📄 দ্বিতীয়: অসৎ সঙ্গ
আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
الرَّجُلُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ.
"মানুষ তার বন্ধুর স্বভাবের উপরই প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, সুতরাং তোমরা দেখে শোনে বন্ধু নির্বাচন করবে"।১০
সাধারণত মানুষ যে সব অন্যায়, পাপাচার, অপরাধ ও অপকর্ম করে থাকে, তার অধিকাংশের কারণ হল, তার অসৎ সঙ্গি। যাদের সঙ্গি খারাপ হয়, তারা ইচ্ছা করলেও ভালো থাকতে পারে না। সঙ্গিরা তাদের খারাপ ও অন্যায় কাজের দিকে নিয়ে যায়।
একজন সতের বছরের যুবক তার জীবনে প্রথম অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে বলল-"আমি প্রথমে আমার এক বন্ধুর বাসায় তার সাথে সাক্ষাত করতে গিয়ে সেখানে নিষিদ্ধ সিনেমা দেখি। আমি তার কামরায় অবস্থান করলে সে একটি ভিডিও ফিল্ম চালালে আমি তার সাথে বসে তা দেখতে থাকি। এ ছিল আমার জীবনের সর্বপ্রথম অপরাধ"।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নোংরামি, অশ্লীলতা ও ব্যভিচারকে নিষেধ করেন এবং বেহায়াপনা হতে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-
لا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا.
"মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে কারো উপর যুলুম করা হলে ভিন্ন কথা। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।”১১
টিকাঃ
১০ সুনানু আবু দাউদ: ৪৭৩৩; সুনানু তিরমিযি: ২৩৭৮। শাইখ আলবানি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
১১ সুরা নিসা: ১৪৮।
📄 তৃতীয়: দৃষ্টির হেফাজত করা
মানুষ যখন রাস্তায় বের হয় তখন তাকে অবশ্যই দৃষ্টির হেফাজত করতে হবে। কারণ, মানুষের দৃষ্টি হল ইবলিসের বিষাক্ত হাতিয়ার বা তীর। দৃষ্টি হেফাজত করতে না পারলে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের শিকার হতে হয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদের দৃষ্টির ব্যাপারে অধিক সতর্ক করেন এবং ভয় দেখান।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন- قُل لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ.
"মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত"।"
টিকাঃ
১২ সুনানু তিরমিযি: ১৯৭৭। শাইখ আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
১৩ সুরা নুর: ৩০।
📄 চতুর্থ: বেকারত্ব
বেকারত্ব যুবকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। শুধু ক্ষতিই নয়, এটি মানব জীবনের জন্য বড় একটি অভিশাপ। যখন তাদের কোন কাজ না থাকে তখন তাদের মস্তিষ্কে খারাপ চিন্তা ঢুকে পড়ে এবং বেকারত্ব তাদের খারাপ ও অশ্লীল কাজের দিকে নিয়ে যায়। তারা খারাপ, অন্যায় ও অশ্লীল কাজের চক আঁকতে থাকে। ধীরে ধীরে তাদের অবস্থা এমন হয় যে, তারা শুধু খারাপ চিন্তাই করতে থাকে। ভালো কোন চিন্তা তাদের মাথায় আসে না। ফলে সে এমন খারাপ অভ্যাসের অনুশীলন করতে থাকে, যা তার জীবনকে ধ্বংসের দ্বার-প্রান্তে পৌঁছে দেয়।
মানবাত্মা যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আনুগত্য ও ইবাদত বন্দেগিতে সময় ব্যয় করবে না তখন সে অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নাফরমানিতে সময় নষ্ট করবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় বাণীতে এ কথাটিই বলেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
نِعْمَتَانِ مَغْبُونُ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصَّحَةُ، وَالفَرَاغُ.
"দুটি নেয়ামত এমন আছে যার মধ্যে অধিকাংশ মানুষ প্রতারিত। এক: সুস্থতা; দুই: অবসরতা"। ১৪
বেকার থাকা একটি বড় মুসিবত এবং আত্মার জন্য মারাত্মক ক্ষতি। যদি মানুষ কোন ভালো কাজে ব্যস্ত না থাকে, তাহলে শয়তান অবশ্যই তাকে খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যায়"।
টিকাঃ
১৪ সহিহ বুখারি: ৬৪১২।
📄 পঞ্চম: নিষিদ্ধ কাজে শৈথিল্য
মানুষ যখন কোন কাজে শিথিলতা দেখায়, তখন তা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে। অধিকাংশ সময় মেয়েদের প্রতি তাকানো ও তাদের সাথে সংমিশ্রণ মানুষকে অশ্লীল কাজ করতে বাধ্য করে। অথচ প্রথম যখন একজন মানুষ কোন মেয়ের সাথে কথা-বার্তা বলে ও তার দিকে তাকায় তখন তার খারাপ কোন উদ্দেশ্য থাকে না। কিন্তু ধীরে ধীরে তার অবনতি হতে থাকে এবং তা বড় আকার ধারণ করে। ছোট হারাম বা ছোট গুণাহের প্রতি শৈথিল্য তাকে বড় হারাম বা কবীরা গুণাহের দিক নিয়ে যায়।
বর্তমান সময়ে অনেক পরিবার এমন আছে, যারা চাকরানিকে তাদের যুবক ছেলের সাথে মিশতে কোন বাধা দেয় না, তারা মনে করে, এতে কোন সমস্যা নাই। কারণ, আমাদের ছেলেরা কি ঘরের চাকরানির সাথে কোন অপকর্ম করতে পারে? কিন্তু পরবর্তীতে যখন দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তখন তারা লজ্জায় নিজের আঙুল নিজেই কাটতে থাকে।
আবার অনেক পরিবার আছে যারা তাদের মেয়েদের ড্রাইভারের সাথে ছেড়ে দেয়। মনে করে, সে একজন ড্রাইভার; তার সাথে কি আমাদের মেয়েরা কোন খারাপ চিন্তা করতে পারে? কিন্তু না, দেখা যায় এর পরিণতি খুবই খারাপ হয়। মেয়েরা ড্রাইভারের প্রেমে পড়ে যায় এবং অনেক সময় তা-ই ঘটে যা তুমি কোন দিন চিন্তাই করতে পারনি।
এ ধরনের অনেক ঘটনাই আমাদের শৈথিল্যের কারণে সমাজে সংঘটিত হচ্ছে, যা একজন মানুষকে মহা বিপদ ও ধ্বংসের মধ্যে নিপতিত করে।