📄 বিশুদ্ধ তাওবার আলামত
বিশুদ্ধ তাওবার আলামত পাঁচটি :
১. তাওবার পরের অবস্থা পূর্বের অবস্থার চেয়ে উত্তম হওয়া।
২. তাওবার পরও শাস্তির শঙ্কা কেটে না যাওয়া। ওই ব্যক্তির তাওবা বিশুদ্ধ, যে তাওবার পরও গুনাহের শাস্তির ব্যাপারে শঙ্কিত থাকে, যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন তার কানে এ সুসংবাদ পৌঁছায়—
أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
'তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোনো।' ১৯৯
৩. অন্তরে সব সময় গুনাহের লজ্জা ও শাস্তির ভীতি জাগ্রত থাকা। গুনাহের তারতম্য অনুযায়ী লজ্জা ও ভীতির মাত্রায়ও তারতম্য হতে পারে।
৪. আল্লাহর সামনে সর্বদা নম্র ও বিনয়াবনত থাকা।
৫. অধিক নেক আমল করা ও তার ওপর অটল থাকা।
ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ. বলেন, 'তাওবাকারীদের জন্য এমন এক গর্বের বিষয় আছে, যা পৃথিবীর সকল গর্বকে হার মানিয়ে দেয়। তা হলো, তাদের তাওবা আল্লাহকে আনন্দিত করে।'
প্রিয় ভাই আমার, আর কতদিন পৃথিবীতে আছি আমরা? যেকোনো মুহূর্তে চলে আসতে পারে মাওলার ডাক। সে ডাকে সাড়া না দিয়ে কারও উপায় নেই। তাই এখনই সময়—তাওবা করে পুণ্যের পথে ফিরে আসার। এখনই সময়—লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে অশ্রু বিসর্জন দেওয়ার। চলো, আমরা মাওলার ডাক আসার পূর্বেই তাওবা করে নিই এবং ইমানকে পোক্ত করে নিই। দুহাত তুলে আল্লাহকে বলি :
وَلَمَّا قَسَا قَلْبِي وَضَاقَتْ مَذَاهِبِي *** جَعَلْتُ رَجَائِي نَحْوَ بَابِكَ سُلَّمَا تَعَاظَمَنِي ذَنْبِي فَلَمَّا قَرَنْتُهُ *** بِعَفْوِكَ رَبِّي كَانَ عَفْوُكَ أَعْظَمَا
'আমার হৃদয় পাষাণ হয়ে গেছে, সংকীর্ণ হয়ে গেছে মুক্তির সকল পথ। তবু তোমার দয়ার আশা সম্বল করে দরবারে হাজির হয়েছি হে রব। বুঝতে পারি, আমার পাপের বোঝা অনেক ভারী। কিন্তু তোমার দয়ার সাথে তুলনা করে দেখি, তা আরও সুমহান!'
টিকাঃ
১৯৯. সুরা ফুসসিলাত : ৩০
📄 পরিশিষ্ট
আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা নিয়ে তাঁর অশেষ রহমতের আলোচনা টেনে পুস্তিকাটি শেষ করতে যাচ্ছি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও এভাবে উত্তম ধারণা নেওয়াকে পছন্দ করতেন। আমাদের আমলনামায় তো এমন কোনো নেক আমল নেই, যার মাধ্যমে মাগফিরাত ও ক্ষমার আশা করতে পারি। তাই অন্তত উত্তম ধারণা পোষণ করছি। আর আশা করছি, আমাদের পুস্তিকাটি যেভাবে আল্লাহর অসীম রহমতের উত্তম আলোচনা দ্বারা শেষ হয়েছে, সেভাবেই আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের শেষ পরিণতি যেন কল্যাণময় ও উত্তম হয়।
এবার আল্লাহর রহমতের বিশালতার কিছু প্রমাণ শুনে নাও। কুরআন মাজিদে তিনি ইরশাদ করেন :
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
'নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্য যেকোনো পাপ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। '১৯৯
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন :
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
'বলুন, “হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।””২০০
অন্যত্র ইরশাদ করেন:
وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا
'যে গুনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়। '২০১
আল্লাহর কাছে আমরা আমাদের সকল পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমাদের সকল পদস্খলন ও কলমের ভুল থেকে। ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমাদের কথা অনুযায়ী আমল না করার পাপ থেকে। আমরা মার্জনা কামনা করছি সে পাপ থেকে, যা আমরা অঙ্গীকার ভঙ্গ করার মাধ্যমে, ইলম অনুযায়ী আমল না করার মাধ্যমে এবং নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহার না করার মাধ্যমে করেছি। আমরা লোকদের দেখানোর উদ্দেশ্যে যেসব ভালো কাজ করেছি, সেসবের পাপ থেকে ক্ষমা ভিক্ষা করছি। হে মহান প্রভু, আমাদের ক্ষমা করে দিন।
প্রিয় ভাই, পরিশেষে আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাকে, তোমাকে ও সকল মুমিন ভাইবোনকে তাওবা করে পুণ্যের পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করেন। এবং আমাদের সকলকে চিরশান্তির জান্নাতে একত্র করেন, যেখানে এমন সব নিয়ামত রয়েছে—যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, এমনকি কারও মনে তার চিত্রও কল্পিত হয়নি। আমিন।
টিকাঃ
১৯৯. সুরা আন-নিসা: ৪৮
২০০. সুরা আজ-জুমার: ৫৩
২০১, সুরা আন-নিসা: ১১০
📄 গ্রন্থপঞ্জি
০১. ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, আবু হামিদ আল-গাজ্জালি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ। প্রথম প্রকাশ: ১৪০৬ হিজরি।
০২. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন, মাওয়ারদি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।
০৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, হাফিজ ইবনু কাসির, মুতবিআতুল মুতাওয়াসসাত।
০৪. বুসতানুল আরিফিন, ইমাম আন-নববি, তাহকিক : মুহাম্মাদ আল- হাজ্জার।
০৫. তারিখু বাগদাদ, খতিব আল-বাগদাদি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।
০৬. আত-তাবসিরাহ, ইবনুল জাওজি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ। প্রথম প্রকাশ: ১৪০৬ হিজরি।
০৭. তাজকিরাতুল হুফফাজ, শামসুদ্দিন আজ-জাহাবি, দারু ইহইয়ায়িত তুরাস।
০৮. আত-তাজকিরাহ ফি আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ, ইমাম আল-কুরতুবি, দারুর রিয়াদ। দ্বিতীয় প্রকাশ: ۱۴۰৬ হিজরি।
০৯. তাজকিয়াতুন নুফুস, ড. আহমাদ মাজিদ, দারুল কলম, বৈরুত।
১০. তাসলিয়াতু আহলিল মাসায়িব, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বানজি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ। প্রথম প্রকাশ: ১৪০৬ হিজরি।
১১. জামিউল উলুম ওয়াল হিকام, ইবনু রজব আল-হাম্বলি । পঞ্চম প্রকাশ : ১৪০০ হিজরি।
১২. জান্নাতুর রিজা ফিত তাসলিম লিমা কাদ্দারাল্লাহ ওয়া কাজা, আবু ইয়াহইয়া মুহাম্মাদ আসিম আল-গারনাতি, দারুল বাশির, ১৪১০ হিজরি।
১৩. হিলইয়াতুল আওলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া, হাফিজ আবু নুআইম, দারুল কুতুবিল আরাবি।
১৪. দিওয়ানুল ইমাম আলি, সংকলন ও ব্যাখ্যা : নায়িম জারজুর। দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪০৫ হিজরি।
১৫. দিওয়ানুল ইমামিশ শাফিয়ি, সংকলন ও টীকা : মুহাম্মাদ আফিফ আজ- জাগনি, দারুল জিল, বৈরুত, দ্বিতীয় প্রকাশ : ১৩৯২ হিজরি।
১৬. কিতাবুজ জুহদ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল। পুনঃপাঠ (دارسة) ও তাহকিক : মুহাম্মাদ আস-সায়িদ বাসিউনি, দারুল কুতুবিল আরাবি, প্রথম প্রকাশ : ১৪০৬ হিজরি।
১৭. কিতাবুজ জুহদ আল-কাবির, আহমাদ বিন হুসাইন বাইহাকি, তাহকিক : ড. তাকিউদ্দিন আন-নদবি, দারুল কলম, দ্বিতীয় প্রকাশ : ১৪০৩ হিজরি।
১৮. আজ-জাহরুল ফায়িহ ফি জিকরি তানাজজুহি আনিজ জুনুবি ওয়াল কাবায়িহ, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ ইউসুফ আল-জাজারি। তাহকিক : মুহাম্মাদ বাসিউনি, দারুল কিতাবিল আরাবি, প্রথম প্রকাশ : ১৪০৬ হিজরি।
১৯. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইমাম আজ-জাহাবি। তাহকিক : শুআইব আরনাউত ও হুসাইন আল-আসাদ, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪০১ হিজরি।
২০. শাজারাতুজ জাহাব ফি আখবারি মান জাহাব, ইবনুল ইমাদ আল- হাম্বলি, দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি।
২১. শারহুস সুদুর বি শারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবুর, হাফিজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ। প্রথম প্রকাশ: ১৪০৪ হিজরি।
২২. সিফাতুস সাফওয়াহ, ইবনুল জাওজি। তাহকিক : মাহমুদ ফাহুজি এবং মুহাম্মাদ রাওয়াস, দারুল মারিফা, ১৪০৫ হিজরি।
২৩. সাইদুল খাতির, ইবনুল জাওজি, দারুল কিতাবিল আরাবি, ২য় প্রকাশ : ১৪০৭ হিজরি।
২৪. তাবাকাতুল হানাবিলাহ, কাজি আবু ইয়ালা, মাতবাআতুস সুন্নাহ আল- মুহাম্মাদিয়া ও দারুল মারিফা, বৈরুত।
২৫. তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতুল কুবরা, তাজুদ্দিন আবু নাসর আব্দুল ওয়াহ্হাব বিন আলি আস-সুবকি, দারু ইহইয়ায়িল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ।
২৬. আল-আকিবাহ ফি জিকরিল মাওতি ওয়াল আখিরাহ, ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক আল-ইশবিলি। তাহকিক : খাদির মুহাম্মাদ খাদির, মাকতাবাতু দারিল আকসা, ১ম প্রকাশ: ১৪০৬ হিজরি।
২৭. উদ্দাতুস সাবিরিন ওয়া জাখিরাতুশ শাকিরিন, ইবনু কায়ি্যমিল জাওজিয়্যাহ, দারুল কিতাবিল আরাবি, ২য় প্রকাশ : ১৪০৬ হিজরি।
২৮. উকুদুল লু'লু' ফি ওজায়িফি শাহরি রামাজান, ইবরাহিম ইবনু উবাইদ।
২৯. আল-ফাওয়ায়িদ, ইবনু কায়্যিমিল জাওজিয়্যাহ, দারুন নাফায়িস।
৩০. মাদারিজুস সালিকিন, ইবনু কায়্যিমিল জাওজিয়্যাহ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ২য় প্রকাশ: ১৪০৮ হিজরি।
৩১. মুকাশাফাতুল কুলুব, আবু হামিদ আল-গাজ্জালি, দারু ইহইয়াইল উলুম, ১ম প্রকাশ: ১৪০৮ হিজরি।
৩২. মাওয়ারিদু জামআন লি দুরুসিজ জামান, আব্দুল আজিজ আস-সালমান, ১৩শ তম প্রকাশ, ১৪০৩ হিজরি।
৩৩. ওয়াফায়াতুল আ'ইয়ান ওয়া আনবাউ আবনাইজ জামান, ইবনু খাল্লিকান, দারু সাদির বৈরুত, ১৩৯৭ হিজরি।
৩৪. ওয়াহাতুল ইমান, আব্দুল Hamid আল-বুলালি, দারুদ দাওয়াহ, প্রথম প্রকাশ: ১৪০৯ হিজরি।
৩৫. মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনি তাইমিয়্যাহ, আব্দুর রহমান বিন কাসিম ও মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান, তাসবির, প্রথম প্রকাশ : ১৩৯৮।
৩৬. আল-জাওয়াবুল কাফি, ইবনু কাইয়্যিমিল জাওজিয়্যাহ, তাহকিক : আবু হুজাইফা, দারুল কিতাবিল আরাবি, প্রথম প্রকাশ: ১৪০৭।
৩৭. তারতিবুল মাদারিক ও তাকরিবুল মাসালিক লি মারিফাতি আলামি মাজহাবিল ইমাম মালিক, কাজি ইয়াজ, মাকতাবাতুল হায়াত।