📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 তিন: দৈহিক শক্তিকে কল্যাণকর ও নেক আমলে ব্যয় করা

📄 তিন: দৈহিক শক্তিকে কল্যাণকর ও নেক আমলে ব্যয় করা


যুবকদের কর্তব্য হল-তারা তাদের দৈহিক শক্তি ও যৌবনকে গুরুত্ব দেবে এবং বিভিন্ন ধরনের নেক ও জনকল্যাণমূলক কাজে তাদের নিজেদের সময় ও যৌবনকে ব্যয় করবে। সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে যুবকরা সময়কে অধিক হারে ব্যয় করতে পারে। যেমন-আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দ্বীনের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া, সমাজের হতদরিদ্র ও অভাবী মানুষদের সাহায্য এগিয়ে আসা এবং মানুষের বিপদ ও দুর্যোগের সময় যুবকরা তাদের সাহায্যার্থে ঝাঁপিয়ে পড়া ইত্যাদি। এছাড়াও সমাজে যে কোন ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে তারা নেতৃত্বই দিতে পারে।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 চার: অন্যদের মধ্যে যৌন উত্তেজনা ছড়ানো হতে বিরত থাকা

📄 চার: অন্যদের মধ্যে যৌন উত্তেজনা ছড়ানো হতে বিরত থাকা


বর্তমানে আমরা যে যুগে বসবাস করি, তা হল নোংরামি, বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার যুগ। এ যুগে মারামারি, কাটাকাটি, হত্যা, গুম, চিন্তাই ইত্যাদি প্রায় নিত্য দিনের ঘটনা। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, দোকান-পাট যেখানেই তাকাই সেখানেই আমরা দেখতে পাই অশ্লীল গান-বাজনা, নগ্ন সিনেমা, উলঙ্গ ছবি, নারি-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইত্যাদি। এ সবের কারণে বর্তমানে যুব সমাজের চরিত্র প্রায় ধ্বংসের কাছাকাছি, তাদের নৈতিক অবক্ষয় ও অধঃপতন অপ্রতিরোধ্য। বর্তমানে আমরা আমাদের যুগে যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছি, অতীতে আমাদের বাপ- দাদারা তা কোনদিন চিন্তাও করেন নি।
বর্তমান যুগে মানুষের পোশাকগুলো তৈরি করা হচ্ছে এমনভাবে যাতে পোশাক পরিধান করার পরও একজন মানুষ অর্ধউলঙ্গ থাকে। তাদের দেখলেই মানুষের নফসের কামনা আরও বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে নারিদের পোশাক বানানো ও ডিজাইন করার জন্য কিছু লোক নিযুক্ত আছে, তারা সবসময় এ চিন্তা করে, কোন ধরনের পোশাক বানালে মানুষ তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবে এবং বিভিন্ন ধরনের ফিতনায় লিপ্ত হবে।
অনেককে আমরা বলতে শুনি তারা বলে, নারিদের পোশাকের অবস্থা এমন যে, তারা যদি তাদের পোশাক পরিধান না করে উলঙ্গ থাকত, তাহলে এতটা ফিতনার আশঙ্কা হত না। কারণ, তাদের এ পোশাকের আকর্ষণ তাদের উলঙ্গ থাকার চেয়েও অধিক মারাত্মক। এ পোশাক তাদেরকে তাদের প্রকৃত সুন্দরের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে।
ইহুদিরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান বানিয়েছে। তারা তাদের নারিদের থেকে কতক গায়িকা ও মডেল তৈরি করে তাদেরকে নোংরা পোশাক পরিধান করিয়ে বাজারে ছেড়ে দেয়, টিভি চ্যানেলে তাদের প্রদর্শিত হয়। তাদের দেখে আমাদের দেশের নারিরা তাদের নারিদের অনুকরণ করতে থাকে এবং তারাও তাদের সাজে সাজতে পছন্দ করে। তাদের দেখে দেখে আমাদের দেশের নারিরাও একই ধরণের পোশাক পরিধান করে, যা আমাদের দেশের নারিদের কপালে কলংকের দাগ টেনে দেয়। গার্মেন্টসগুলোতেও নারিদের জন্য ঐ ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়। যার কারণে বাজারে অশালীন পোশাক ছাড়া শালীন ও ভদ্র কোন পোশাক পাওয়াই বর্তমানে দুষ্কর। বরং বর্তমান বাজারে অধিকাংশ পোশাকই হল তাদের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সহায়ক।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 পাঁচ: কোন নারি দেখে আকৃষ্ট হলে নিজের স্ত্রীর নিকট চলে আসা

📄 পাঁচ: কোন নারি দেখে আকৃষ্ট হলে নিজের স্ত্রীর নিকট চলে আসা


মনে রাখতে হবে, আসক্তি পূজা করা শুধু অবিবাহিত লোকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিবাহিত লোকও অনেক সময় তার নিজের স্ত্রীকে বাদ দিয়ে অন্য নারির প্রতি ঝুঁকে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায় বিবাহিত লোক অবিবাহিত লোকের চেয়ে আরও বেশি ফিতনার কারণ হয়। কারণ, সে নারিদের সাথে মিশেছে, তাদের সাথে সহবাস করছে। ফলে সে নারিদের সাথে মেলামেশা করা কি মজা তা জানে। আর যে কোন কিছুর মজা বা স্বাদ কি তা জানে আর যে জানে না উভয় সমান হতে পারে না।
সুতরাং বিবাহিত লোকদের এ বিষয়ে অধিক সতর্ক থাকতে হবে। তারা তাদের নিজেদের হেফাজত করার জন্য অধিক চেষ্টা করবে। যদি কোন অপরিচিত নারির দিকে দৃষ্টির কারণে অথবা নিষিদ্ধ বা উলঙ্গ ছবি ইত্যাদি দেখার কারণে তার অন্তরে কোন অপকর্ম বা খারাপ কাজের উদ্রেক হয়, তখন সে যেন দ্রুত তার স্ত্রীর নিকট গিয়ে তার স্বীয় প্রয়োজন পূর্ণ করে এবং তার নফসের চাহিদা মেটায়।
জাবের রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নারিকে দেখে তিনি তার স্ত্রী যয়নবের নিকট আসল। তখন যয়নব রা. তার শরীরকে পরিষ্কার করার জন্য মালিশ করতে ছিল। তারপর সে তার হাজত পূরণ করল এবং সাহাবিদের নিকট বের হয়ে বলল-
إِنَّ الْمَرَأَةَ تُقْبِلُ فِي صُورَةٍ شَيْطَانٍ، وَتُدْبِرُ فِي صُورَةٍ شَيْطَانٍ، فَإِذَا أَبْصَرَ أَحَدَكُمُ امْرَأَةٌ فَلْيَأْتِ أَهْلَهُ؛ فَإِنَّ ذَلِكَ يَرُدُّ مَا فِي نَفْسِهِ.
"নারিরা শয়তানের আকৃতিতে সামনের দিক অগ্রসর হয় আবার শয়তানের আকৃতিতে চলে যায়। তোমাদের যখন কোন নারি দেখে যৌন চাহিদা জেগে উঠে, তাহলে সাথে সাথে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গিয়ে চাহিদা মেটাবে। কারণ, এতে তোমাদের অন্তরে যে খারাপ ভাবের উদ্রেক করেছে তা দূর করে দেবে"।
অপর এক বর্ণনায় তিনি বলেন-
فَإِنَّ مَعَهَا مِثْلَ الَّذِي مَعَهَا.
"তার সাথে তাই আছে যা তোমার স্ত্রীর মধ্যে রয়েছে"।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নারিকে দেখল, এর অর্থ হল, একজন নারীর উপর হঠাৎ করে তার দৃষ্টি পড়ল। এতে কোন গুনাহ নাই। অথবা এ ঘটনা পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বের; তখন নারিদের দিকে তাকানো বৈধ ছিল।
আবী কাবশা আল-আনমারি রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তার সাথীদের সাথে বসা ছিলেন, তারপর তিনি মজলিশ থেকে উঠে ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং গোসল করে বের হলেন। তাকে দেখে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! নিশ্চয় কোন ঘটনা ঘটছে! তখন তিনি বললেন-
أَجَلْ، مَرَّتْ بِي فُلَانَةٌ فَوَقَعَ فِي قَلْبِي شَهْوَةُ النِّسَاءِ، فَأَتَيْتُ بَعْضَ أَزْوَاجِي فَأَصَبْتُهَا، فَكَذَلِكَ فَافْعَلُوا فَإِنَّهُ مِنْ أَمَائِلِ أَعْمَالِكُمْ إِثْيَانُ الحَلَالِ.
"আমার নিকট দিয়ে একজন নারি অতিক্রম করতে দেখে আমার অন্তরে নারির আকর্ষণ জাগ্রত হয়। তারপর আমি আমার একজন স্ত্রীর নিকট হাজির হয়ে তার সাথে সহবাস করি। তোমরাও তাই কর। কারণ, হালালের কাছে গমন করা তোমাদের সর্বোত্তম আমলেরই নামান্তর"। ৬৫
ইমাম নববি রহ. বলেন, কোন ব্যক্তি যখন কোন নারিকে দেখে তার যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তার জন্য মুস্তাহাব হল, সে তার স্ত্রীর নিকট আসবে এবং তার সাথে সহবাস করবে, সে তার যৌন ক্ষুধা নিবারণ করবে, তার অন্তরকে তার চাহিদা অনুযায়ী একত্র করবে এবং আত্মাকে শান্তি দেবে। শয়তান মানুষকে নারিদের ফিতনায় লিপ্ত হওয়ার দাওয়াত দিতে থাকে। কারণ, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুরুষদেরকে নারিদের প্রতি আকর্ষণ দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। তারা নারিদের দিকে দেখে এবং তাদের সাথে সম্পৃক্ত যে কোন কিছু দেখে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং মজা পায়। সুতরাং, বলা বাহুল্য—নারিরা শয়তানের মতই। শয়তান যেমন মানুষকে খারাপ ও অপকর্মের দিকে আহ্বান করে, অনুরূপভাবে নারিরাও তাদের সাজ-সজ্জা ও পর্দাহীনতা দিয়ে পুরুষদের অপকর্ম ও ব্যভিচারের দিকে ডাকতে থাকে। এতে এ কথা স্পষ্ট হয়— নারিরা যেন বেপর্দা হয়ে বিনা প্রয়োজনে পুরুষদের সাথে হাটে বাজারে রাস্তা ঘাটে বের না হয়। আর পুরুষদের কর্তব্য হল—তারা নারিদের প্রতি তাকাবে না এবং তাদের দেখলে চক্ষুকে অবনত করে রাখবে। ৬৬
উপরের দুটি হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের গোপন বিষয়ে যে স্পষ্ট কথা বলেন, তাতে অনেকেই বিষয়টিকে আশ্চর্য মনে করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে কিভাবে খারাপ চিন্তা আসল? আবার তিনি তা সাহাবিদের নিকট কীভাবে বললেন? কিন্তু তারা যখন তার কারণ সম্পর্কে জানবে তখন আর আশ্চর্যবোধ করবে না। কারণ, বিষয়টি খুবই মারাত্মক ও ক্ষতিকর। এ কারণেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, যাতে মুসলিমরা তার থেকে শিক্ষা লাভ করে এবং তার অনুকরণ করে。

টিকাঃ
* মুসনাদে আহমাদ: ১৭৫৬৭। শাইখ আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
** শরহু নববি আলা মুসলিম: ৯/১৭৮।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 ছয়: প্রয়োজন ছাড়া নারীদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা

📄 ছয়: প্রয়োজন ছাড়া নারীদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা


নারিরা যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন শয়তান মাথা উঁচা করে দেখতে থাকে এবং শয়তান তাদের মানুষের দৃষ্টিতে খুব সুন্দর করে দেখায়। বাস্তবে তার যতটুকু সৌন্দর্য আছে শয়তান একটু বেশি করে দেখায়, যাতে মানুষকে সে অশ্লীল কাজ ও অপকর্মের মধ্যে লিপ্ত করতে পারে।
সুতরাং অভিভাবকদের উচিত হল—তারা যেন তাদের মেয়েদের রাস্তায় বের হওয়া হতে নিষেধ করে এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে যেতে না দেয়; যাতে তারা তাদের ইজ্জত, সম্মান ও পবিত্রতা সংরক্ষণ করতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00