📘 এসো তাওবার পথে > 📄 তাওবার স্বরূপ

📄 তাওবার স্বরূপ


তাওবার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত এবং কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা তাওবার নির্দেশ দিয়েছেন— وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ 'মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।'১৪৬
সত্য দিলে যারা তাওবা করে, তাদের তাওবা আল্লাহ তাআলা অবশ্যই কবুল করেন। কারণ, তাদের অশ্রু সত্য, অন্তর কদর্যতামুক্ত এবং তারা কিয়ামত দিবস সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত থাকে, যেদিন অন্তর ও চক্ষু পরিবর্তন হয়ে যাবে।
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, 'তাওবাকারীদের সাথে ওঠাবসা করো। কারণ, তাদের অন্তর কোমল হয়ে থাকে।'১৪৭
কথিত আছে, ফুজাইল বিন ইয়াজ রহ. একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত ছিলেন। একটি মেয়েকে তিনি খুব ভালোবাসতেন। একরাতে দেওয়াল টপকিয়ে মেয়েটির কাছে যাওয়ার সময় শুনতে পেলেন, জনৈক কারি মনকাড়া সুরে তিলাওয়াত করছেন-
) أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি?১৪৮) তৎক্ষণাৎ তিনি বলে উঠলেন, 'অবশ্যই, আমার হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় এসে গেছে।' অতঃপর তিনি তাওবা করে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরে এলেন। আজীবন তিনি তাওবার ওপর অটল ছিলেন। ফলে একসময়ের ভয়ংকর ডাকাত ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিলেন বিজ্ঞ আলিম, দুনিয়াবিমুখ বুজুর্গ ও ইবাদতকারী হিসেবে। হাজার হাজার মানুষ হিদায়াতের দিশা পেয়েছে তাঁর কথা ও কর্মে। ১৪৯
কবি বলেন: خَلَّ الذُّنُوبَ صَغِيرَهَا *** وَكَبِيرَهَا ذَاكَ التُّقَى واصْنَعْ كَمَاشٍ فَوْقَ أَرْضِ *** الشَّوْكِ يَحْذَرُ مَا يَرَى لَا تَحْقِرَنَّ صَغِيرَةً *** إِنَّ الْجِبَالَ مِنَ الْحَصَى 'বড় হোক বা ছোট, মুত্তাকি হতে হলে সব গুনাহ ছাড়তে হবে। কণ্টকাকীর্ণ পথে চলা সতর্ক পথিকের মতোই চলতে হবে তোমাকে।
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গুনাহকেও তুচ্ছ মনে কোরো না। কেননা, ছোট ছোট পাথরকণা মিলেই গঠিত হয় পর্বতমালা।'১৫০
ইবরাহিম বিন বাশশার রহ. বলেন, 'আমি ইবরাহিম বিন আদহাম রহ.-কে বললাম, "আপনার হিদায়াতের সূচনা কীভাবে হয়েছে, আমাকে একটু বলুন।” তিনি বললেন, “তা শুনে তোমার কী লাভ?” আমি বললাম, “আপনি বলুন, হয়তো এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমার কোনো উপকার করবেন।” তিনি বললেন, “আমি রাজবংশের ছেলে ছিলাম। শিকার করে বেড়ানো ছিল আমার প্রধান শখ। একদিন ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে শিকারে বের হলাম।
অরণ্যের সবুজ বুক মাড়িয়ে ঢুকে পড়লাম গভীর জঙ্গলে। একটি শিয়াল কি খরগোশ চট করে পালিয়ে গেল সামনে থেকে। ঘোড়াকে সেদিকে ফেরানোর জন্য লাগামে হাত দিতেই পেছন থেকে কে যেন বলে উঠল, “তোমাকে এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি এবং এই কাজের জন্য তুমি আদিষ্ট নও।” চkite পেছনে ফিরে তাকালাম। কই, কেউ তো নেই! নিশ্চয় ইবলিসের শয়তানি। আল্লাহ তার ওপর অভিসম্পাত করুন। অতঃপর ঘোড়াকে সামনে চলতে তাগাদা দিলাম। কিন্তু কণ্ঠটি আবার কানে ভেসে এল- “হে ইবরাহিম, তোমাকে এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। তোমাকে ভিন্ন কিছুর আদেশ দেওয়া হয়েছে।”এবার প্রথমবারের চেয়ে জোরালো শোনাল কণ্ঠটি। এবারও পেছনে কাউকে দেখতে পেলাম না। ইবলিসের বাচ্চা! আল্লাহ তোর ওপর লানত করুন! হঠাৎ খেয়াল করলাম আওয়াজটি আমারই ঘোড়ার জিনের বাঁকা অংশটি থেকে আসছে! তখন আমি বুঝে গেলাম, আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে সতর্ক করা হচ্ছে। সেই মুহূর্তে আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আল্লাহর কসম, আজ থেকে যতদিন আল্লাহ তাওফিক দেন, কোনোদিন তাঁর নাফরমানি করব না। এরপর ঘরে ফিরে আসলাম। ঘোড়াটাকে সেখানে রেখে আব্বার চাকরদের নিকট গেলাম। তাদের থেকে একটি চাদরের জুব্বা নিয়ে আমার কাপড়-চোপড় তাদের দিয়ে দিলাম। অতঃপর ইরাক চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে অনেক দিন যাবৎ নেক আমল ও আধ্যাত্মিক সাধনার মেহনত করলাম। সে সময়ে হালাল ব্যতীত অন্য কোনো খাবার আমি স্পর্শ করিনি।
অতঃপর একদিন বলা হলো, "এবার তোমাকে শামে যেতে হবে।''
কবি বলেন:
فِي الدَّاهِبِينَ الأَوَّلِ *** ينَ مِنَ الْقُرُونِ لَنَا بَصَائِرُ لَمَّا رَأَيْتُ مَوَارِدًا *** لِلْمَوْتِ لَيْسَ لَهَا مَصَادِرُ وَرَأَيْتُ قَوْمِي نَحْوَهَا *** يَسْعَى الأَكَابِرُ وَالأَصَاغِرُ لَا يَرْجِعُ المَاضِي إِلَي *** وَلَا مِنَ البَاقِيْنَ غَابِرُ أَيْقَنْتُ أَنِّي لا مَا *** لَةَ حَيْثُ صَارَ الْقَوْمُ صَائِرُ
'যুগে যুগে বিলুপ্ত হওয়া অনেক সম্প্রদায়ের ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়। আমি দেখতে পাই এমন অজস্র মৃত্যুফাঁদ, যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় নেই। আমার সম্প্রদায়েরও ছোট-बড় সকলেই একই পথে ছুটে চলেছে। যারা চলে গেছে, তারা আর কখনো আসবে না ফিরে। যারা বাকি আছে, তাদেরও কোনো স্থায়িত্ব নেই। এসব দেখে আমার বিশ্বাস জন্মে গেছে, আমাকেও একদিন তাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।'১৫১
সালাম বিন আবি মুতি' রহ. বলেন, 'আল্লাহ তাআলা তোমাকে যেসব দুনিয়াবি নিয়ামত দান করেছেন, সেগুলোর ওপর যে পরিমাণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি কৃতজ্ঞতা দ্বীনি নিয়ামতের ওপর প্রকাশ করা আবশ্যক।'১৫২
আয়িশা রা. বলেন, 'কম গুনাহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে সুখকর আর কিছু নেই। যে ব্যক্তি ফজিলতের ক্ষেত্রে অক্লান্ত আমলকারীর চেয়েও এগিয়ে যেতে চায়, সে যেন নিজেকে অধিক গুনাহ থেকে বিরত রাখে।'১৫৩
প্রিয় ভাই আমার, তোমাকে সত্য পথের ওপর অবিচল ও অটল থাকতে হবে-যে পথ তাকওয়ার পথ। জনৈক কবি বলেন :
وَاتَّقِ اللهَ فَتَقْوَى اللهِ مَـا جَاوَرَتْ قَلْبَ امْرِيءٍ إِلَّا وَصَلْ لَيْسَ مَنْ يَقْطَعُ طُرُقاً بَطَلاً إِنَّمَـا مِـنْ يَّـتَّـقِ اللهَ الْبَطَلْ
‘তাকওয়া অবলম্বন করো, যে তাকওয়া হাসিল করতে পারে সেই সফল। সে বীর নয়, যে অন্যের ধনসম্পদ লুট করে। প্রকৃত বীর তো সে, যার মাঝে আছে আল্লাহভীতি।’
হাসান রহ. বলতেন, ‘আমরা হেসেখেলে জীবন কাটাচ্ছি, অথচ এমনও হতে পারে যে, আমাদের কিছু মন্দ আমলের কারণে আল্লাহ খুব রাগান্বিত হয়ে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন, “আমি তোমাদের কোনো আমল কবুল করব না।”’১৫৪
দুনিয়ার পুরোটাই ধোঁকা। তার সৌন্দর্যে মজিয়ে রেখে তোমাকে সে আখিরাতের ফিকির থেকে গাফিল করে রেখেছে। ‘দুনিয়া কা মজা ল্যা লও, দুনিয়া তোমহারি হ্যায়...’ প্রতারণার এ মন্ত্রে তোমাকে বশ করে নিয়েছে সে। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন তোমার অগোচরে চলে আসবে মৃত্যু। তখন কিছুই করার থাকবে না। সাধের দুনিয়াও রহস্যময় হাসি দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেবে সেদিন।
কবি বলেন: فَلَا تَغُرَّنَّكَ الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا *** وَانْظُرْ إِلَى فِعْلِهَا فِي الأَهْلِ وَالْوَطَنِ وَانْظُرْ إِلَى مَنْ حَوَى الدُّنْيَا بِأَجْمَعِهَا *** هَلْ رَاحَ مِنْهَا بِغَيْرِ الحَنْطِ وَالكَفَنِ
‘দুনিয়া ও তার চাকচিক্যে প্রবঞ্চিত হয়ো না। তোমার পূর্বের পরিবার- পরিজনের সঙ্গে তার নির্মম ব্যবহার দেখো। সেই লোকটির দিকে তাকাও, যে দুনিয়ার সব সম্পদ অর্জন করেছে, কিন্তু যাওয়ার কালে সে হানুত সুগন্ধি ও কাফনের কাপড় ব্যতীত কিছুই সঙ্গে নিতে পারেনি।’১৫৫
ভাই, হাসান রহ.-এর কথাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। তিনি বলেন, 'মুমিন হলো ওই ব্যক্তি, যে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন, তা-ই হবে। মুমিন সৎকর্মশীল হয় এবং আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে। পাহাড়সম সম্পদও যদি সে আল্লাহর রাস্তায় দান করে, তবুও নিশ্চিন্ত হয় না যে, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত সে মুক্তি পাবে। তার আমল যত বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর প্রতি ভয়ও তত বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে মুনাফিক বলে, “কত মানুষকেই তো আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন। তাদের সাথে আমাকেও অবশ্যই ক্ষমা করে দেবেন। কিয়ামতের দিন আমাকে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।”-এ বলে সে একনাগাড়ে খারাপ কর্ম করে যায়; আর আল্লাহর রহমতের দিবাস্বপ্ন দেখে।'১৫৬
রাবি বিন খুসাইম রহ. তার ছাত্রদের বললেন, 'তোমরা কি রোগ, ওষুধ ও আরোগ্য—এগুলো সম্পর্কে জানো?' তারা বলল, 'জানি না।' তিনি বললেন, 'রোগ হলো গুনাহ; ওষুধ হলো ইসতিগফার এবং আরোগ্য হলো তাওবা করার পর পুনরায় গুনাহ না করা।'১৫৭
প্রিয় ভাই আমার, নফসের জিহাদের জন্যেও অস্ত্র লাগে। এর অস্ত্র হলো: সবর, অধ্যবসায়, ভীতি, শঙ্কা, আশা ইত্যাদি। নফসের বিরুদ্ধে জিহাদে জয়লাভ করার জন্য কবিরা ও সগিরা-সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। ছোট বা দুর্বল মনে করে সগিরা গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করলে নির্ঘাত ধরা হবে।
আমর বিন মুররাহ রহ. বলেন, 'একটি মেয়ের ওপর আমার দৃষ্টি পড়ল। মেয়েটি দেখতে ভীষণ সুন্দরী ছিল। একদৃষ্টে চেয়ে থাকতে মন চাইছিল, কিন্তু আমি মনের বিরুদ্ধে গিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম। আমি আশা করি, এভাবে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়াটা আমার জন্য কাফফারা হবে।'১৫৮
ভাই, সালাফের পথ ছেড়ে কোথায় আমরা!? তারা সুন্দরী মেয়েদের দেখলে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতেন। কিন্তু আমরা দৃষ্টির লাগام ছেড়ে দিই, যেন খুঁজে খুঁজে সুন্দরী মেয়েদের ওপর গিয়ে পড়ে। আমরা দৃষ্টিকে সংযত রাখি না। অথচ দৃষ্টিকে সংযত রাখা আল্লাহর নির্দেশ। আফসোস, আমাদের অন্তরে আজ আল্লাহর ভয় নেই!
কবি বলেন: تَفْنَى اللَّذَاذَةُ مِمَّنْ نَالَ صَفْوَتَها *** مِنَ الْحَرَام، وَيَبْقَى الْإِثْمُ وَالْعَارُ تَبْقَى عَواقِبُ سُوءٍ فِي مَغَبَّتِها *** لا خَيْرَ فِي لَذَّةٍ مِنْ بَعْدِها النَّارُ 'নিষিদ্ধ সুখ যতক্ষণ উপভোগ করা হয়, ততক্ষণই শুধু অনুভূত হয়। কিন্তু গুনাহ ও লজ্জা থেকে যায় চিরকাল। ফলস্বরূপ অপেক্ষা করে তার জন্য মর্মন্তুদ শান্তি। যে সুখের পরিণতি জাহান্নামের আগুন, সে সুখ কল্যাণকর নয়।'
আবু হাজিম সালামা বিন দিনার রহ. বলেন, 'যে আমলটি তোমার সাথে আখিরাতে থাকাকে তুমি পছন্দ করো, তা আজই পাঠিয়ে দাও। আর যে কর্মটি তোমার সাথে আখিরাতে থাকাকে তুমি অপছন্দ করো, তা আজই পরিত্যাগ করো।'১৫৯
প্রিয় মুসলিম ভাই, إِذَا مَا خَلَوْتَ الدَّهْرَ يَوْمًا فَلَا تَقُلْ *** خَلَوْتُ ولكِنْ قُل عَلَيَّ رَقِيبُ وَلَا تَحْسَبَنَّ اللهَ يَغْفِل ما مَضَى *** وَلَا أَنَّ مَا تُخْفِي عَلَيْهِ يَغِيبُ لَهَوْنَا عَنِ الأَيَّامِ حَتَّى تَتَابَعتْ *** ذُنُوبُ عَلَى آثَارِهِنَّ ذُنُوبُ 'নিঃসঙ্গ হলে ধোঁকা খেয়ো না, ভেবো না তুমি একা; আল্লাহ তোমাকে সব সময় পর্যবেক্ষণ করছেন! মনে করো না ক্ষণিকের জন্যেও তিনি গাফিল হন; বরং যা তুমি গোপন করছ, তা তাঁর অগোচরে নয়। হেলায় ফেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি আমরা দিনগুলো, একের পর এক গুনাহ জমছে—ভারী হয়ে উঠছে ক্রমশ পাপের বোঝা।'
মালিক বিন দিনার রহ. একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন—
'আরব্য গ্রামের কনকনে শীতের সকাল। কুয়াশার শুভ্রতা গোটা পরিবেশটাকে অন্ধকার করে রেখেছে। তাকে ভেদ করে সকালের দুর্বল সূর্যরশ্মি পৌঁছতে পারেনি ভূপৃষ্ঠে। অদূরে আবছা দেখতে পেলাম, এক যুবক কেবল দুটি ফিনফিনে পাতলা কাপড় গায়ে গমগম করে হেঁটে যাচ্ছে কুয়াশার বুক চিরে। তার চোখে-মুখে দুআ কবুল হওয়ার আনন্দ ঝিলিক মারছে। কাছে চলে আসলে যুবকটিকে চিনতে পারলাম আমি। গতবছর বসরায় তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখন তার ধন-ঐশ্বর্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি পূর্ণ ছিল।
তার এ অবস্থা দেখে আমার কান্না চলে আসলো। আমাকে চিনতে পেরে সেও কেঁদে দিল। সালাম দিয়ে বলল, “মালিক বিন দিনার, যে গোলাম তার মনিবের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে, তার ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?” তার কথায় আমার কান্নার বেগ বেড়ে গেল। বললাম, “গোটা বিশ্বের মালিক তিনি, সকল মানুষ তাঁর বান্দা। কেউ তার থেকে পালিয়ে কোথায় যাবে?” সে বলল, “হে মালিক, একদিন আমি শুনতে পেলাম, জনৈক কারি মধুর সুরে তিলাওয়াত করছেন—
يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ
“সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোনো গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না।”১৬০
আয়াতটি শুনে আমি অনুভব করলাম, আমার পাঁজরে আগুন ধরে গিয়েছে। আজ পর্যন্ত সে আগুন নেভেনি। হে মালিক, তুমি কি বলতে পারো, কী করলে আমার সে আগুন নির্বাপিত হবে?” আমি বললাম, “রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করো। তিনি পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু।” অতঃপর তাকে বললাম, “এখন কোথায় যাচ্ছ?” সে বলল, “মক্কায় যাচ্ছি। সম্ভবত হারামে আশ্রয় নিলে আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানের চাদরে বেষ্টিত হতে পারব।” অবশেষে আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে যুবকটি চলে গেল। যুবকটির উপদেশ শ্রবণ করার প্রবণতা, আল্লাহভীতি ও তাওবা আমাকে খুব আশ্চর্যান্বিত করল।১৬১
ভাই, মিথ্যে আশায় অনেক দিন বসে থেকেছি। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আরও কতদিন অপেক্ষা করব তাওবার জন্য? এখনই যদি মৃত্যু এসে যায়, কী হবে আমাদের? আমাদের অবস্থা ঠিক তেমনই হয়ে যেতে পারে, যেমনটি আবু হাজিম রহ. বলেছেন :
'আমরা তাওবার আগে মরতে চাই না, কিন্তু মৃত্যু তো আর আমাদের অপেক্ষায় থাকে না। যথাসময়ে সে এসে হাজির হয়। আর আমরা তাওবা না করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ি।'১৬২
কবি বলেন:
إِذَا مَا خَلَوْتَ الدَّهْرَ يَوْمًا فَلَا تَقُلْ *** خَلَوْتُ ولكِنْ قُل عَلَيَّ رَقِيبُ وَلَا تَحْسَبَنَّ اللهَ يُغفل ما مَضَى *** وَلَا أَنَّ مَا تُخْفِي عَلَيْهِ يَغِيبُ لَهَوْنَا عَنِ الأَيَّامِ حَتَّى تَتَابَعتْ *** ذُنُوبُ عَلَى آثَارِهِنَّ ذُنُوبُ
'নিঃসঙ্গ হলে ধোঁকা খেয়ো না, ভেবো না তুমি একা; আল্লাহ তোমাকে সব সময় পর্যবেক্ষণ করছেন! মনে করো না ক্ষণিকের জন্যও তিনি গাফিল হন; বরং যা তুমি গোপন করছ, তা তাঁর অগোচরে নয়। হেলায় ফেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি আমরা দিনগুলো, একের পর এক গুনাহ জমছে-ভারী হয়ে উঠছে ক্রমশ পাপের বোঝা।'১৬৩
ইউনুস বিন সুলাইমান বালখি রহ. বলেন, 'ইবরাহিম বিন আদহাম রহ. ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাঁর বাবার ছিল অঢেল ধন-সম্পদ, অসংখ্য গোলাম-খাদিম। একদিন তিনি ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে শিকারে বের হলেন। হঠাৎ অদৃশ্য থেকে আওয়াজ ভেসে আসলো, “হে ইবরাহিম, অহেতুক কাজ করছ কেন? أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ * (তবে কি তোমরা ধারণা করেছিলে যে, আমি তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?১৬৪) আল্লাহকে ভয় করো এবং কিয়ামত দিবসের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করো।" এই আওয়াজ শোনার পর তিনি বাহন থেকে নেমে গেলেন। অতঃপর দুনিয়াকে ত্যাগ করে আখিরাতের কর্মে ব্রতী হলেন। '১৬৫
ফুজাইল বিন ইয়াজ রহ. এক ব্যক্তিকে বললেন, 'আপনার বয়স কত হয়েছে?' লোকটি উত্তর দিল, '৬০ বছর।' তিনি বললেন, 'আপনি ৬০ বছর ধরে আল্লাহ অভিমুখে সফর করছেন এবং অচিরেই তাঁর নিকট পৌঁছে যাবেন।' তা শুনে লোকটি 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' বলে উঠল। ফুজাইল রহ. বললেন, 'এ বাক্যটির ব্যাখ্যা জানেন? এর ব্যাখ্যা হলো, আমাদের সকলের মালিক আল্লাহ, তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি জানে যে, সে আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর কাছেই তাকে ফিরে যেতে হবে, সে যেন এটাও জেনে নেয় যে, তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। আর যে ব্যক্তি জানে যে, তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, সে যেন এটাও জেনে নেয় যে, আল্লাহর সামনে তাকে প্রশ্ন করা হবে। আর যে ব্যক্তি জানে যে, তাকে প্রশ্ন করা হবে, সে যেন এখন থেকেই প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে রাখে।' লোকটি তখন বলল, 'এখন আমাকে কী করতে হবে?' তিনি বললেন, 'একদম সিম্পল। তাওবা করে বাকি সময়টা উত্তম ইবাদতে কাটান। আল্লাহ তাআলা আপনার সব অপরাধ ও গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।'১৬৬
ভাই, আমরা যে এত বছর হায়াত পেলাম, এটা আমাদের প্রতি আল্লাহর অনেক বড় অনুগ্রহ। এখনই তাওবা করে এ অনুগ্রহের ফায়দা অর্জন করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। জনৈক কবি বলেন :
بَلَغْتُ مِنْ عُمْرِي ثَمَانِينَا *** وَكُنْتُ لَا آمُلُ خَمْسِينَا فَالحَمْدُ لله وشكرًا لهُ *** إِذْ زَادَ فِي عُمرِي ثَلَاثِينًا وأَسأَلُ الله بلوْنًا إِلَى *** مَرِضَاتِهِ آمِيْنَ آمِينًا
'৮০ বছরে পা রেখেছি আমি, অথচ ৫০ বছরেরও আশা করিনি। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা মহান আল্লাহর, তিনিই আমার জীবন বাড়িয়ে দিয়েছেন ৩০ বছর। আমি শুধুই তাঁর সন্তুষ্টি চাই; হে আল্লাহ, আমায় তাওফিক দিন। '১৬৭
আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির রহ. বলেন, 'আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন মুআবিয়া রহ. আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের বন্ধু ছিলেন। যেদিন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান রহ. মৃত্যুবরণ করলেন, সেদিন তাকে কবর দেওয়ার পর তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ রহ. বললেন, “তুমি সেই আব্দুল মালিক, যার অনেক প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। তুমি কোনো কিছুর ওয়াদা করলে আমরা তা পাওয়ার আশা করতাম; আর কোনো বিষয়ে শাস্তির ভয় দেখালে আমরা সে বিষয়ে তোমাকে ভয় করতাম। কিন্তু আজ কাফনের দুটি কাপড় আর সাড়ে তিন হাত জমি ছাড়া তোমার কিছুই নেই।”
সেদিনের পর থেকে আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ রহ. অধিক হারে ইবাদত করা শুরু করলেন। এমনকি, ইবাদত করতে করতে একসময় তিনি আত্মভোলা হয়ে গেলেন। একদিন তার পরিবারের এক সদস্য তাকে ঝাঁঝালো গলায় শোধাল, “এভাবে নিজেকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন কেন?” তিনি বললেন, “আমি তোমার থেকে একটা বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তুমি কি সত্যি সত্যি তার উত্তর দেবে?” পরিবারের লোকটি বলল, “হ্যাঁ, দেবো।” তিনি বললেন:
“আমাকে তোমার অবস্থার ব্যাপারে বলো তো, এটার ওপর তুমি সন্তুষ্ট কি না?” তিনি বললেন, “না।” বললেন, “আচ্ছা, তুমি কি তাহলে এ অবস্থার পরিবর্তন চাও?” লোকটি বললেন, “তা তো ভেবে দেখিনি।” তিনি বললেন, “বর্তমান যে অবস্থার মধ্যে তুমি আছ, সে অবস্থাতেই তোমার মৃত্যু আসুক, তা কি তুমি পছন্দ করো?” উত্তর দিলেন, “কক্ষনো না।” তখন তিনি বললেন, “এমন অবস্থার ওপর কোনো বুদ্ধিমান বহাল থাকতে পারে না।” এই বলে তিনি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন।'
মালিক বিন দিনার রহ.-এর ঘরে এক ব্যক্তি চুরি করতে ঢুকল। কিন্তু চোর বেচারা সেখানে নেওয়ার মতো কিছুই পেল না। তখন মালিক রহ. তাকে ডেকে বললেন, 'দুনিয়ার কিছুই তো পেলে না। আখিরাতের কিছু পাওয়ার আগ্রহ আছে?' চোর বলল, 'জি হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'তাহলে অজু করে দুই রাকআত নামাজ পড়ো।' চোর ব্যক্তিটি তাই করল এবং নামাজ পড়ার পর তার ঘরেই বাকি রাত কাটিয়ে দিল। অতঃপর মালিক বিন দিনার রহ.-এর সাথে সেও ফজরের নামাজ পড়তে বের হলে লোকেরা জিজ্ঞেস করল, 'এ কে?' তিনি উত্তর দিলেন, 'সে আমার বাড়িতে চুরি করতে এসেছিল, কিন্তু আমি তার মন চুরি করে নিয়েছি।'১৬৮
মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, 'ঘুমন্ত রাত কেটে লজ্জিত হয়ে সকাল করার চেয়ে সারারাত ইবাদত করে জাগ্রত থেকে আনন্দচিত্তে ফজর করা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়।'১৬৯
ভাই আমার, চলো, সত্য তাওবা ও শঙ্কিত মন নিয়ে আল্লাহর দিকে ধাবিত হই। তিনি চাইলে আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।
يَا رَبِّ إِنْ عَظُمَتْ ذُنُوبِي كَثْرَةٌ *** فَلَقَدْ عَلِمْتُ بِأَنَّ عَفْوَكَ أَعْظَمُ إِنْ كَانَ لَا يَرْجُوكَ إِلَّا مُحْسِنُ *** فَمَنِ الَّذِي يَدْعُوْ وَيَرْجُوْ الْمُجْرِمُ أَدْعُوْكَ رَبِّ كَمَا أَمَرْتَ تَضَرُّعًا *** فَإِذَا رَدَدْتَ يَدِي فَمَنْ ذَا يَرْحَمُ مَالِي إِلَيْكَ وَسِيْلَةٌ إِلَّا الرَّجَا *** وَجَمِيلُ عَفْوِكَ ثُمَّ أَنِّي مُسلِمُ
'হে রব, স্বীকার করি আমার গুনাহ অনেক। তবে জানি, তোমার দয়া তার চেয়ে অনেক বেশি। পুণ্যবানরাই যদি শুধু তোমার দয়ার আশা করতে পারে, তাহলে পাপীরা ফরিয়াদ করবে কার কাছে, কার নিকট চাইবে ক্ষমা? তোমার নির্দেশ মতো, মিনতিভরে তুলেছি হাত; যদি তুমি ফিরিয়ে দাও, কে আমায় রহম করবে? আমার বুকভরা আশা আর তোমার অবারিত অনুগ্রহ ছাড়া আর কোনো অসিলা নেই, আত্মসমর্পণ করেছি হে রব, আমায় ক্ষমা করো!'১৭০
ভাই আমার, আমাদের সালাফ নিজেদের মাঝে সব সময় গুনাহের উপস্থিতি স্বীকার করতেন। কোনো বিপদ আসলে মনে করতেন, কোনো গুনাহের কারণেই এ বিপদ এসেছে। কিন্তু আমাদের অবস্থা হলো, আমরা যেন একেকজন নিষ্পাপ মহাপুরুষ। বিপদকে গুনাহের কুফল ভাবব তো দূরের কথা, উল্টো এমন ভাব নিই, যেন আমাদের আমলনামায় গুনাহ নামের কোনো শব্দই লিপিবদ্ধ হয়নি। অথচ সালাফের অবস্থা দেখো—
একদিন এক ব্যক্তি ওয়াকি' ইবনুল জাররাহ রা.-এর সাথে রূঢ় ভাষায় কথা বলল। তখন তিনি ঘরে ফিরে এসে মাটির ওপর মুখ ঘষলেন। অতঃপর লোকটির নিকট গিয়ে বললেন, 'ওয়াকি'কে তার গুনাহের কারণে আরও কঠিন কঠিন কথা বলো। আজ যদি সে গুনাহগার না হতো, তাহলে তুমি তার সাথে এমন রূঢ় ভাষায় কথা বলতে পারতে না।'১৭১
মুহাম্মাদ বিন সিরিন রহ. বলেন, 'আমি সেই গুনাহকে চিনি, যে গুনাহ আমাকে ঋণগ্রস্ত করেছে। তা হলো, ৪০ বছর পূর্বে আমি এক ব্যক্তিকে “হে মুফলিস (রিক্তহস্ত)” বলে সম্বোধন করেছিলাম।'১৭২
আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহম করুন। তারা কম গুনাহের কারণে বুঝতে পারতেন, কোন গুনাহের কারণে কী হচ্ছে। কিন্তু আমাদের গুনাহ অগণিত, অসংখ্য। তাই আমরা বুঝতে পারি না। এমনকি আমাদের মাঝে গুনাহের অস্তিত্বও স্বীকার করি না, অনুভব করি না।
আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির রহ. বলেন, 'ইয়াজিদ বিন মারসাদ রহ. সর্বদা কাঁদতেন। একদিন তাকে বললাম, “আপনার কী হলো? আপনার চোখ যে কোনোদিন শুকায় না?” তিনি বললেন, “তা জেনে তোমার কী লাভ?” আমি বললাম, “আল্লাহ চাইলে তাতে আমার অবশ্যই কোনো না কোনো উপকার হতে পারে।” বললেন, “ভাই, আল্লাহ তাআলা গুনাহের কারণে জাহান্নামে বন্দী করার হুমকি দিয়েছেন। অথচ আল্লাহর কসম, তিনি যদি কোনো গোসলখানায় বন্দী করারও হুমকি দিতেন, তবুও আমাদের জন্য উচিত হতো, আমাদের কান্না যেন থেমে না যায়।" বললাম, “আপনার একাকিত্বের সময়েও কি এভাবে কাঁদতে থাকেন?” তিনি বললেন, “তা জেনে তোমার কী লাভ?” আমি বললাম, “আল্লাহ চাইলে তাতে আমার অবশ্যই কোনো না কোনো উপকার হতে পারে।”'১৭১
বললেন, “আল্লাহর কসম, পরিবারের সাথে রাতযাপন করতে যাওয়ার সময়েও যখন এই হুমকির কথা মনে পড়ে, তখনই কান্না এসে আমার ও আমার ইচ্ছার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে যখন আমার সামনে খাবার উপস্থিত করা হয় এবং আমি তা খাওয়ার ইচ্ছা করি, তখন যদি তা আমার মনে পড়ে, তখনও কান্না আমার খানার ইচ্ছাকে দূর করে দেয়। আমার কান্না দেখে আমার স্ত্রী ও বাচ্চারাও কান্না জুড়ে দেয়। অথচ তারা জানেই না যে, কোন বিষয় আমাকে কাঁদাচ্ছে।”১৭৩
আলি রা. বলেন: قَدِّمْ لِنَفْسِكَ فِي الحَيَاةِ تَزَوُّداً *** فَلَقَدْ تُفَارِقُهَا وَأَنتَ مُودِعُ وَاهْتَمَّ لِلسَّفَرِ القَرِيبِ فَإِنَّهُ *** أَنأَى مِنَ السَّفَرِ البَعِيدِ وَأَشْسَعُ وَاجْعَلْ تَزَوُّدَكَ المَخَافَةَ وَالتَّقى *** وَكَأَنَّ حَتْفَكَ مِن مَسَائِكَ أَسْرَعُ 'মৃত্যুর পূর্বেই পাথেয় তুলে নাও, এ পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে শীঘ্রই তুমি প্রাণত্যাগ করবে। আসন্ন সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করো, দীর্ঘতম সফরের চেয়েও এর দূরত্ব অনেক বেশি। পাথেয় হিসেবে রাখো তাকওয়া ও আল্লাহভীতি—আর দ্রুত তা অর্জন করো, মৃত্যু এসে যেতে পারে আগামী সন্ধ্যার আগেই।'১৭৪
ইবনে সিরিন রহ. বলেন, 'আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার সাথে কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন তার অন্তরকে তার জন্য উপদেশদাতা করে দেন, সে-ই তাকে ভালো কর্মের আদেশ দেয় এবং মন্দ কর্ম থেকে নিষেধ করে।'১৭৫
প্রিয় ভাই আমার, خُذْ مِن شَبَابِكَ قَبْلَ الْمَوْتِ وَالْهَرَمِ *** وَبَادِرِ التَّوبَ قَبْلَ الْفَوْتِ وَالنَّدَمِ
وَاعْلَمْ بِأَنَّكَ مَجْزِيٌّ وَمُرْتَهَنُ *** وَرَاقِبِ اللَّهَ وَاحْذَرْ زَلَّةَ الْقَدَمِ
'মৃত্যু বা বার্ধক্যের পূর্বেই যৌবন থেকে লাভবান হও। তাওবা সেরে নাও সুযোগ হারিয়ে অনুতপ্ত হওয়ার আগেই। আরে, প্রতিদান অপেক্ষা করছে তোমার; দুনিয়ায় তুমি ক্ষণস্থায়ী আমানত! আল্লাহর ধ্যানে এখনই মগ্ন হও, বেঁচে থাকো পদস্খলন থেকে।'১৭৬
তাওবাকারী হৃদয় আল্লাহর সামনে ভগ্ন ও বিনয়াবনত থাকে। তাদের চক্ষু থাকে সদা অশ্রুসজল। আল্লাহর করুণা ও ক্ষমা সব সময় তাদের সাথে থাকে। তাওবাকারীর হৃদয়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে আওফ বিন আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, 'তাওবাকারীর হৃদয় আয়নার মতো স্বচ্ছ। যেকোনো বিষয় তাতে সহজে দাগ কাটতে সক্ষম। ফলে তাওবাকারীর হৃদয় নসিহত ও উপদেশ দ্রুতই গ্রহণ করে নেয়। তোমরা তাওবার মাধ্যমে তোমাদের হৃদয়সমূহকে স্বচ্ছ করে নাও। অনেক তাওবাকারী তাওবার কারণে জান্নাত লাভ করেছে। তাওবাকারীদের সাথে ওঠাবসা করো, তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখো। কারণ, আল্লাহর রহমত তাদের কাছাকাছি অবস্থান করে।'১৭৭
ফুজাইল বিন ইয়াজ রহ. বলেন, 'প্রত্যেক ব্যক্তির পেরেশানি একসময় ম্লান হয়ে যায়, কিন্তু তাওবাকারীর পেরেশানি কখনো ম্লান হয় না।'১৭৮
ইবনুল জাওজি রহ. বলেন, 'বুদ্ধিমানদের জন্য গুনাহ থেকে তাওবা করার পরও সে গুনাহ সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত থাকা এবং তার অনুশোচনায় চোখের পানি ঝরাতে থাকা আবশ্যক। অনেক মানুষকে দেখা যায়, তারা তাওবা করার পর একদম নির্ভার ও নির্বিকার হয়ে যায়। যেন তারা বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জেনে গেছে, তাদের তাওবা আল্লাহ কবুল করে নিয়েছেন। মনে রাখতে হবে, তাওবা কবুল হওয়ার বিষয়টা অদৃশ্য, কারও জানা নেই। তাই তাওবা করার পরও গুনাহের অনুশোচনা অন্তরে থেকে যাওয়া চাই। কিন্তু অধিকাংশ তাওবাকারীর মাঝে এ অনুশোচনা খুব কমই পরিলক্ষিত হয়। সত্য দিলে তাওবা করার পর তারা মনে করতে শুরু করে, তাদের সব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা দিয়েছেন। এটা ঠিক নয়। বরং তাওবা করার পরও গুনাহের অনুশোচনা পূর্বের মতো অন্তরে থেকে যাওয়া জরুরি।'১৭৯
সালমান ফারসি রা. বলেন, 'তুমি যদি গোপনে কোনো গুনাহ করে ফেলো, তখন সাথে সাথে গোপনে একটি ভালো আমল করে নেবে। আর যদি প্রকাশ্যে কোনো গুনাহ করো, তখন প্রকাশ্যে একটি ভালো আমল করবে; যেন ভালো আমলটি গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।'১৮০
প্রিয় মুসলিম ভাই, আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি খুব অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তাওবার দরজাকে আমাদের জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন। তাতে কোনো পর্দা রাখেননি। রাখেননি এক দরজার ভেতর আরও অনেক দরজা। এই দরজা পরম দয়ালু প্রভুর, মহামহিম আল্লাহর, যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং তাওবা কবুল করেন।
আহমাদ বিন আসিম আল-আনতাকি রহ. বলেন, 'তাওবা আমাদের জন্য বিনা-রক্তপাতে অর্জিত গনিমত, যা আমাদের অতীতের পাপ মুছে দিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনকে নিষ্কলুষ করে তোলে।'১৮১
সেই মহান সত্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি আমাদের সময় দিয়েছেন, আমাদের দোষ-ত্রুটি গোপন রেখেছেন এবং আমাদের জন্য তাওবার পথ উন্মুক্ত রেখেছেন।
জনৈক সালাফ বলেন, 'দাউদ আ. ভুল করার পূর্বে যে পরিমাণ ভালো ছিলেন, ভুল করে তাওবা করার পর তার চেয়ে অধিক গুণ বেশি ভালো হয়ে গিয়েছিলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাওবা করে, সে এমনই হয়ে যায় যেমনটা সাইদ বিন জুবাইর রহ. বলেছেন। তিনি বলেন, 'কখনো কখনো এমন হয় যে, বান্দা কোনো নেক আমল করে, কিন্তু সে নেক আমল তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়; আবার কখনো কখনো এমন হয় যে, বান্দা কোনো খারাপ কাজ করে, কিন্তু সে খারাপ কাজ তার জান্নাতে যাওয়ার কারণ হয়। অর্থাৎ বান্দা যখন নেক আমল করে, তখন তার ভেতর আত্মতুষ্টি কাজ করে, ফলে সে আল্লাহর কাছে আর কান্নাকাটি করে না। এভাবে উক্ত নেক আমলই তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। কিন্তু যখন সে খারাপ কাজ করে ফেলে, তখন লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং তাওবা করে। ফলে ওই খারাপ কাজই তার জান্নাতে যাওয়ার অসিলা হয়। '১৮২
মালিক বিন দিনার রহ. বলেন, 'শরীর যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সুস্বাদু খাবার, সুপেয় পানীয়, ঘুম, বিশ্রাম... কিছুই তার ভালো লাগে না। অনুরূপভাবে মানুষের অন্তর যখন দুনিয়াপ্রেমের রোগে আক্রান্ত হয়, তখন উত্তম উপদেশ তার ভালো লাগে না। '১৮৩
ভাই আমার, أَقْبِلْ عَلَى صَلَوَاتِكَ الْخَمْسِ *** كَمْ مُصْبِحٍ وَعَسَاهُ لَا يُمْسِي وَاسْتَقْبِلُ الْيَوْمَ الْجَدِيدَ بِتَوْبَةٍ *** تَمْحُو ذُنُوبَ صَبِيحَةِ الْأَمْسِ 'মনোযোগী হও পাঁচওয়াক্ত নামাজের প্রতি; কত মানুষ সকালে উপনীত হয়, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই চিরতরে হারিয়ে যায়। নতুন দিবসকে স্বাগত জানাও তাওবা করে, মুছে দেবে যা নিঃশেষে আগেকার যত পাপপঙ্কিলতা। '১৮৪
বান্দা যখন আল্লাহকে পাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা করে, তখন অনেক বাধাবিপত্তি তার সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রথমে তার সামনে আসক্তি, নেতৃত্ব, সুস্বাদু খাবার, সুন্দরী স্ত্রী, উত্তম পোশাক ইত্যাদি বিষয় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সে যদি উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে এসবে মজে থাকে, তখন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। আর যদি এসব দূরে ঠেলে দিয়ে আল্লাহকে পাওয়ার সাধনায় লিপ্ত হয়, তখন দ্বীনদারির সুখ্যাতি, দুআ কবুল হওয়ার তুষ্টি, বরকত লাভের তৃপ্তি প্রভৃতি বিষয় তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সে যদি মূল উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে এসব নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য আল্লাহর কিছুটা সন্তুষ্টি সে অর্জন করে নেয়। আর যদি এসবে মজে না থেকে মূল উদ্দেশ্য সাধনে ব্রতী হয়, তখন কারামাত (বুজুর্গদের আল্লাহ-প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতা) ও কাশফ (বুজুর্গদের আল্লাহ-প্রদত্ত অন্তর্দৃষ্টি) তার পথে অন্তরায় হয়। এসব পেয়ে যদি সে সন্তুষ্ট হয়ে যায়, তখন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। অবশ্য আল্লাহর কিছুটা সন্তুষ্টি সে অর্জন করে নেয়।
আর যদি এসবকেও যথেষ্ট মনে না করে আল্লাহকে পাওয়ার সাধনা পূর্বের মতো চালিয়ে যায়, তখন বুজুর্গির সর্বোচ্চ স্তর, দুনিয়াবিমুখতা, মাখলুকের সাথে সম্পর্কহীনতা, আল্লাহর সাথে বিশেষ সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় তাকে মূল উদ্দেশ্য থেকে রুখতে চেষ্টা করে। এসব নিয়ে যদি সে সন্তুষ্ট হয়ে যায় এবং আল্লাহকে পাওয়ার সাধনা পরিত্যাগ করে, তখনও উদ্দেশ্য পূরণে সে ব্যর্থ প্রমাণিত হবে। মোট কথা, আল্লাহকে পেতে হলে আজীবন সাধনা করে যেতে হবে। বিলায়াতের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গেলেও এ সাধনা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। ১৮৫
তাওবার পথ কণ্টকাকীর্ণ, তার বিপরীত পথ মসৃণ ও কুসুমাস্তীর্ণ; কিন্তু তাওবার পথ পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু প্রভুর নিকট পৌঁছে দেয়।
আল্লাহ তাআলা পরম প্রতিদানদাতা ও ক্ষমাশীল। তাঁর কাছে বান্দার প্রতিটি ভালো কর্ম দশগুণ অথবা অগণিত হারে বেড়ে যায়। কিন্তু মন্দ আমল বৃদ্ধি পায় না; তা একটাই থেকে যায়। তাও বান্দা ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন। সৃষ্টির সূচনা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত তাওবার দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন তিনি। তিনিই আমাদের প্রভু, পরম প্রতিদানদাতা ও মহান ক্ষমাশীল। তিনি বান্দার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেন, গুনাহ ক্ষমা করেন। সৃষ্টিকুলের ওপর তাঁর অনুগ্রহ বৃষ্টির মতো বর্ষিত হয়। কখনো বন্ধ হয় না এই বৃষ্টিধারা। পাখিডাকা ভোরে কিংবা তীব্র রোদের মধ্যাহ্নে, অলস বিকেলে কিংবা নিঝুম রাতে... কখনো কেউ তাঁর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত থাকে না। তিনিই আমাদের প্রভু, মহান প্রতিদানদাতা ও ক্ষমাশীল।
বান্দার প্রতি তাঁর দয়া সন্তানের প্রতি মায়ের মমতার চেয়ে হাজার-কোটি গুণ বেশি। জনমানবহীন মরুপ্রান্তরে খাদ্য-পানীয় বোঝাইকৃত বাহন হারিয়ে ফেলা লোকটি যখন তার বাহন খুঁজে পায়, তখন যে পরিমাণ সে আনন্দিত হয়, তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি আনন্দিত হন আল্লাহ তাআলা—যখন কোনো বান্দা তাওবা করে পাপের পথ ছেড়ে পুণ্যের পথে ফিরে আসে। অল্প আমলের বিনিময়ে বিশাল প্রতিদান দেন তিনি। অণু পরিমাণ নেক আমলও কেউ করলে, তিনি তার প্রতিদান দেন। তিনিই আমাদের প্রভু, পরম প্রতিদানদাতা ও ক্ষমাশীল। ১৮৬
আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা ও শয়তানের মাঝে, বিবেক ও বাসনার মাঝে এবং কুপ্রবৃত্তি ও কলবের মাঝে চিরন্তন শত্রুতা সৃষ্টি করে রেখেছেন। অতঃপর এগুলো বান্দার মাঝে দ্রবীভূত করে দিয়েছেন, যেন এর মাধ্যমে তাকে পরীক্ষা করতে পারেন। এগুলোর প্রতিটির জন্য সহায়ক সৈন্যও নিযুক্ত করে দিয়েছেন তিনি। এ যুদ্ধে কখনো সত্যপক্ষ বিজয়ী হয়, কখনো দুষ্টপক্ষ জয়ী হয়। এভাবে অবিরাম চলতে থাকে যুদ্ধ। ১৮৭
সুতরাং হে প্রিয় ভাই, এ যুদ্ধ নিয়ে আমৃত্যু সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। তোমার মাঝে এই মুহূর্তে হয়তো সত্যের পক্ষ বিজয়ী আছে, কিন্তু শঙ্কার মেঘ এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি। যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণ করে বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারে দুষ্টপক্ষ। তাই আমাদের এমনই হতে হবে, যেমনটি মুআজ বিন জাবাল রা. বলেছেন। তিনি বলেন, 'মুমিনের শঙ্কা ততক্ষণ পর্যন্ত বাকি থাকে, যতক্ষণ না সে পুলসিরাত পাড়ি দিয়ে জান্নাতের দরজায় পৌঁছে যায়।১৮৮
আল্লাহ তাআলা গুনাহের মাধ্যমে মুমিন বান্দাকে পরীক্ষা করেন; যেন সে তা থেকে তাওবা করে দাসত্ব ও বিনয়ের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটাতে পারে এবং আল্লাহভীতি ও তাঁর প্রতি নির্ভরতার পূর্ণতা দেখাতে পারে। যেন এর মাধ্যমে আরও অধিক ইবাদত-বন্দেগি ও তাওবার প্রতি ধাবিত হয়। গুনাহ না হলে এসব পূর্ণরূপে প্রকাশিত হতো না। যেমন মানুষের মাঝে যদি ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রোগ, দারিদ্র্য, ভয়—এসব বিষয় না থাকত, তাহলে তারা তৃপ্তি, তৃষ্ণা নিবারণ, প্রাচুর্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় উপভোগ করতে পারত না। এবং এগুলোর ওপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পারত না।১৯
হাম্মাদ বিন সালামা রহ. সুফইয়ান সাওরি রহ.-এর অসুস্থতার সময় তাঁকে দেখতে গেলেন। তখন সুফইয়ান রহ. বললেন, 'আবু সালামা, আপনি কি মনে করেন, আমার মতো পাপী বান্দাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন?' হাম্মাদ রহ. বললেন, 'কী যে বলেন ভাই? আল্লাহ তো অনেক দয়ালু। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাকে যদি ইচ্ছাধিকার দেওয়া হয় যে, তোমার হিসাব-নিকাশ আল্লাহ অথবা তোমার পিতা-যেকোনো একজনের কাছে বুঝিয়ে দাও। তখন আমি হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহর সামনে হাজির হওয়াকেই বেছে নেব। কারণ, তিনি আমার প্রতি আমার পিতার চেয়ে অধিক দয়ালু।'
খালিদ বিন মিন্দান রহ. সুযোগের সদ্ব্যবহার ও সময়ের মূল্য দেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে বলেন, 'তোমাদের সামনে যখন কল্যাণের কোনো দরজা খুলে যায়, তখন দ্রুতই তাতে ঢুকে যাও। কারণ, যেকোনো সময় তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। '১৯০
ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ. বলেন, 'দুআ কবুল হতে এত সময় লাগছে কেন-আল্লাহর ওপর এমন দোষ চাপাতে যেয়ো না। এই বিলম্বের জন্য তোমার গুনাহই দায়ি। '১৯১
হে দয়াময় প্রভু, আপনার দ্বারে তাওবার হাত উত্তোলন করেছি আমরা। সকল গুনাহ থেকে মাগফিরাত কামনা করছি। আমাদের তাওবা কবুল করে আমাদের ক্ষমা করে দিন।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, 'সেই গুনাহ ক্ষতিকর, যার পর তাওবা করা হয় না। গুনাহের পর তাওবা করা হলে তাওবাকারীর অবস্থা গুনাহ করার পূর্বের অবস্থার চেয়ে ভালো হয়ে যায়। যেমন জনৈক সালাফ বলেন, “দাউদ আ. ভুল করার পূর্বে যে পরিমাণ ভালো ছিলেন, ভুল করে তাওবা করার পর তার চেয়ে অধিক গুণ বেশি ভালো হয়ে গিয়েছিলেন।” কুফর বা অন্যান্য কবিরা গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তিও শুরু থেকে গুনাহমুক্ত লোক অপেক্ষা উত্তম। প্রাথমিক যুগের মুহাজির ও আনসার মুসলমানগণ নবিগণের পর আল্লাহর সর্বোত্তম বান্দা। অথচ তাঁরা তাওবা করার পূর্বে কুফর ও পাপাচারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিলেন। কিন্তু তাঁরা যখন তাওবা করেছেন এবং উত্তম আমল করেছেন, তখন থেকে তাঁদের পূর্বের কৃত গুনাহ অপরাধ হিসেবে ধর্তব্য হয় না এবং তাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমানদার সাব্যস্ত করা হয়। পূর্বের গুনাহ তাঁদের ফজিলত ও মর্যাদায় কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।'১৯২
মুমিন যখন কোনো গুনাহ করে, তখন দশটি বিষয় তার গুনাহের শাস্তিকে রুখে দিতে পারে।
১. নির্ভেজাল তাওবা। এ তাওবা আল্লাহ কবুল করেন, ফলে তাওবাকারী ওই ব্যক্তির মতো হয়ে যায়, যার কোনো গুনাহ নেই।
২. ইসতিগফার। গুনাহ করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন।
৩. উত্তম আমল করা। গুনাহ করার পর সাথে সাথে উত্তম আমল করলে তা গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ
'নিশ্চয় পুণ্য কাজ পাপকে দূর করে দেয়।'১৯৩
৪. অন্যান্য মুমিন ভাই তার জন্য দুআ করা এবং তার জীবদ্দশায় বা মরণের পর তার জন্য ক্ষমার সুপারিশ করা।
৫. মুমিনরা তার প্রতি তাদের আমলের সাওয়াব প্রেরণ করা। এ সাওয়াবের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার শাস্তি স্থগিত করে দিতে পারেন।
৬. তার ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুপারিশ করা।
৭. দুনিয়াতে সে অথবা তার সন্তান, সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয় ব্যক্তিবর্গ বিপদে আক্রান্ত হওয়া।
৮. কবরের বিশেষ চাপের কারণেও অনেক সময় মুমিনের পাপের মূল শাস্তি রহিত হয়ে যায়।
৯. কিয়ামত দিবসের ভয়াবহ পরিস্থিতি মুমিনের অনেক গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।
১০. আল্লাহর দয়া ও করুণা।
তবে এ দশটি বিষয় যদি কারও গুনাহের শাস্তিকে রহিত করতে না পারে, সে যেন এ জন্য নিজেকেই দায়ি ও অভিযুক্ত করে এবং নিজেকেই ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করে। কারণ, হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : إِنَّمَا هِيَ أَعْمَالُكُمْ أُحْصِيهَا لَكُمْ، ثُمَّ أُوَفِّيكُمْ إِيَّاهَا، فَمَنْ وَجَدَ خَيْرًا، فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذَلِكَ، فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ 'এ তো তোমাদের আমলেরই ফলাফল। আমি তোমাদের জন্য তা হিসেব করে রেখেছি। অতঃপর আমি তোমাদেরকে পুরোপুরিভাবে তোমাদের আমলের প্রতিফল দান করব। অতএব, যে ভালো ফল পাবে, সে যেন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর যে খারাপ প্রতিফল লাভ করবে, সে যেন এ জন্য নিজেকেই দায়ি ও অভিযুক্ত করে।'১৯৪-১৯৫
ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ. বলেন, 'বনি আদমের মধ্যে মিসকিন সেই ব্যক্তি, যার কাছে গুনাহ ত্যাগ করার চেয়ে পাহাড় উপড়ে ফেলা সহজ।'১৯৬
প্রিয় ভাই আমার, সময় তার আপন গতিতে চলে যাচ্ছে। তার সাথে আমরাও ক্রমেই আখিরাতের কাছাকাছি চলে যাচ্ছি। আমাদের হাতে যে সময় আছে, সেটাকে পুঁজি করে আখিরাতের জন্য সম্বল জোগাড় করে নিতে হবে। এ সময় নষ্ট করা মৃত্যুর চেয়েও মারাত্মক। কারণ, মৃত্যু তোমাকে কেবল দুনিয়া ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন করে, কিন্তু সময় নষ্ট করা তোমাকে আল্লাহ ও আখিরাতের কল্যাণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তুমিই বিচার করো, যে ব্যক্তি ক্ষণিকের সুখের জন্য চিরসুখের জান্নাতকে বিক্রি করে দেয়, সে কি বিশ্বের সবচেয়ে নির্বোধ লোক নয়? ১৯৭

টিকাঃ
১৪৬. সুরা আন-নুর: ৩১
১৪৭. আল-ইহইয়া: ৪/১৬
১৪৮. সুরা আল-হাদিদ: ১৬
১৪৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১০/২২৬
১৫০. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৯২
১৫১. তারিখু বাগদাদ: ২/২৮১
১৫২. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৬/১৮৮
১৫৩. সিফাতুস সাফওয়াহ: ২/৩২
১৫৪. সিফাতুস সাফওয়াহ : ২/২৩৩
১৫৫. মাওয়ারিদুজ জামআন: ৩/৪৯২
১৫৬. আস-সিয়ার : ৪/৫৮৬
১৫৭. হিলইয়াতুল আওলিয়া : ২/১০৮
১৫৮. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/১০৬
১৫৯. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৩৮
১৬০. সুরা আল-হাক্কাহ: ১৮
১৬১. আল-আকিবাহ: ৭২
১৬২. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন: ১০৯
১৬৩. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৯/২২০
১৬৪. সুরা আল-মুমিনুন: ১১৫
১৬৫. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৪/১৫২
১৬৬. জামিউল উলুম : ৪৬৪
১৬৭. তারিখু বাগদাদ: ৫/২১১
১৬৮. আস-সিয়ার। ৫/৩৬৩
১৬৯. আস-সিয়ার: ৪/১৯০
১৭০, সিফাতুস সাফওয়াহ। ৩/১৭১, জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ৪৭৭
১৭১. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/১৭১
১৭২. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/২৪৬
১৭৩. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/১৬৫
১৭৪. দিওয়ানুল ইমাম আলি: ১২৯
১৭৫. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/২৪৩
১৭৬. তারতিবুল মাদারিক: ২/৪৬১
১৭৭. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/১০৪
১৭৮. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৮/১০১
১৭৯. সাইদুল খাতির: ৫০২
১৮০. সিফাতুস সাফওয়াহ: ১/৫৪৮
১৮১. আজ-জুহদ, বাইহাকি: ২৮
১৮২. তাসলিয়াতু আহলিল মাসায়িব: ২১৮
১৮৩. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৭৬৩
১৮৪. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন: ৯৭
১৮৫. আল-ফাওয়ায়িদ: ২২৩
১৮৬. উদ্দাতুস সাবিরিন: ৩৩৯-৩৪০
১৮৭. আল-ফাওয়ায়িদ: ৭৮
১৮৮. আল-ইহইয়া: ৪/১৯৮
১৮৯. মাজমুউল ফাতাওয়া : ১৫/৫৫
১৯০. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/২১১
১৯১. আস-সিয়ার: ১৩/১৫
১৯২. মাজমুউল ফাতাওয়া : ১৫/৫৩
১৯৩. সুরা হুদ: ১১৪
১৯৪. সহিহু মুসলিম: ২৫৭৭
১৯৫. তাসলিয়াতু আহলিল মাসায়িব: ২১b
১৯৬. আস-সিয়ার: ১৩/১৫
১৯৭. আল-ফাওয়ায়িদ: ৪৫

📘 এসো তাওবার পথে > 📄 বিশুদ্ধ তাওবার আলামত

📄 বিশুদ্ধ তাওবার আলামত


বিশুদ্ধ তাওবার আলামত পাঁচটি :
১. তাওবার পরের অবস্থা পূর্বের অবস্থার চেয়ে উত্তম হওয়া।
২. তাওবার পরও শাস্তির শঙ্কা কেটে না যাওয়া। ওই ব্যক্তির তাওবা বিশুদ্ধ, যে তাওবার পরও গুনাহের শাস্তির ব্যাপারে শঙ্কিত থাকে, যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন তার কানে এ সুসংবাদ পৌঁছায়—
أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
'তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোনো।' ১৯৯
৩. অন্তরে সব সময় গুনাহের লজ্জা ও শাস্তির ভীতি জাগ্রত থাকা। গুনাহের তারতম্য অনুযায়ী লজ্জা ও ভীতির মাত্রায়ও তারতম্য হতে পারে।
৪. আল্লাহর সামনে সর্বদা নম্র ও বিনয়াবনত থাকা।
৫. অধিক নেক আমল করা ও তার ওপর অটল থাকা।
ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ. বলেন, 'তাওবাকারীদের জন্য এমন এক গর্বের বিষয় আছে, যা পৃথিবীর সকল গর্বকে হার মানিয়ে দেয়। তা হলো, তাদের তাওবা আল্লাহকে আনন্দিত করে।'
প্রিয় ভাই আমার, আর কতদিন পৃথিবীতে আছি আমরা? যেকোনো মুহূর্তে চলে আসতে পারে মাওলার ডাক। সে ডাকে সাড়া না দিয়ে কারও উপায় নেই। তাই এখনই সময়—তাওবা করে পুণ্যের পথে ফিরে আসার। এখনই সময়—লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে অশ্রু বিসর্জন দেওয়ার। চলো, আমরা মাওলার ডাক আসার পূর্বেই তাওবা করে নিই এবং ইমানকে পোক্ত করে নিই। দুহাত তুলে আল্লাহকে বলি :
وَلَمَّا قَسَا قَلْبِي وَضَاقَتْ مَذَاهِبِي *** جَعَلْتُ رَجَائِي نَحْوَ بَابِكَ سُلَّمَا تَعَاظَمَنِي ذَنْبِي فَلَمَّا قَرَنْتُهُ *** بِعَفْوِكَ رَبِّي كَانَ عَفْوُكَ أَعْظَمَا
'আমার হৃদয় পাষাণ হয়ে গেছে, সংকীর্ণ হয়ে গেছে মুক্তির সকল পথ। তবু তোমার দয়ার আশা সম্বল করে দরবারে হাজির হয়েছি হে রব। বুঝতে পারি, আমার পাপের বোঝা অনেক ভারী। কিন্তু তোমার দয়ার সাথে তুলনা করে দেখি, তা আরও সুমহান!'

টিকাঃ
১৯৯. সুরা ফুসসিলাত : ৩০

📘 এসো তাওবার পথে > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা নিয়ে তাঁর অশেষ রহমতের আলোচনা টেনে পুস্তিকাটি শেষ করতে যাচ্ছি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও এভাবে উত্তম ধারণা নেওয়াকে পছন্দ করতেন। আমাদের আমলনামায় তো এমন কোনো নেক আমল নেই, যার মাধ্যমে মাগফিরাত ও ক্ষমার আশা করতে পারি। তাই অন্তত উত্তম ধারণা পোষণ করছি। আর আশা করছি, আমাদের পুস্তিকাটি যেভাবে আল্লাহর অসীম রহমতের উত্তম আলোচনা দ্বারা শেষ হয়েছে, সেভাবেই আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের শেষ পরিণতি যেন কল্যাণময় ও উত্তম হয়।
এবার আল্লাহর রহমতের বিশালতার কিছু প্রমাণ শুনে নাও। কুরআন মাজিদে তিনি ইরশাদ করেন :
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
'নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্য যেকোনো পাপ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। '১৯৯
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন :
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
'বলুন, “হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।””২০০
অন্যত্র ইরশাদ করেন:
وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا
'যে গুনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়। '২০১
আল্লাহর কাছে আমরা আমাদের সকল পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমাদের সকল পদস্খলন ও কলমের ভুল থেকে। ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমাদের কথা অনুযায়ী আমল না করার পাপ থেকে। আমরা মার্জনা কামনা করছি সে পাপ থেকে, যা আমরা অঙ্গীকার ভঙ্গ করার মাধ্যমে, ইলম অনুযায়ী আমল না করার মাধ্যমে এবং নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহার না করার মাধ্যমে করেছি। আমরা লোকদের দেখানোর উদ্দেশ্যে যেসব ভালো কাজ করেছি, সেসবের পাপ থেকে ক্ষমা ভিক্ষা করছি। হে মহান প্রভু, আমাদের ক্ষমা করে দিন।
প্রিয় ভাই, পরিশেষে আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাকে, তোমাকে ও সকল মুমিন ভাইবোনকে তাওবা করে পুণ্যের পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করেন। এবং আমাদের সকলকে চিরশান্তির জান্নাতে একত্র করেন, যেখানে এমন সব নিয়ামত রয়েছে—যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, এমনকি কারও মনে তার চিত্রও কল্পিত হয়নি। আমিন।

টিকাঃ
১৯৯. সুরা আন-নিসা: ৪৮
২০০. সুরা আজ-জুমার: ৫৩
২০১, সুরা আন-নিসা: ১১০

📘 এসো তাওবার পথে > 📄 গ্রন্থপঞ্জি

📄 গ্রন্থপঞ্জি


০১. ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, আবু হামিদ আল-গাজ্জালি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ। প্রথম প্রকাশ: ১৪০৬ হিজরি।
০২. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন, মাওয়ারদি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।
০৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, হাফিজ ইবনু কাসির, মুতবিআতুল মুতাওয়াসসাত।
০৪. বুসতানুল আরিফিন, ইমাম আন-নববি, তাহকিক : মুহাম্মাদ আল- হাজ্জার।
০৫. তারিখু বাগদাদ, খতিব আল-বাগদাদি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়‍্যাহ।
০৬. আত-তাবসিরাহ, ইবনুল জাওজি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ। প্রথম প্রকাশ: ১৪০৬ হিজরি।
০৭. তাজকিরাতুল হুফফাজ, শামসুদ্দিন আজ-জাহাবি, দারু ইহইয়ায়িত তুরাস।
০৮. আত-তাজকিরাহ ফি আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ, ইমাম আল-কুরতুবি, দারুর রিয়াদ। দ্বিতীয় প্রকাশ: ۱۴۰৬ হিজরি।
০৯. তাজকিয়াতুন নুফুস, ড. আহমাদ মাজিদ, দারুল কলম, বৈরুত।
১০. তাসলিয়াতু আহলিল মাসায়িব, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বানজি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ। প্রথম প্রকাশ: ১৪০৬ হিজরি।
১১. জামিউল উলুম ওয়াল হিকام, ইবনু রজব আল-হাম্বলি । পঞ্চম প্রকাশ : ১৪০০ হিজরি।
১২. জান্নাতুর রিজা ফিত তাসলিম লিমা কাদ্দারাল্লাহ ওয়া কাজা, আবু ইয়াহইয়া মুহাম্মাদ আসিম আল-গারনাতি, দারুল বাশির, ১৪১০ হিজরি।
১৩. হিলইয়াতুল আওলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া, হাফিজ আবু নুআইম, দারুল কুতুবিল আরাবি।
১৪. দিওয়ানুল ইমাম আলি, সংকলন ও ব্যাখ্যা : নায়িম জারজুর। দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪০৫ হিজরি।
১৫. দিওয়ানুল ইমামিশ শাফিয়ি, সংকলন ও টীকা : মুহাম্মাদ আফিফ আজ- জাগনি, দারুল জিল, বৈরুত, দ্বিতীয় প্রকাশ : ১৩৯২ হিজরি।
১৬. কিতাবুজ জুহদ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল। পুনঃপাঠ (دارسة) ও তাহকিক : মুহাম্মাদ আস-সায়িদ বাসিউনি, দারুল কুতুবিল আরাবি, প্রথম প্রকাশ : ১৪০৬ হিজরি।
১৭. কিতাবুজ জুহদ আল-কাবির, আহমাদ বিন হুসাইন বাইহাকি, তাহকিক : ড. তাকিউদ্দিন আন-নদবি, দারুল কলম, দ্বিতীয় প্রকাশ : ১৪০৩ হিজরি।
১৮. আজ-জাহরুল ফায়িহ ফি জিকরি তানাজজুহি আনিজ জুনুবি ওয়াল কাবায়িহ, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ ইউসুফ আল-জাজারি। তাহকিক : মুহাম্মাদ বাসিউনি, দারুল কিতাবিল আরাবি, প্রথম প্রকাশ : ১৪০৬ হিজরি।
১৯. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইমাম আজ-জাহাবি। তাহকিক : শুআইব আরনাউত ও হুসাইন আল-আসাদ, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪০১ হিজরি।
২০. শাজারাতুজ জাহাব ফি আখবারি মান জাহাব, ইবনুল ইমাদ আল- হাম্বলি, দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি।
২১. শারহুস সুদুর বি শারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবুর, হাফিজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ। প্রথম প্রকাশ: ১৪০৪ হিজরি।
২২. সিফাতুস সাফওয়াহ, ইবনুল জাওজি। তাহকিক : মাহমুদ ফাহুজি এবং মুহাম্মাদ রাওয়াস, দারুল মারিফা, ১৪০৫ হিজরি।
২৩. সাইদুল খাতির, ইবনুল জাওজি, দারুল কিতাবিল আরাবি, ২য় প্রকাশ : ১৪০৭ হিজরি।
২৪. তাবাকাতুল হানাবিলাহ, কাজি আবু ইয়ালা, মাতবাআতুস সুন্নাহ আল- মুহাম্মাদিয়া ও দারুল মারিফা, বৈরুত।
২৫. তাবাকাতুশ শাফিয়িয়‍্যাতুল কুবরা, তাজুদ্দিন আবু নাসর আব্দুল ওয়াহ্হাব বিন আলি আস-সুবকি, দারু ইহইয়ায়িল কুতুবিল আরাবিয়‍্যাহ।
২৬. আল-আকিবাহ ফি জিকরিল মাওতি ওয়াল আখিরাহ, ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক আল-ইশবিলি। তাহকিক : খাদির মুহাম্মাদ খাদির, মাকতাবাতু দারিল আকসা, ১ম প্রকাশ: ১৪০৬ হিজরি।
২৭. উদ্দাতুস সাবিরিন ওয়া জাখিরাতুশ শাকিরিন, ইবনু কায়ি‍্যমিল জাওজিয়্যাহ, দারুল কিতাবিল আরাবি, ২য় প্রকাশ : ১৪০৬ হিজরি।
২৮. উকুদুল লু'লু' ফি ওজায়িফি শাহরি রামাজান, ইবরাহিম ইবনু উবাইদ।
২৯. আল-ফাওয়ায়িদ, ইবনু কায়্যিমিল জাওজিয়্যাহ, দারুন নাফায়িস।
৩০. মাদারিজুস সালিকিন, ইবনু কায়্যিমিল জাওজিয়্যাহ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ২য় প্রকাশ: ১৪০৮ হিজরি।
৩১. মুকাশাফাতুল কুলুব, আবু হামিদ আল-গাজ্জালি, দারু ইহইয়াইল উলুম, ১ম প্রকাশ: ১৪০৮ হিজরি।
৩২. মাওয়ারিদু জামআন লি দুরুসিজ জামান, আব্দুল আজিজ আস-সালমান, ১৩শ তম প্রকাশ, ১৪০৩ হিজরি।
৩৩. ওয়াফায়াতুল আ'ইয়ান ওয়া আনবাউ আবনাইজ জামান, ইবনু খাল্লিকান, দারু সাদির বৈরুত, ১৩৯৭ হিজরি।
৩৪. ওয়াহাতুল ইমান, আব্দুল Hamid আল-বুলালি, দারুদ দাওয়াহ, প্রথম প্রকাশ: ১৪০৯ হিজরি।
৩৫. মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনি তাইমিয়্যাহ, আব্দুর রহমান বিন কাসিম ও মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান, তাসবির, প্রথম প্রকাশ : ১৩৯৮।
৩৬. আল-জাওয়াবুল কাফি, ইবনু কাইয়্যিমিল জাওজিয়্যাহ, তাহকিক : আবু হুজাইফা, দারুল কিতাবিল আরাবি, প্রথম প্রকাশ: ১৪০৭।
৩৭. তারতিবুল মাদারিক ও তাকরিবুল মাসালিক লি মারিফাতি আলামি মাজহাবিল ইমাম মালিক, কাজি ইয়াজ, মাকতাবাতুল হায়াত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00