📄 সম্মানিত সাহাবাদের ফরমানের ব্যাখ্যা
(লেখক বলেন,) ঐসব আ-ছা-র তথা সাহাবারে কিয়ামের ফরমান থেকে একথা প্রকাশ পেল যে, কিয়ামতের দিন সমস্ত মুসলমানগণই ছায়ায় থাকবে। কিন্তু এটাই হওয়া উচিত ছিল যে, এ ফযিলত (মর্যাদা) মুত্তাকী ও খোদাভীরুদের সাথে বিশেষিত হবে। আর এ মহত্ত্ব খোদাভীরুদের সাথে খাস (বিশেষিত) হওয়ার ব্যাপারেও আমার একটি হাদিস মিলেছে। যেমন-
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ الله عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : خَلَقَ اللَّهُ عَزَّوَجَلَّ الجِنَّ ثَلَاثَةُ أَصْنَافَ : صِنْفٌ حَيَّاتٌ وَعَقَارِبٌ وَخُشَاشُ الْأَرْضِ ، وَصِنْفٌ كَالرِّيحِ فِي الفُوَاءِ ، وَصِنْفٌ عَلَيْهِمُ الْحِسَابُ وَالْعِقَابِ ، وَخَلَقَ اللَّهُ الإِنْسَ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ ، صِنْفٌ كَالْبَهَائِمِ ، وَصِنْفٌ أَجْسَادُهُمْ أَجْسَادُ بَنِي آدَمَ وَأَرْواحُهُمْ أَرْوَاحُ الشَّيَاطِينِ ، وَصِنْفٌ فِي ظِلَّ اللَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ».
হযরত সায়্যিদুনা আবুদ দারদা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হুসনে আখলাকের পায়কর, মাহবুবে রাব্বে আকবর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা জিনদেরকে তিন প্রকারে সৃষ্টি করেছেন ১. একপ্রকার সাপ-বিচ্ছু, এবং ভূ-পৃষ্ঠের কীট পতঙ্গ, ২. দ্বিতীয় প্রকার শূন্যে বাতাসের মতো উড়ে বিচরণকারী এবং ৩. তৃতীয় প্রকার হলো, যাদের হিসাব ও শাস্তি হবে। আর ওয়াল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লা মানুষদেরকেও তিন শ্রেনী করে সৃষ্টি করেছেন। ১. এক শ্রেণী হলো, জানোয়ার বা চতুস্পদ প্রাণীর মতো, যাদের ব্যাপারে মহামহিম রব ইরশাদ করেছেনঃ "لَهُمْ قُلُوْبٌ لَا يَفْقَهُوْنُ بِهَا "তারা এমন সব হৃদয় ধারণ করে, যেগুলোর মধ্যে বোধশক্তি নেই”।' ২. দ্বিতীয় শ্রেণী হলো, যাদের শরীর আদম সন্তানের মতো; কিন্তু তাদের আত্মা শয়তানের আত্মার অনুরূপ এবং ৩. তৃতীয় শ্রেণী হলো, ঐসব লোক, যারা আল্লাহ তা'আলার রহমতের ছায়ায় থাকবে, যেদিন এটা ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।
(গ্রন্থকার বলেন,) উল্লেখিত হাদিসে পাকের চেয়ে আরো অধিক সুস্পষ্ট বর্ণনা হলো, যা সায়্যিদুনা আবু মুসা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
قَالَ أَبُو مُوسَى الله : الشَّمْسُ فَوْقَ رُؤُوسِ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، فَأَعْمَاهُمْ تُظِلُّهُمْ أَوْ تَضْحِيْهُمْ.
তিনি ইরশাদ করেন, সূর্য (কিয়ামতের দিন) লোকদের মাথার উপর থাকবে এবং তাদের আ'মাল বা কর্মসমূহ তাদের উপর ছায়া দিবে কিংবা তাদের সাথে থাকবে।'
টিকাঃ
*. কিতাবুয যুহুদ: ইবনুল মুবারক, পৃষ্ঠা: ১০০. হাদিস: ৩৪৭
১. ইবনে হিব্বান: আস্-সহীহ باب وصف الجنة وأهلهاখন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ২৫৩, হাদিস: ৭৩৭৬
১. সূরা আ'রাফ, ৭:১৭৯
*. কানযুল উম্মাল, কিতাবু খলকুল আলমে, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা: ৫৬, হাদিস: ১৫১৭৫
📄 ইমাম কুরতুবীর ব্যাখ্যা
ইমাম কুরতুবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি স্বীয় কিতাব 'আত্ তাযকিরা'-তে হযরত সালমান রাদিআল্লাহু আনহুর উক্তি (কোন ঈমানদার নর-নারী সূর্যের উষ্ণতার কিরণ পাবে না) প্রসঙ্গে বলেন, এ বর্ণনা বাহ্যতঃ সকল মু'মিনদের জন্য আম বা ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য; কিন্তু এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হল পূর্ণ ঈমানদার মু'মিন অথবা ঐসব, লোক যারা আরশের ছায়া পেতে প্রচেষ্টা চালায়। যেমনিভাবে হাদিসে পাকে এসেছে, সাত ব্যক্তি আরশের ছায়ায় থাকবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, বান্দা স্বীয় সদকার ছায়ায় থাকবে। এরূপভাবে পুন্যকর্ম সম্পাদনকারী গণ তাদের আমলের ছায়ায় থাকবে। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
📄 লেখকের তাহকীক
(লেখক বলেন) আমি ইচ্ছা করলাম প্রথমোক্ত হাদিস শরীফ, যেগুলোতে আরশের ছায়া প্রাপ্তদের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেগুলোর সাথে ঐসব হাদিস মিলিয়ে দেব যেগুলোতে আরশের ছায়া প্রাপ্তদের বর্ণনা নেই, বরং সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বিদ্যমান রয়েছে। যেমন-
عَنْ ابْنِ عُمَرَ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ثَلَاثَةٌ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ أَرَاهُ قَالَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَبْدٌ أَدَّى حَقَّ اللَّهَ وَحَقَّ مَوَالِيهِ وَرَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ بِهِ رَاضُونَ وَرَجُلٌ يُنَادِي بِالصَّلَوَاتِ الْخُمْسِ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ».
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন ওমর রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, শাহীনশাহে মদীনা, কুরারে কূলব ওয়া সীনা, সাহিবে মুয়াত্তার পছীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তি মিশকের টিলায় থাকবে, তাদেরকে 'الفزع الأكبر' (ফাযা'উল আকবর) তথা সর্বাধিক মহাভীতি শংকিত করবে না। ১. ঐ বান্দা, যে আল্লাহ্ ও তার মনিবের হক বা অধিকার আদায় করে ২. ঐ ব্যক্তি, যে কোন সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেয় এবং তারা তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে ৩. ঐ ব্যক্তি, যে প্রত্যহ দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য আহবান করে।'
টিকাঃ
১. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, পৃষ্ঠা: ৪২৪