📘 আস সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসূল > 📄 যিম্মি যদি আল্লাহকে কটুক্তি করে

📄 যিম্মি যদি আল্লাহকে কটুক্তি করে


কোনো যিম্মি রাসূলের শানে কটূক্তি করলে যে বিধান, আল্লাহর শানে কটূক্তি করলে একই বিধান। পূর্বে রাসূলের শানে কটূক্তিকারীর বিষয়ে ইমাম আহমাদ-এর সুস্পষ্ট বক্তব্য আলোচনা করা হয়েছে যে-মুসলিম হোক কিংবা কাফের, রাসূলের শানে যে-ই কটূক্তি করবে তাকেই হত্যা করা হবে। আমাদের সাথিগণ, ইমাম মালিক ও তাঁর সঙ্গীগণের মাজহাব এমনই। শাফেঈ মাজহাবের ফকিহগণও একই কথা বলেন। কিন্তু এখানে দুটি মাসআলা আছে—
• প্রথম মাসআলা: আল্লাহকে কটূক্তি দুই প্রকার,
১. আল্লাহর শানে এমন কথা বলা—যা কারও ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং বক্তা ও অন্যদের কাছেও সেটা তাচ্ছিল্যের অর্থবোধক। এ ধরনের কথা নিঃসন্দেহে কটূক্তি।
২. যিম্মি এমন কোনো কথা বলে যা সে ধর্ম হিসাবে মানে এবং তা শ্রদ্ধার সাথে বিশ্বাস করে। যেমন, খ্রিষ্টানরা বলে—আল্লাহর সন্তান ও স্ত্রী আছে। এ ধরনের কথা যিম্মি যদি প্রকাশ্যে বলে তবে এ নিয়ে মতবিরোধ আছে। কাযি ইয়া'লা ও ইবনে আকীল বলেন, এ-জাতীয় কথা প্রকাশ্যে বলার দ্বারা যিম্মির নিরাপত্তা-চুক্তি ভেঙে যাবে।
ইমাম মালিক ও শাফেঈ বলেন, যা তার ধর্মীয় বিশ্বাস সেটা (প্রকাশ্যে বললেও) কটূক্তি হবে না। কারণ কাফের সে কথা গালি হিসাবে বলে না, বরং শ্রদ্ধা-সহকারে বলে। বাহ্যত এটি ইমাম আহমাদের একটি মত।
• দ্বিতীয় মাসআলা: যিম্মির তাওবা-গ্রহণ-প্রসঙ্গ
আমাদের সমস্ত সাথিগণ যিম্মির তাওবা গ্রহণ করার কথা বলেন। শাফেঈ মাজহাবের প্রসিদ্ধ মতও এটি। মালিকিদের মধ্যে ইবনে কাসিম ও অন্যন্যরাও বলেন, তার তাওবা কবুল করা হবে। ইমাম মালিকের বক্তব্য হলো তার তাওবা গ্রহণ করা হবে না, বরং তাকে হত্যা করা হবে। এটি ইমাম আহমাদেরও প্রসিদ্ধ কথা।
সামষ্টিকভাবে যিম্মির কটূক্তিমূলক কথা তিন প্রকার :
প্রথমত: যা তার ধর্মীয় বিশ্বাস। যেমন ঈসা আলাইহিস সালাম-এর সম্পর্কে খ্রিষ্টানদের কথা। এ ধরনের কুফরির বিধান অন্যান্য কুফরির মতোই। তবে এ-জাতীয় কথা প্রকাশ্যে বলার দ্বারা যিম্মির নিরাপত্তা-বিধান শেষ হয়ে যাবে কি না, সে বিষয়ে মতবিরোধ আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। যদিও বলা হয় যে, এ-জাতীয় কথা প্রকাশ্যে বলার দ্বারা নিরাপত্তা-বিধান শেষ হয়ে যায়। তবে পরবর্তীকালে ইসলাম কবুলের দ্বারা তার থেকে কতলের বিধান রহিত হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী—এটি সকল ফকিহগণের বক্তব্য।
দ্বিতীয়ত: কটূক্তিকারী এমন কিছু বলে, যেটা সে ধর্ম হিসাবে বিশ্বাস করে। কিন্তু তার এ কথা মুসলিমদের ধর্মের জন্য কটূক্তি। যেমন: এক ইহুদি এক মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনে করে বলেছিল—তুমি মিথ্যা বলেছ।
এক ইহুদি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বিচার প্রত্যাখ্যান করেছে। এক যিম্মি আল্লাহর কোনো বিধানকে সমালোচনা করল। এটার বিধান রাসূলকে কটূক্তি করার বিধানের মতোই, যিম্মির নিরাপত্তা-চুক্তি ভেঙে যাবে। ফকিহগণ বিষয়টি এভাবে বলেছেন—'সে আল্লাহ ও তাঁর কিতাবকে মন্দভাবে উল্লেখ করে...'।
আর (আল্লাহকে গালি দিয়ে পরে) ইসলাম গ্রহণের দ্বারা কতল রহিত হওয়ার বিষয়টি রাসূলকে গালি দেওয়ার পর ইসলাম গ্রহণের মাসআলার মতোই।
তৃতীয়ত: যিম্মি মহামহিম আল্লাহর শানে এমন কটূক্তিমূলক কথা বলে যা তার ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং তার নিজের ধর্মেও নিষিদ্ধ। যেমন, আল্লাহর শানে অভিশাপ দেওয়া। এক্ষেত্রে তার কটূক্তি আর মুসলিমের কটূক্তির মাঝে কোনো পার্থক্য থাকবে না। বরং মুসলিমের কটূক্তি আরও মারাত্মক হতে পারে। কেননা ইসলাম দ্বারা হারামকে হারাম জানার বিশ্বাস আর নবায়ন হবে না। বরং সে হলো ওই যিম্মির মতো যে কিনা ব্যভিচার, হত্যা কিংবা চুরির পর ইসলাম-গ্রহণ করল। মুসলিমদের ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হলো— যদি কোনো মুসলিম আল্লাহকে গালি দেওয়ার পর তাওবা করে, তবুও তার তাওবা আর গৃহীত হয় না। সেক্ষেত্রে কোনো যিম্মি যদি তাওবা করে তা হলে তা আরও আগেই গৃহীত হবে না। রাসূলকে কটূক্তির কথা ভিন্ন। কোনো যিম্মি কোনো মুসলিম নারীর সাথে ব্যভিচার করলেও একই বিধান। [১০০]
এই প্রকার কটূক্তি নিয়ে ফকিহগণের তিনটি মত পাওয়া যায়:
১. মুসলিমের মতো যিম্মির তাওবা গ্রহণ করা হবে।
২. তাকে তাওবার সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে সে ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে হত্যা করা হবে না। এটি ইমাম শাফেঈ এবং ইবনে কাসেমের বক্তব্য এবং ইমাম আহমাদ-এরও একটি মত।
৩. তাকে সর্বাবস্থায় হত্যা করা হবে। এটি ইমাম মালিকের স্পষ্ট বক্তব্য এবং ইমাম আহমাদেরও বক্তব্য। যেমন আমরা বলি—ব্যভিচার ও চুরি করলে তাকে হদ্দ প্রদান করা হবে। কেননা এ-সমস্ত কাজ মুসলিমদের কাছে যেমন হারাম, কাফেরদের কাছেও নিষিদ্ধ। এ-সমস্ত অন্যায়ের মতোই এ প্রকারের কটূক্তি [১৩৪]। অধিকাংশ দলিল এটিকেই প্রমাণ করে。

টিকাঃ
[১৩২] অপরাধী তাওবা করলেও এগুলো বাতিল তার না। বরং সাজা পেতেই হবে。
[১৩৩] ব্যভিচারের পর ইসলাম গ্রহণ করলেও শাস্তি রহিত হবে না।
[১৩৪] অর্থাৎ যিম্মি-মুসলিম উভয়ের কাছেই তো নিন্দনীয়

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00