📄 শহীদগণের প্রকার ও তাদের মর্যাদা
1 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : الشُّهَدَاءُ ثَلَاثَةٌ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ مُحْتَسِبًا فِي سَبِيْلِ اللهِ لا يُرِيدُ أَنْ تُقَاتِلَ وَلَا يَقْتُلُ يُكْثِرُ سَوَادَ الْمُسْلِمِينَ فَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ غَفَرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ كُلَّهَا وَأُجْبِرَ مِنْ عَذَابِ الْقَبَرِ وَيُؤْمَنُ مِنَ الْفَرْعِ وَيُزَوِّجُ مِنْ الْحُوْرِ الْعِيْنِ وَحُلَّتْ عَلَيْهِ حُلَّةَ الْكَرَامَةِ وَيُوْضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ وَالخُلْدِ ، وَالثَّانِي خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمِالِهِ مُحْتَسِبًا يُرِيدُ أَنْ يَقْتُلَ وَلَا يَقْتُلُ فَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ كَانَتْ رُتْبَتُهُ مَعَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلُ الرَّحْمَنِ بَيْنَ يَدَى اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ، وَالثَّالِثُ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ مُحْتَسِبًا يُرِيدُ أَنْ يَقْتُلَ وَيَقْتُلُ فَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَاهِرًا سَيْفَهُ وَاضِعُهُ عَلَى عَاتِقِهِ وَالنَّاسُ جَاثُوْنَ عَلَى الرَّكْبِ يَقُوْلُوْنَ أَلَا أَفْسَحُوْا لَنَا فَإِنَّا قَدْ بَذَلْنَا دَمَاءَنَا لله تَبَارَكَ وَتَعَالَى، قَالَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ : مِنَ الأَنْبِيَاءِ لَزَحْلٌ لَّهُمْ عَنِ الطَّرِيقِ لَّا يَرَى مِنْ وَاجِبِ حَقَّهِمْ حَتَّى يَأْتُوا مَنَابَرَ مِنْ نُوْرٍ تَحْتَ الْعَرْشِ فَيَجْلِسُونَ عَلَيْهَا يَنْظُرُونُ كَيْفَ يَقْضِي بَيْنَ النَّاسِ..
১. হযরত সায়্যিদুনা আনাস বিন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রসূলে আকরাম, নূরে মুজাস্সাম, শাহীনশাহে বনী আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানপূর্ণ ফরমান: শহীদ তিন প্রকার। ১. ঐ ব্যক্তি, যে স্বীয় প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় একনিষ্ট অন্তরে বের হয়, সে না লড়াইয়ের ইচ্ছা করে, না নিজে শহীদ হতে চায় বরং সে مسلمانوں সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধির আশা রাখে। অতঃপর ঐ ব্যক্তি (স্বাভাবিক মৃত্যুতে) মৃত্যুবরণ করে অথবা শহীদ হয়ে যায়, তাহলে তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তাকে কবরের শাস্তি থেকে নিরাপদে রাখা হবে, সে মহাবিপদে নির্ভয়ে থাকবে, হুরে'ঈন তথা ডাগর চোখ বিশিষ্ট রমনীদের বিবাহ করবে, তাকে মর্যাদার ভূষণে অলংকৃত করা হবে এবং তার মাথায় চিরস্থায়ী সম্মানের মুকুট পরিধান করানো হবে। ২. ঐ ব্যক্তি, যে স্বীয় জান-মাল নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে এবং সংকল্প করে যে, আমি জিহাদ করবো এবং শহীদ হবো না। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যদি মৃত্যু বরণ করে কিংবা শহীদ হয়ে যায়, তাহলে তার মর্যাদা এমন হবে যে, সে দয়াময় আল্লাহর বন্ধু ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের সাথে সত্যের আসনে শক্তিধর অধিপতির সম্মুখে থাকবে। ৩. ঐ ব্যক্তি, যে তার জীবন ও সম্পদ নিয়ে এ প্রত্যয়ে বের হয় যে, (কাফিরদেরকে) হত্যা করবো এবং শহীদ হয়ে যাব। আর যদি সে মৃত্যু বরণ করে কিংবা শহীদ হয়ে যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন সে তরবারী উত্তোলন করে স্কন্ধের উপর রাখা অবস্থায় আগমন করবে। আর (অন্যান্য শহীদ) লোকেরা বাহনের উপর উপবিষ্ট হয়ে বলবে, কি আমাদের জন্যও (আরশের ছায়া) প্রসারিত করা হবে না, আমরা তো আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমাদের রক্ত উৎসর্গ করেছি। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নবীগণ (আরশের) রাস্তা হতে পৃথক স্থানে অবস্থান করবে, যেখান থেকে তারা লোকদের (প্রতিদানের) অধিকার বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করবে। আর এক পর্যায়ে ঐ শহীদগণ আরশের নিম্নবস্থিত মিম্বর সমূহের নিকট আগমন করবে, অতঃপর তারা ঐগুলোর উপর আসীন হয়ে পর্যবেক্ষণ করবে যে, কিভাবে লোকদের বিচারকার্য সম্পন্ন হচ্ছে।'
- عَنْ أَبِيِّ بْنِ كَعَبٍ ، قَالَ : الشُّهَدَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِفِنَاءِ الْعَرْشِ، فِي قُبَابٍ وَرِيَاضِ، بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ تَعَالَى.
২. হযরত সায়্যিদুনা উবাই বিন কা'ব রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, শহীদগণ কিয়ামতের দিন আরশের একপাশে আল্লাহ্ তা'আলা সম্মুখে গম্বুজ ও বাগান সমূহে থাকবেন।'
٣- عِنْ عَبْدِ اللهِ بن عَبَّاسٍ ... سَمِعْتُ نَبِيَّكَ ﷺ يَقُولُ : إِنَّ أَقْرَبَ الخلائِقِ مِنْ عَرْشِ الرَّحْمَنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُؤْمِنُ الَّذِي قُتِلَ مَظْلُومًا رَأْسُهُ عَنْ يَمِينِهِ ، وَقَاتِلُهُ عَنْ شِمَالِهِ ، وَأَوْدَاجُهُ يَشْخَبُ يَقُولُ : رَبِّ سَلْ هَذَا فِيمَ قتَلَنِي ؟ .
৩. হযরত সায়্যিদুনা ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নূরের পায়কর, দোজাঁহাকি তাজওয়ার, সুলতানে বাহরওয়াবার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কিয়ামতের দিন রহমান আয্যা ওয়াজাল্লার আরশের সর্বাধিক নিকটে ঐ মু'মিন থাকবে, যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তার ডান পাশে তার মাথা এবং বামদিকে তার হত্যাকারী থাকবে। আর তখন তার রগসমূহ হতে রক্ত বের হতে থাকবে এবং সে আরয করবে, “ওহে আমাদের রব! তার থেকে জিজ্ঞাসা করুন যে, সে কোন অপরাধে আমাকে হত্যা করেছিল।"
টিকাঃ
১. ১. তাবারানী: আল-মু'জামুল কবির, খন্ড: ১৭, পৃষ্ঠা ১২৬, হাদিস: ৩১১
২. মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল, হাদিসে আব্দুর রহমান বিন কাতাদাহ, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা: ২০৫, হাদিস: ১৭৬৭৩
১. মাজমাউয যাওয়ায়েদ, কিতাবুল জিহাদ, ..... 5 باب ماجاء في الشهادة, পৃষ্ঠা: ৫৩১, হাদিস নং:৯৫১২
১. সিয়ারু আলামিন নুবালা, খন্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ২২২
২. তাবারানী: আল-মু'জামুল কবির, খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ৮০, হাদিস: ১২৫৯৭
📄 কুরআনে পাক শিক্ষা দানের জন্য ক্ষমার সুসংবাদ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُعَلِّمِينَ وَأَطِلْ أَعْمَارَهُمْ وَأَظِلُّهُمْ تَحْتَ ظِلُّكَ فَإِنَّهُمْ يُعَلِّمُونَ كِتَابَكَ الْمُنَزَّلِ.
হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, হুযুর নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো'আ করত: ইরশাদ করলেন, হে আল্লাহ! কুরআনুল করীম শিক্ষা দানকারীদেরকে ক্ষমা করুন, তাদেরকে দীর্ঘায়ু করুন এবং তাদেরকে আপনার আরশের ছায়ায় স্থান দান করুন। নিশ্চয় তারা তোমার প্রেরিত কিতাবের শিক্ষা দিচ্ছে।'
টিকাঃ
১. আল-মওজুয়াত, হাদিসুন ফিদ দোয়া, খন্ড ১, পৃষ্ঠা: ২২১
📄 হাদিসে পাকের দলিল : স্বর্ণের মিম্বর ও রৌপ্যের গম্বুজ
عَنِ ابْنَ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ: إِذَا كَانَ يُوْمَ الْقِيَامَةَ وُضِعَتَ مَنَابِرَ مَنْ ذَهَبٍ عَلَيْهَا قُبَابٌ مِنْ فِضَّةٍ مُفَصَّصَهُ بِالدُّرِّ وَالْيَاقُوْتِ وَالزَّمْرَدِ، جَلَالَهَا مِنَ السُّنْدُسُ وَالاسْتَبْرَقِ، ثُمَّ يُجَاءَ بِالْعُلُمَاءِ فَيَجْلِسُونَ عَلَيْهَا، ثُمَّ يُنَادِي مُنَادِي الرَّحْمَنِ : أَيْنَ مَنْ حَمَلَ إِلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ ﷺ عِلْمًا يُرِيدُ بِهِ وَجْهُ اللهِ . اجْلِسُوا عَلَى هَذِهِ الْمَنَابِرِ فَلَا خُوْفٌ عَلَيْكُمْ ذَلِكَ الْيَوْمِ حَتَّى تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ.
হযরত সায়্যিদুনা ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে মরফু 'সূত্রে বর্ণিত আছে যে, যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে তখন স্বর্ণের মিম্বর স্থাপন করা হবে। যার উপর রৌপ্যের গম্বুজ থাকবে এবং তাতে হীরা, ইয়াকুত ও যুমরদ প্রভৃতি মূল্যবান রত্ন মিশ্রিত থাকবে, আর এর বিছানা হবে মিহি ও সবুজ রেশমী কাপড়ের। অতঃপর ওলামায়ে কিরামদেরকে আহবান করে ঐগুলোর উপর বসানো হবে। সেদিন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে জনৈক আহবানকারী আহবান করবে, কোথায় ঐসব লোক, যারা আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উম্মতে মুহাম্মদীর কাছে ইলম বা জ্ঞানের কথা পৌঁছাতে ছিল, তোমরা এ মিম্বর সমূহে বসো! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই। পরিশেষে জান্নাতে পদার্পন করবে।
ইমাম দারে কুতনীর বর্ণনায় 'নুরের মিম্বর' উল্লেখ রয়েছে।