📄 গালি এবং অপবাদের মধ্যে বিধানগত পার্থক্য
হাম্বলী মাজহাব হত্যা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে গালি এবং অপবাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ, তাঁর সকল সঙ্গী ও অধিকাংশ আলেমদের।
তবে আল্লামা ইবনে কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ অপবাদ ও গালির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর অপবাদ আরোপ করার পর তাওবা করলে তার তাওবা কবুল হবে কি না, এ ব্যাপারে দুই ধরনের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। এরপর বলেছেন, অপবাদ আরোপ না করে যদি এমনিতেই তাঁকে গালি দেয় কিংবা তাঁর ব্যাপারে মন্দ কথা বলে, তা হলেও হুকুম অনুরূপই। অর্থাৎ, তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। তবে সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তা হলে তার হত্যার বিধান রহিত হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চতুর্থ মাসআলাতে করা হয়েছে।
মালিকি মাজহাব মালিকি মাজহাব অনুসারে যে ব্যক্তি নবীজিকে গালি দিবে, তাকে হত্যা করা হবে। এ জন্য তাকে তাওবা করতে বলা হবে না। ইমাম মালিকের প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, কোনো মুসলমান নবীজিকে গালি দেওয়ার পর তাওবা করলেও, তার তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। তার বিধান যিন্দিকের বিধানের অনুরূপ হবে। হদ বা দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাকে হত্যা করা হবে। কেননা, তাওবা করলেও হদ রহিত হয় না।
ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ থেকে আরেকটি বর্ণনা আছে যে, তিনি একে রিদ্দাহ তথা ধর্মান্তর সাব্যস্ত করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে তাঁর অনুসারীগণ বলেছেন,
মুসলিমকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি তাওবা করে, তা হলে হত্যা করা হবে না। অন্যথায় হত্যা করা হবে। আর অমুসলিম-যিম্মি যদি নবীজিকে গালি দেওয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করে, তা হলে তার ইসলাম-গ্রহণ হত্যা রহিত করবে কি না, এ ব্যাপারে দুই ধরনের বক্তব্যই রয়েছে।
শাফেঈ মাজহাব
শাফেঈ মাজহাবে নবীজিকে গালিদাতার ব্যাপারে দুটি বক্তব্য রয়েছে: ১. তার বিধান মুরতাদের বিধানের ন্যায়। তাওবা করলে হত্যা রহিত হয়ে যাবে। ২. তার হদ বা নির্ধারিত দণ্ডবিধি হচ্ছে হত্যা। যা কিনা কোনো অবস্থাতেই রহিত হবে না।
আবু বকর সাইদালালি রাহিমাহুল্লাহ তৃতীয় আরেকটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে, সেই গালি বা মন্দকথা যদি মিথ্যা অপবাদ হয়, তা হলে তার হুকুম রিদ্দাহ তথা ধর্মান্তরিতের ন্যায়। ধর্মান্তরের কারণে তাকে হত্যা করা হবে। যদি তাওবা করে, তা হলে হত্যা রহিত হয়ে যাবে। তবে অপবাদের শাস্তিস্বরূপ ৮০টি বেত্রাঘাত করা হবে। আর যদি তা অপবাদ না হয়, বরং স্রেফ গালি হয় তা হলে তাকে তার অবস্থা অনুপাতে শাস্তি দেওয়া হবে।
যারা বলেছেন নবীজিকে গালিদাতার কোনো প্রকারের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ তাদের পক্ষে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিপক্ষের দলিল-প্রমাণগুলো খণ্ডন করে সমুচিত জবাবও দিয়েছেন। (নবীজিকে গালিদাতার কোনো তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না) এই মর্মে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস থেকে এমন সব দলিল-প্রমাণ এনেছেন, যেগুলো খণ্ডন করার সাধ্য কারও নেই। যার কলেবর দেশীয় আটটি খাতা সমপরিমাণ হবে। বিস্তারিত জানতে শাইখুল ইসলামের সেই অমর গ্রন্থটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।