📄 এক: বিবাহিত ব্যক্তিকে পবিত্র ও সৎ থাকতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সাহায্য করে
কোনো ব্যক্তি যদি বিবাহের মাধ্যমে পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বীয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কারণ, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দা থেকে সব ধরনের অশ্লীলতা দূর করতে চান এবং তাকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার জন্য যেসব কর্মকে হালাল করেছেন, তার দিকে ধাবিত করতে এবং হারাম থেকে বিরত রাখতে চান। আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
ثَلَاثَةٌ حَقٌّ عَلَى الله عَوْنُهُمْ المُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ الله، وَالْمَكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الأداءَ، وَالنَّاكِحُ الَّذِي يُرِيدُ العَفَافَ.
“তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের উপর ওয়াজিব। এক: আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ। দুই: চুক্তিবদ্ধ গোলাম—যে মুক্তিপণ আদায় করতে চায়। তিন: বিবাহিত ব্যক্তি—যে পবিত্র থাকতে চায়”।৫৮
যদি কোন ব্যক্তি এমন হয়, একটি স্ত্রী দ্বারা তার আসক্তির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং সে তার নিজের বিষয়ে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে, তাহলে তার উপর একাধিক বিবাহ করা ওয়াজিব, যাতে সে হারাম থেকে বাঁচতে পারে। আর যদি এক স্ত্রী দ্বারা তার আসক্তির ক্ষুধা নিবারণ হচ্ছে, তবে একটি স্ত্রী নিয়ে থাকাতে তার কষ্ট হচ্ছে, তাহলে তার জন্য পরবর্তী বিবাহ করা মোস্তাহাব।
টিকাঃ
৫৮ সুনানু তিরমিযি: ১৬৫৫। হাদিসটি হাসান।
📄 দুই: রোজা রাখা
রোজা যুবকদের অপকর্ম, যিনা, ব্যভিচার ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে হেফাজত করে। এ কারনেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকদের রোজার চিকিৎসা গ্রহণ করার প্রতি উপদেশ দেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি আমাদের হাদিস বর্ণনা করে বলেন-
مَنِ اسْتَطَاعَ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ؛ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءُ.
"তোমাদের মধ্যে যাদের ক্ষমতা আছে তারা যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ তোমাদের চোখের জন্য অধিক হেফাজতকারী এবং তোমাদের লজ্জাস্থানের সংরক্ষক। আর যে ব্যক্তি বিবাহ করার সামর্থ রাখে না তাকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। কারণ, রোজা তার জন্য প্রতিষেধক"।৫৯
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকদের প্রথমে শেফাদানকারি চিকিৎসা অর্থাৎ বিবাহের দিকে পথ দেখান। কিন্তু তাতে যদি কেউ অক্ষম হয় তাকে তার পরিবর্তে কি করতে হবে তার প্রতি দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। আর তা হল রোজা রাখা। কারণ, রোজা মানুষের আসক্তির চাহিদাকে দুর্বল করে এবং আসক্তির উৎপাতকে দমিয়ে ও সংকোচিত করে দেয়। মানুষের আসক্তি সাধারণত খাদ্যের আধিক্য ও বিভিন্নতার কারণে শক্তিশালী হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ ও অধিক খাদ্য একজন মানুষের আসক্তির চাহিদাকে বাড়িয়ে দেয়। আর রোজা রাখা দ্বারা তা অনেকটা কমে যায়। যখন একজন মানুষ রোজা রাখতে থাকে, তখন সে খাসিকৃত জন্তুর মত হয়ে যায়। যে ব্যক্তি সবসময় রোজা রাখে তার যৌন চাহিদা ও আসক্তি দুর্বল হবে না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। ৬০
তাছাড়া আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-হাদিসে কুদসীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-
... وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ
"রোজা মুমিনের জন্য ঢালস্বরূপ”। ৬১
ঢালস্বরূপ এ কথার অর্থ হল, রোজা রক্ষাকারী ও গোপনকারী। রোজা মানবাত্মাকে আসক্তির চাহিদা ও তার উত্তেজনা থেকে হেফাজত করে এবং মানুষকে হারামে লিপ্ত হওয়া হতে বাঁচায়। কারণ, খাদ্য মানুষের যৌন চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। আর রোজার মানেই হল খাদ্য-পানীয় থেকে বিরত থাকা।
আল্লামা কুরতুবি রহ. বলেন, "খাদ্য যত কম হবে, আসক্তি ততই দুর্বল হবে। আর আসক্তি যত দুর্বল হবে তার গুনাহ کم হবে"। ৬২
টিকাঃ
** সহিহ বুখারি: ১৯০৫; সহিহ মুসলিম: ১৪০০।
৬০ রওজাতুল মুহিব্বিন: ২১৯।
৬১ সহিহ বুখারি: ৭৪৯২।
৬২ তাফসিরে কুরতুবি: ২/২৭৫।
📄 তিন: দৈহিক শক্তিকে কল্যাণকর ও নেক আমলে ব্যয় করা
যুবকদের কর্তব্য হল-তারা তাদের দৈহিক শক্তি ও যৌবনকে গুরুত্ব দেবে এবং বিভিন্ন ধরনের নেক ও জনকল্যাণমূলক কাজে তাদের নিজেদের সময় ও যৌবনকে ব্যয় করবে। সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে যুবকরা সময়কে অধিক হারে ব্যয় করতে পারে। যেমন-আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দ্বীনের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া, সমাজের হতদরিদ্র ও অভাবী মানুষদের সাহায্য এগিয়ে আসা এবং মানুষের বিপদ ও দুর্যোগের সময় যুবকরা তাদের সাহায্যার্থে ঝাঁপিয়ে পড়া ইত্যাদি। এছাড়াও সমাজে যে কোন ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে তারা নেতৃত্বই দিতে পারে।
📄 চার: অন্যদের মধ্যে যৌন উত্তেজনা ছড়ানো হতে বিরত থাকা
বর্তমানে আমরা যে যুগে বসবাস করি, তা হল নোংরামি, বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার যুগ। এ যুগে মারামারি, কাটাকাটি, হত্যা, গুম, চিন্তাই ইত্যাদি প্রায় নিত্য দিনের ঘটনা। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, দোকান-পাট যেখানেই তাকাই সেখানেই আমরা দেখতে পাই অশ্লীল গান-বাজনা, নগ্ন সিনেমা, উলঙ্গ ছবি, নারি-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইত্যাদি। এ সবের কারণে বর্তমানে যুব সমাজের চরিত্র প্রায় ধ্বংসের কাছাকাছি, তাদের নৈতিক অবক্ষয় ও অধঃপতন অপ্রতিরোধ্য। বর্তমানে আমরা আমাদের যুগে যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছি, অতীতে আমাদের বাপ- দাদারা তা কোনদিন চিন্তাও করেন নি।
বর্তমান যুগে মানুষের পোশাকগুলো তৈরি করা হচ্ছে এমনভাবে যাতে পোশাক পরিধান করার পরও একজন মানুষ অর্ধউলঙ্গ থাকে। তাদের দেখলেই মানুষের নফসের কামনা আরও বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে নারিদের পোশাক বানানো ও ডিজাইন করার জন্য কিছু লোক নিযুক্ত আছে, তারা সবসময় এ চিন্তা করে, কোন ধরনের পোশাক বানালে মানুষ তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবে এবং বিভিন্ন ধরনের ফিতনায় লিপ্ত হবে।
অনেককে আমরা বলতে শুনি তারা বলে, নারিদের পোশাকের অবস্থা এমন যে, তারা যদি তাদের পোশাক পরিধান না করে উলঙ্গ থাকত, তাহলে এতটা ফিতনার আশঙ্কা হত না। কারণ, তাদের এ পোশাকের আকর্ষণ তাদের উলঙ্গ থাকার চেয়েও অধিক মারাত্মক। এ পোশাক তাদেরকে তাদের প্রকৃত সুন্দরের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে।
ইহুদিরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান বানিয়েছে। তারা তাদের নারিদের থেকে কতক গায়িকা ও মডেল তৈরি করে তাদেরকে নোংরা পোশাক পরিধান করিয়ে বাজারে ছেড়ে দেয়, টিভি চ্যানেলে তাদের প্রদর্শিত হয়। তাদের দেখে আমাদের দেশের নারিরা তাদের নারিদের অনুকরণ করতে থাকে এবং তারাও তাদের সাজে সাজতে পছন্দ করে। তাদের দেখে দেখে আমাদের দেশের নারিরাও একই ধরণের পোশাক পরিধান করে, যা আমাদের দেশের নারিদের কপালে কলংকের দাগ টেনে দেয়। গার্মেন্টসগুলোতেও নারিদের জন্য ঐ ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়। যার কারণে বাজারে অশালীন পোশাক ছাড়া শালীন ও ভদ্র কোন পোশাক পাওয়াই বর্তমানে দুষ্কর। বরং বর্তমান বাজারে অধিকাংশ পোশাকই হল তাদের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সহায়ক।