ شَيْطَانٍ، فَإِذَا أَبْصَرَ أَحَدَكُمُ امْرَأَةٌ فَلْيَأْتِ أَهْلَهُ؛ فَإِنَّ ذَلِكَ يَرُدُّ مَا فِي نَفْسِهِ.
"নারিরা শয়তানের আকৃতিতে সামনের দিক অগ্রসর হয় আবার শয়তানের আকৃতিতে চলে যায়। তোমাদের যখন কোন নারি দেখে যৌন চাহিদা জেগে উঠে, তাহলে সাথে সাথে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গিয়ে চাহিদা মেটাবে। কারণ, এতে তোমাদের অন্তরে যে খারাপ ভাবের উদ্রেক করেছে তা দূর করে দেবে"।
অপর এক বর্ণনায় তিনি বলেন-
فَإِنَّ مَعَهَا مِثْلَ الَّذِي مَعَهَا.
"তার সাথে তাই আছে যা তোমার স্ত্রীর মধ্যে রয়েছে"।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নারিকে দেখল, এর অর্থ হল, একজন নারীর উপর হঠাৎ করে তার দৃষ্টি পড়ল। এতে কোন গুনাহ নাই। অথবা এ ঘটনা পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বের; তখন নারিদের দিকে তাকানো বৈধ ছিল।
আবী কাবশা আল-আনমারি রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তার সাথীদের সাথে বসা ছিলেন, তারপর তিনি মজলিশ থেকে উঠে ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং গোসল করে বের হলেন। তাকে দেখে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! নিশ্চয় কোন ঘটনা ঘটছে! তখন তিনি বললেন-
أَجَلْ، مَرَّتْ بِي فُلَانَةٌ فَوَقَعَ فِي قَلْبِي شَهْوَةُ النِّسَاءِ، فَأَتَيْتُ بَعْضَ أَزْوَاجِي فَأَصَبْتُهَا، فَكَذَلِكَ فَافْعَلُوا فَإِنَّهُ مِنْ أَمَائِلِ أَعْمَالِكُمْ إِثْيَانُ الحَلَالِ.
"আমার নিকট দিয়ে একজন নারি অতিক্রম করতে দেখে আমার অন্তরে নারির আকর্ষণ জাগ্রত হয়। তারপর আমি আমার একজন স্ত্রীর নিকট হাজির হয়ে তার সাথে সহবাস করি। তোমরাও তাই কর। কারণ, হালালের কাছে গমন করা তোমাদের সর্বোত্তম আমলেরই নামান্তর"। ৬৫
ইমাম নববি রহ. বলেন, কোন ব্যক্তি যখন কোন নারিকে দেখে তার যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তার জন্য মুস্তাহাব হল, সে তার স্ত্রীর নিকট আসবে এবং তার সাথে সহবাস করবে, সে তার যৌন ক্ষুধা নিবারণ করবে, তার অন্তরকে তার চাহিদা অনুযায়ী একত্র করবে এবং আত্মাকে শান্তি দেবে। শয়তান মানুষকে নারিদের ফিতনায় লিপ্ত হওয়ার দাওয়াত দিতে থাকে। কারণ, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুরুষদেরকে নারিদের প্রতি আকর্ষণ দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। তারা নারিদের দিকে দেখে এবং তাদের সাথে সম্পৃক্ত যে কোন কিছু দেখে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং মজা পায়। সুতরাং, বলা বাহুল্য—নারিরা শয়তানের মতই। শয়তান যেমন মানুষকে খারাপ ও অপকর্মের দিকে আহ্বান করে, অনুরূপভাবে নারিরাও তাদের সাজ-সজ্জা ও পর্দাহীনতা দিয়ে পুরুষদের অপকর্ম ও ব্যভিচারের দিকে ডাকতে থাকে। এতে এ কথা স্পষ্ট হয়— নারিরা যেন বেপর্দা হয়ে বিনা প্রয়োজনে পুরুষদের সাথে হাটে বাজারে রাস্তা ঘাটে বের না হয়। আর পুরুষদের কর্তব্য হল—তারা নারিদের প্রতি তাকাবে না এবং তাদের দেখলে চক্ষুকে অবনত করে রাখবে। ৬৬
উপরের দুটি হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের গোপন বিষয়ে যে স্পষ্ট কথা বলেন, তাতে অনেকেই বিষয়টিকে আশ্চর্য মনে করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে কিভাবে খারাপ চিন্তা আসল? আবার তিনি তা সাহাবিদের নিকট কীভাবে বললেন? কিন্তু তারা যখন তার কারণ সম্পর্কে জানবে তখন আর আশ্চর্যবোধ করবে না। কারণ, বিষয়টি খুবই মারাত্মক ও ক্ষতিকর। এ কারণেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, যাতে মুসলিমরা তার থেকে শিক্ষা লাভ করে এবং তার অনুকরণ করে。

টিকাঃ
* মুসনাদে আহমাদ: ১৭৫৬৭। শাইখ আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
** শরহু নববি আলা মুসলিম: ৯/১৭৮।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 ছয়: প্রয়োজন ছাড়া নারীদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা

📄 ছয়: প্রয়োজন ছাড়া নারীদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা


নারিরা যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন শয়তান মাথা উঁচা করে দেখতে থাকে এবং শয়তান তাদের মানুষের দৃষ্টিতে খুব সুন্দর করে দেখায়। বাস্তবে তার যতটুকু সৌন্দর্য আছে শয়তান একটু বেশি করে দেখায়, যাতে মানুষকে সে অশ্লীল কাজ ও অপকর্মের মধ্যে লিপ্ত করতে পারে।
সুতরাং অভিভাবকদের উচিত হল—তারা যেন তাদের মেয়েদের রাস্তায় বের হওয়া হতে নিষেধ করে এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে যেতে না দেয়; যাতে তারা তাদের ইজ্জত, সম্মান ও পবিত্রতা সংরক্ষণ করতে পারে।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 সাত: ঘরের মধ্যে ব্যক্তিগত ইবাদতগুলো অধিকহারে করা

📄 সাত: ঘরের মধ্যে ব্যক্তিগত ইবাদতগুলো অধিকহারে করা


তোমরা তোমাদের ঘরকে কবর বানাবে না; যেখানে কোন জিকির নাই, দো'আ নাই এবং ইবাদত বন্দেগি নাই। বরং, তোমরা তোমাদের ঘরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদত বন্দেগি দ্বারা আবাদ কর, ঘরে সালাত আদায় কর ও কুরআন তিলাওয়াত কর। আর ঘরের মধ্যে নফল সালাত আদায়ের জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করবে যেখানে তোমরা নফল সালাত আদায় করবে, কুরআন তিলাওয়াত করবে। কুরআনের তিলাওয়াত শোনার জন্য একটি টেপরেকর্ড বা কম্পিউটার রাখবে। ঘরের মধ্যে কুরআন ও হাদিস ভিত্তিক দীনি বই পুস্তক রাখবে এবং এগুলো তালিমের পরিবেশ কায়েম করবে; যাতে তোমাদের পরিবারের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত হয়। এগুলো মানুষকে তাদের প্রভুর দিকে ধাবিত করবে এবং আসক্তির চাহিদা দুর্বল হবে।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 আট: দো‘আ করা

📄 আট: দো‘আ করা


দো'আ হল মুমিনের সত্যিকার ও মজবুত হাতিয়ার। দো'আ কখনোই বেকার যায় না। মুমিনের দায়িত্ব হল—সে সবসময় দো'আর হাতিয়ারকে ব্যবহার করবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ.
"আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে।"৬৭
উবাদা ইবনু সামেত রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَا عَلَى الْأَرْضِ مُسْلِمٌ يَدْعُو الله بِدَعْوَةٍ إِلَّا آتَاهُ اللَّهُ إِيَّاهَا، أَوْ صَرَفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا ؛ مَا لَمَ يَدْعُ بِإِثْمِ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِم فقال رجل من القوم: إذاً نكثر. قال الله أكثر.
"জমিনের বুকে কোন মুসলিম ব্যক্তি যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট কোন কিছু চায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে তা দান করবেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার থেকে সমপরিমাণ অকল্যাণ দূর করবে। তবে শর্ত তার দো'আ যেন কোন অন্যায় অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তন করার জন্য না হয়। এ কথা শোনে একজন লোক বলল, তাহলে আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অধিক হারে দো'আ করব। তখন বলল-আল্লাহ তোমাদের চেয়ে অধিক দো'আ কবুলকারী"।
নবি ইউসুফ আ. সম্পর্কে চিন্তা করে দেখ, যখন আসক্তি চাহিদার মুহূর্তে তাকে নিষিদ্ধ ও হারাম কাজের দিকে আহ্বান করা হয়, তখন সে কি বলেছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার কাহিনির বর্ণনা দিতে গিয়ে ইরশাদ করেন-
قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ. فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ : إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.
"সে (ইউসুফ) বলল, 'হে আমার রব! তারা আমাকে যে কাজের প্রতি আহ্বান করছে তা থেকে কারাগারই আমার নিকট অধিক প্রিয়। আর যদি আপনি আমার থেকে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত না করেন তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হব'। অতঃপর তার রব তার আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং তার থেকে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করলেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"৬৯
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ হল-তিনি আসক্তির ফিতনা হতে বাঁচা ও তা প্রতিহত করার জন্য তার সাহাবিদের দো'আ শেখাতেন।
শাকাল ইবনু হামিদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদের একটি দো'আ শিখিয়ে দিন। উত্তরে তিনি বলেন, তুমি বল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي، وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِي.
"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আমার কর্ণের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমার চোখের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমার মুখের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমার অন্তরের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং আমার বীর্যের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।"৭০
এখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বীর্যের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। আর বীর্যের অকল্যাণ বলে আসক্তি ও অসৎ প্রেরণা থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট আশ্রয় চাওয়াই উদ্দেশ্য।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الهُدَى، وَالتَّقَى، وَالعَفَافَ، وَالغِنَى.
“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা চাই"। ৭১
এখানে তিনি পবিত্রতা চেয়েছেন, যা কুআসক্তিকে দমিয়ে রাখা ও তার চিকিৎসার জন্য একান্ত প্রয়োজন।
সুতরাং তুমি অবশ্যই সতর্ক থাকবে, যাতে তোমার নিজের নফস তোমাকে ধোঁকায় না ফেলতে পারে এবং তোমাকে দো'আ করা হতে বিরত রাখতে না পারে। কারণ, ইবরাহিম আ. ও মূর্তিপূজা বর্জনের জন্য তার নিজের [তাকওয়া ও ঈমানি দৃঢ়তার] ওপর নির্ভর করেন নি বরং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দো'আ ও প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন-
وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ.
"আর স্মরণ কর 'যখন ইবরাহিম বলল-'আর আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন"। ৭২
তিনি শুধু মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে ছোট গুনাহ থেকে বাঁচার প্রার্থনা করেন নি বরং তিনি বড় শির্ক হতে বাঁচার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করেন। সুতরাং, তুমি কখনোই এ কথা বলবে না আমি একজন দ্বীনদার যুবক, আমি ইমাম, খতিব, বক্তা, তালেবে ইলম এবং আমি একজন দা'য়ী। সবারই উচিত সে তার নিজের বিষয়ে ফিতনায় লিপ্ত হওয়া হতে ভয় করবে। আর আমরা যখন আমাদের নিজের বিষয়ে ভয় করব, তখন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রার্থনা করব এবং তার নিকট ফিরে যাব, যাতে তিনি আমাদের গুনাহ থেকে হেফাজত করেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-
وَلَوْلَا أَن تَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدتَّ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا.
"আর আমি যদি তোমাকে অবিচল না রাখতাম, তবে অবশ্যই তুমি তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়তে"। ৭০
إِذا لَم يَكُنْ عَوْنُ مِنَ اللَّهُ لِلْفَتَى فَأَوْلُ مَا يَجْنِي عَلَيْهِ اجْتِهَادُهُ.
একজন যুবককে যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সহযোগিতা না করে তখন প্রথম যে বস্তুটি তার বিপদ ডেকে আনে তা হচ্ছে, তার ইজতিহাদ। ৭৪

টিকাঃ
৬৭ সুরা বাকারা: ১৮৬।
সুনানু তিরমিযি: ৩৫৭৩; শাইখ আলবানি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
*সূরা ইউসুফ: ৩৩-৩৪।
**সুনানু আবু দাউদ: ১৫৫১; সুনানু তিরমিযি: ৩৪৯২; সুনানু নাসাঈ ৫৪৫৬।
৭১ সহিহ মুসলিম: ২৭১১।
৭২ সুরা ইবরাহিম: ৩৫
৭০ সুরা আল ইসরা: ৭৪।
৭১ নাফ্হত তীব মিন গুছনিল উন্দুলুসির র‍্যাও ২/১৭৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00