📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 পঞ্চম: নিষিদ্ধ কাজে শৈথিল্য

📄 পঞ্চম: নিষিদ্ধ কাজে শৈথিল্য


মানুষ যখন কোন কাজে শিথিলতা দেখায়, তখন তা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে। অধিকাংশ সময় মেয়েদের প্রতি তাকানো ও তাদের সাথে সংমিশ্রণ মানুষকে অশ্লীল কাজ করতে বাধ্য করে। অথচ প্রথম যখন একজন মানুষ কোন মেয়ের সাথে কথা-বার্তা বলে ও তার দিকে তাকায় তখন তার খারাপ কোন উদ্দেশ্য থাকে না। কিন্তু ধীরে ধীরে তার অবনতি হতে থাকে এবং তা বড় আকার ধারণ করে। ছোট হারাম বা ছোট গুণাহের প্রতি শৈথিল্য তাকে বড় হারাম বা কবীরা গুণাহের দিক নিয়ে যায়।
বর্তমান সময়ে অনেক পরিবার এমন আছে, যারা চাকরানিকে তাদের যুবক ছেলের সাথে মিশতে কোন বাধা দেয় না, তারা মনে করে, এতে কোন সমস্যা নাই। কারণ, আমাদের ছেলেরা কি ঘরের চাকরানির সাথে কোন অপকর্ম করতে পারে? কিন্তু পরবর্তীতে যখন দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তখন তারা লজ্জায় নিজের আঙুল নিজেই কাটতে থাকে।
আবার অনেক পরিবার আছে যারা তাদের মেয়েদের ড্রাইভারের সাথে ছেড়ে দেয়। মনে করে, সে একজন ড্রাইভার; তার সাথে কি আমাদের মেয়েরা কোন খারাপ চিন্তা করতে পারে? কিন্তু না, দেখা যায় এর পরিণতি খুবই খারাপ হয়। মেয়েরা ড্রাইভারের প্রেমে পড়ে যায় এবং অনেক সময় তা-ই ঘটে যা তুমি কোন দিন চিন্তাই করতে পারনি।
এ ধরনের অনেক ঘটনাই আমাদের শৈথিল্যের কারণে সমাজে সংঘটিত হচ্ছে, যা একজন মানুষকে মহা বিপদ ও ধ্বংসের মধ্যে নিপতিত করে।

📘 আসক্তি সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার > 📄 ষষ্ঠ: যৌন উত্তেজক বস্তুর সাথে উঠাবসা করা

📄 ষষ্ঠ: যৌন উত্তেজক বস্তুর সাথে উঠাবসা করা


হারাম বা নিষিদ্ধ কাজে একজন মানুষ তখন লিপ্ত হয়, যখন বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক কাজ যেমন, গান, বাজনা, সিনেমা, মেয়েদের সাথে কথা বলা ও হাসি ঠাট্টা ইত্যাদির সাথে তার সংশ্রব থাকে। এ কারণেই শরিয়ত অপকর্মের সকল উপাদানকে নিষেধ করে। যেমন—শরিয়ত রাস্তার মাঝে বসা হতে নিষেধ করে। কারণ রাস্তায় বসলে বিভিন্ন ধরনের নোংরা ছবি, পোষ্টার ও মেয়েদের দেখারা আশঙ্কা থাকে, যেগুলো একজন মানুষের যৌন উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করে এবং অপকর্মের দিক উৎসাহ যোগায়।
আবু সাঈদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إِيَّاكُم وَالجُلُوسَ فِي الطُّرُقَاتِ فقالوا يا رسول الله ما لنا بد، من مجالسنا - نتحدث فيها. قال فَإِذَا أَبَيْتُمْ إِلَّا المَجْلِسَ فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهَ قالوا: وما حقه؟ قال غَضُّ البَصَرِ، وَكَفُ الأَذَى، وَرَدُّ السَّلَامِ، والأمرُ بِالمَعْرُوفِ والنهي عَنِ المُنْكَرِ.
"তোমরা রাস্তার মাঝে বসা হতে বিরত থাক। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম বলল, হে আল্লাহর রাসুল! রাস্তায় বসা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নাই। আমরা রাস্তায় বসে কথাবার্তা বলি। তাদের কথার উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি রাস্তায় বসা ছাড়া তোমাদের কোন উপায় না থাকে তাহলে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। এ কথা শুনে সাহাবিরা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! রাস্তার হক কি? তিনি বলেন, রাস্তার হক হলো চক্ষুকে অবনত করা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তুকে সরানো, সালামের উত্তর দেয়া, ভালো কাজের আদেশ দেয়া এবং খারাপ কাজ হতে নিষেধ করা"। ১৫
ইসলামি শরিয়তও ইবাদতের স্থানে নারি ও পুরুষের একত্রিকরণ এবং তাদের সাথে সংমিশ্রণ-যা যৌন উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করে তা নিষেধ করেছেন। কারণ, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সালাতে নারিদের কাতারকে পুরুষের কাতার থেকে আলাদা করেছেন, নারিদের জন্য মসজিদে প্রবেশের দরজা আলাদা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নারিদের মসজিদ থেকে পুরুষদের পরে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এসবগুলো এজন্যই হলো-যাতে একজন মানুষ যৌন উত্তেজনা হতে দূরে ও সতর্ক থাকে।
গান-বাজনা, সিনেমা, হোটেল, রেস্তোরা, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, অশ্লীল পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন ইত্যাদি যেগুলোতে নারিদের উলঙ্গ ছবি চাপানো হয়, এগুলো সবই যৌন উত্তেজক ও চরিত্র হননকারী। বর্তমানে ইন্টারনেট ও ফেসবুক মানুষের চরিত্র ধ্বংস করার জন্য একটি বড় ধরনের উপকরণ বা মাধ্যম। এতে শুধু চরিত্রই নষ্ট হয় না বরং এতে রয়েছে সময়ের অপচয়, অনর্থক কাজে লিপ্ত থাকা ইত্যাদি। আর সময়ের অপচয় ও সময় নষ্ট করা একজন মানুষের জীবনের জন্য খুবই মারাত্মক ও ক্ষতিকর।

টিকাঃ
১৫ সহিহ বুখারি: ২৪৬৫; সহিহ মুসলিম: ২১২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00